প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০১ এএম
আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৪২ পিএম
ছবি: বাসস
মায়ের ভাষা রক্ষায় রক্তপ্লাবনের ইতিহাস দিয়ে গড়া বাঙালির আজ অহংকার ও গর্বের এবং আত্মপরিচয় ও আত্মত্যাগের দিন। আজ মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আজ থেকে ৭৪ বছর আগে ১৯৫২ সালের আজকের দিনে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বর্তমান বাংলাদেশের ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ তখনকার শাসকগোষ্ঠীর ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে। সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হন। তাদের সেই আত্মত্যাগই আজ বিশ্বজুড়ে ভাষাপ্রেম ও অধিকার আদায়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে তিনি বলেছেন, ‘মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আমাদের মাতৃভাষা বাংলাসহ বিশ্বের সকল ভাষাভাষী মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আজকের এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সকল শহিদকে, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা।’
তিনি বলেন, বাংলা ভাষা আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রধান বাহন। মাতৃভাষার জন্য আমাদের ত্যাগ ও ভালোবাসার স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। একুশের চেতনা আজ বিশ্বজুড়ে সকল ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও সুরক্ষার আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
বাণীতে একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাই ছিল একুশের মূল চেতনা। এ চেতনা ধারণ করে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম পার হয়ে দেশে আজ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ভাষাশহিদ এবং ৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন ও ২০২৪-এর স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ এ-যাবৎকালে দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সকল শহিদের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ, মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চাই।’
দিবসটি উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন আলোচনা সভা ও নানা কর্মসূচি। অনুষ্ঠানে-আলোচনায় উঠে আসবে বাঙালি জাতিসত্তা মূলত সুপ্রতিষ্ঠিত হয় একুশের হাত ধরেই। একুশ আমাদের চেতনা। সাহিত্যিক আবুল ফজলের সেই চিরন্তন উক্তি, ‘একুশ মানে মাথা নত না করা।’ একুশ মানেই গণতান্ত্রিক, উদারনৈতিকতা ও প্রগতিভাবাপন্ন রাষ্ট্র এবং সুষম সমাজ গড়ার শপথ। ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতিকে মর্যাদা দেওয়াও একুশের চেতনা।
এদিকে আজ একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। ভাষাশহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় আজিমপুর কবরস্থানে ফাতেহা পাঠ ও কুরআনখানির আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া দেশের সব মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়াও দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সব স্যাটেলাইট চ্যানেল ও গণমাধ্যমে একুশের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হবে।