× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সড়কে শৃঙ্খলা আনছে ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা

কবির হোসেন

প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৬ এএম

সড়কে শৃঙ্খলা আনছে ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে চালু হয়েছে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা। গত বছরের আগস্টে নগরের যানজট নিরসনে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ট্রাফিক সিগন্যাল অটোমেশন সিস্টেমের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। এর ফলে ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজটে কিছুটা শৃঙ্খলার ইঙ্গিত মেলে। যার প্রভাব দৃশ্যমান হয়েছে রাজধানীর সড়কগুলোতেও। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রযুক্তিগত সহায়তায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) রাজধানীর ৭টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আধা স্বয়ংক্রিয় (সেমি-অটোমেটিক) ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি চালু হয়েছিল হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর, সোনারগাঁও হোটেল (কারওয়ান বাজার), ফার্মগেট, বিজয় সরণি, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং জাহাঙ্গীর গেটে। পরে এটি বাড়িয়ে ১১টি পয়েন্টে চালু হয়।

জানা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর মাধ্যমে এসব পয়েন্টে সবুজ, হলুদ ও লাল বাতি জ্বালানোর সময় নির্ধারণ হচ্ছে। সিগন্যাল অটোমেশন সিস্টেম সফলতার সঙ্গে রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখায় সম্প্রতি প্রকল্পটি আরও সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তারই ধারাবাহিকতায় এবার রাজধানীর ২২টি মোড়ে বসছে এই ট্রাফিক সিগন্যাল অটোমেশন সিস্টেম।

গত তিন দিন রাজধানীর কয়েকটি ইন্টারসেকশনে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ডিজিটাল ট্রাফিক সংকেত মেনেই চালকরা যানবাহন নিয়ে পয়েন্টগুলো অতিক্রম করছেন। আবার কোথাও কোথাও কোনো চালক নির্ধারিত সংকেত না মানলে তাদেরকে জরিমানার আওতায় আনছেন কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে যানজট নিরসনে ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল পদ্ধতি সামনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সহকারী অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ কাজী সাইফুন নেওয়াজ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ঢাকার সকল ইন্টারসেকশন একই রকম না। গুলশানের ইন্টারসেকশন যেরকম প্রশস্ত খিলগাঁও অথবা পুরান ঢাকার ইন্টারসেকশন কিন্তু সেরকম না। ফলে সবখানেই এখনই এ পদ্ধতি চালু সম্ভব হবে না। বর্তমানে যে পয়েন্টগুলোতে এই ডিজিটাল পদ্ধতি চালু আছে, সেগুলো যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের পরই বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।’

কারওয়ান বাজার সোনারগাঁও ট্রাফিক সিগন্যালে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট আশিকুর রহমান এ প্রকল্প চালু হওয়ার পর অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে জানিয়ে বলেন, ‘নতুন এই ট্রাফিক কার্যক্রম চালুর পর চাপ আগের চেয়ে কমেছে। তবে এখনও অনেক চালক সিগন্যাল মানতে চান না। তখন গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে হাতের ইশারায় চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।’

জানা যায়, ২৪ ঘণ্টাই চালু থাকে এই ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা। নতুন ব্যবস্থাটি পরিচালনার জন্য প্রতিটি মোড়ে স্থাপন করা হয়েছে ছোট কন্ট্রোল বুথ। যেখানে একজন কন্ট্রোলার, ট্রাফিক পুলিশ সদস্য এবং বুয়েটের টেকনিশিয়ান দায়িত্বে রয়েছেন। যানবাহনের চাপ অনুযায়ী এসব সিগন্যাল অটোমেটিক (স্বয়ংক্রিয়) বা ম্যানুয়ালিÑ দুভাবেই পরিচালনা করা যায়। এ ছাড়া প্রতিটি ইন্টারসেকশন শতভাগ সিসিটিভির আওতায়।

সরেজমিন একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ঘুরে দেখা যায়, কোনো চালক সংকেত অমান্য করলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ভেতরের মাইকে সতর্ক করা হচ্ছে। পাশাপাশি বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক ট্রাফিক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন দায়িত্বরত কর্মীরা।

নতুন ব্যবস্থা নিয়ে বিজয় সরণি মোড়ে দায়িত্বরত এক ট্রাফিক সদস্য বলেন, বড় বড় যানবাহন সংকেত মেনে চললেও মোটরসাইকেল, অটো-রিকশাসহ ছোট ছোট যানবাহন অধিকাংশ সময় সংকেত অমান্য করে। বাংলামোটর মোড়ে দায়িত্বরত আরেক ট্রাফিক সদস্য বলেন, ডিজিটাল সংকেত এখনও সবাই সম্পূর্ণ মানছেন না। বাতি জ্বালানো থাকলেও সুযোগ পেলে সিগন্যাল অমান্য করেন অনেকে। যানবাহনের চাপ বেশি হলে, আমাদের ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে অনেক চালক সিগন্যাল অমান্য করেন।

প্রকল্পটির সমন্বয়কারী ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা যে অ্যানালগ সিস্টেমে চলছিলাম সেখানে অনেক রকম বিভ্রান্তি হতো। ডিজিটাল সিগন্যালে কাউন-ডাউন থেকে যাত্রী ও চালকরা জানতে পারছেন কত সময় পর সিগন্যাল পেরোতে পারবেন। এখানে মনস্তাত্ত্বিক সন্তুষ্টি রয়েছে। ফলে মানুষ অভ্যস্ত হচ্ছে।’ সড়ক ব্যবহারকারীরা যদি এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন, তাহলে ভালো একটা পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের আওতায় ২২টি পয়েন্টে ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থা বসছে, যেটি বিমানবন্দর মোড় পর্যন্ত প্রসারিত হবে। ঢাকা শহরে মেজর করিডোর পাঁচটি। যার মধ্যে আমরা একটিতে কাজ করছি। যদি ভালো ফলাফল পাই, তাহলে ধীরে ধীরে বাকি চারটি করিডোরেও এ ডিজিটাল ট্রাফিক পদ্ধতি বসানো যাবে।’

জানা গেছে, পুরো উদ্যোগটি ধাপে ধাপে হাইকোর্ট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ২২টি মোড়জুড়ে সম্প্রসারিত হবে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। এই ব্যয় যৌথভাবে বহন করছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘যেকোনো ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অভ্যস্ত হতে একটু সময় লাগে। নতুন এ পদ্ধতি এতদিন তো ছিল না। আবার সারা ঢাকা শহরেও নেই। স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল পদ্ধতি যদি পুরো ঢাকা শহরে একসঙ্গে করা সম্ভব হতো, তাহলে সবাই বুঝত সিগন্যাল মানতে হবে। যেহেতু পুরো শহরে একসঙ্গে হয়নি, তাই একটু সময় দিতেই হবে।’

২০০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ব্যর্থ ট্রাফিক সিগন্যাল প্রকল্পে ১৫০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে। এসব সিগন্যাল শেষে কেবল অলংকারস্বরূপ খুঁটিতে পরিণত হয়েছেÑ চালকরা নিয়মিত লাল বাতি উপেক্ষা করেছেন, আর ট্রাফিক পুলিশকে আবারও হাতের ইশারায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হয়েছে। এ ছাড়া ২০০১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত অটোমেটিক ট্রাফিক সিস্টেম স্থাপনে তিনবার আলাদা প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। যার মধ্যে ছিল সোলার প্যানেল, রিমোট কন্ট্রোল ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মতো সর্বাধুনিক পদ্ধতি। দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ, অসম্পূর্ণ ট্রায়াল ও নানা অনিয়মের কারণে প্রকল্পগুলো আলোর মুখ দেখেনি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা