ঢাবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:২২ এএম
আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৪৫ পিএম
একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার রাত ১২টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে প্রথমে ফুল দিয়ে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি; এরপর শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। শহিদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অপর্ণ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বাজানো হয় অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি।’ শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ভাষাশহিদদের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাতে শরিক হন প্রধানমন্ত্রীসহ শহিদ মিনারে জড়ো হওয়া অসংখ্য মানুষ।
মোনাজাত শেষে মন্ত্রিসভার সদস্য ও নিজের উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিয়ে দলের পক্ষে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। এরপর শ্রদ্ধা জানান বিএনপি নেতারা। পরিবারের সদস্যদের নিয়েও শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান। এরপর শ্রদ্ধা জানান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খাঁন।
এরপর শ্রদ্ধা জানান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার সঙ্গে ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইফ নাহিদ ইসলামসহ জামায়াত জোট থেকে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা।
এরপর শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা। তাদের পরে বেদিতে ওঠেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য কমিশনার।
এর আগে রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান তাকে অভ্যর্থনা জানান। এরপর রাত ১২টা ৪ মিনিটে শহিদ মিনারে এসে পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের নেতৃত্বে অমর একুশে উদযাপন কমিটির সদস্যরা তাকে অভ্যর্থনা জানান।
একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে পুরো কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। অমর একুশকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা শহিদ মিনারের বেদি, সংলগ্ন দেওয়াল ও রাজপথে রঙ-তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলেছেন প্রতিবাদের ভাষা ও আল্পনা। পুরো এলাকা এখন বর্ণিল আল্পনা আর ভাষার প্রতি মমত্ববোধে উদ্ভাসিত।
নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুরো এলাকাকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনার পাশাপাশি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়। সন্ধ্যা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রণীত রুটম্যাপ কার্যকর করা হয়। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।