বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:২৮ পিএম
আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৫০ পিএম
সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, রেহানা পারভীন ও মো. কামাল উদ্দিনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রশাসন সংস্কারের অংশ হিসেবে শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল শুরু হয়েছে। বিভিন্ন অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তিন সচিবকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে দুই মন্ত্রী, এক উপদেষ্টা ও পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) ও সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোমবার এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
তিন সচিব প্রত্যাহার
অনিয়ম ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে প্রত্যাহার হওয়া তিন সচিব হলেন—ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গোপনে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার আদেশ জারির অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এসব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে এবং বিষয়গুলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ে আটকে আছে। রেহানা পারভীন ১৯৯৪ সালে বিসিএসের মাধ্যমে প্রশাসনে যোগ দেন। তিনি পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়েও দীর্ঘ সময় কর্মরত ছিলেন তিনি।
ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষকে সুবিধা দিতে কর্মকর্তাদের নিয়ে গোপন বৈঠক করেছিলেন। এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনে নিয়োগ ও বদলিতে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্নার বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন
নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহের মাথায় প্রশাসনে এই পরিবর্তনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে গত তিন দিনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া নিজেদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। পরবর্তীতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
পিএস ও এপিএস নিয়োগ
মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের দপ্তরে নতুন কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা জেলার ক্যান্টনমেন্ট রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারহান লাবীব জিসান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পিএস হয়েছেন ওএসডি উপসচিব মো. মনিরুজ্জামান এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পিএস হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব (উপসচিব) রবীন্দ্র চাকমা।
এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া, বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীদের জন্য পাঁচজন সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী নবম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা যতদিন দায়িত্ব পালন করবেন, ততদিন এই নিয়োগ কার্যকর থাকবে।
প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, সামনে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসতে পারে। মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতেও রদবদলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এসব নিয়ে প্রশাসনে এখন ব্যাপক আলোচনা চলছে।