শিক্ষকদের কাছে শিক্ষামন্ত্রীর প্রশ্ন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৩১ পিএম
শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার সর্বদা কাজ করবে, তবে বিপরীতে শিক্ষকরা কি ফেরত দেবেন- রবিবার মতবিনিময় সভায় শিক্ষদের কাছে এমন প্রশ্ন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার সর্বদা কাজ করবে, তবে বিপরীতে শিক্ষকরা কি ফেরত দেবেন- শিক্ষকদের কাছে এমনটাই প্রশ্ন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রবিবার দুপুরে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই প্রশ্ন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।
এদিন অন্তত তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিতে সংশ্লিষ্ট এমপিকে চেয়ারম্যান করা, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ, আগের মতো প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগসহ ১৩ দফা দাবি জানিয়েছেন বিএনপিপন্থী শিক্ষক নেতারা।
শিক্ষকদের এই দাবি-দাওয়া প্রসঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী বলেন, “একটি কথা আপনারা বলেননি সেটা হল আপনারা কি করবেন। আমাদেরকে কি দিবেন। বায়েস- ভারসা। ওয়ান হ্যান্ড ওয়াশেজ আদারস। আগে বলেন আমরা দাবি দাওয়া পূরণের জন্য কাজ করে দেব। আপনারা কি করবেন এটা তো একবার বলেননি। আমরা দাবি দেওয়া পূরণের জন্য কাজ করে যাব আপনারা কি করবেন একবার বলেন। আপনারা যা বলবেন আমরা তাই করব”।
তিনি বলেন, “এই দাবি দাওয়া দাবি শুনতে শুনতে অভ্যস্ত। সবকিছু জানা আছে, অজানা কিছুই নেই”।
তবে শিক্ষকদের আর রাজপথে নামতে হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, “ আমাদের প্রিয় নেতা জনাব তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে আর লাল পানি গরম পানি কামানের দাগ পড়বে না শিক্ষকদের উপর এটা আমরা বলেছি এবং আমরা এটা বিশ্বাস করি”।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “যদিও বাজেটসংক্রান্ত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবু শিক্ষকদের অন্যান্য দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। নতুন বাজেটে অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সব দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, তবে সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক”।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অভিযোগগুলো পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা ও সমাধান করা হবে। স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি ও গভর্নিং বডি-সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা চলছে। একজন ব্যক্তিকে একাধিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব না দেওয়ার বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সভায় বিবেচনা করা হবে”।
এনটিআরসি (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “নিয়োগব্যবস্থায় যেসব পরিবর্তন এসেছে, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোথায় সংশোধন দরকার, তা রিভিউ করে দেখা হবে। ‘আমরা দুর্নীতি করি না, করব না, করতে দেব না’-এই অবস্থানে সরকার অনড়। শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে”।
অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টসহ অন্যান্য আর্থিক বিষয় নিয়েও শিগগির বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে শিক্ষা খাত সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা বৈঠকেও শিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে”।