কবির হোসেন
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৫ এএম
প্রতীকী ছবি
পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরকে ঘিরে চাঁদাবাজদের সক্রিয় হয়ে উঠতে দেখা যায়। এ সময় সারা দেশের ফুটপাত ও বিপণিবিতান বা শপিং মল-কেন্দ্রিক শত শত কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় এলাকাভিত্তিক সক্রিয় হয়ে ওঠে চাঁদাবাজ চক্র। এ সময় সেলামির নামে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে চলে ব্যাপক চাঁদাবাজি। বেপরোয়া এসব চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে। তবে এবার রমজান ও ঈদকে ঘিরে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। চাঁদাবাজদের উদ্দেশে সতর্ক বার্তা দিয়ে যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি ঠেকাতে ব্যাপক অভিযানের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ফুটপাতকে চাঁদামুক্ত রাখতে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে চাঁদাবাজি
ঠেকাতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও প্রত্যকটি থানার ওসিকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও চাঁদাবাজদের
মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তারা জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে।
পাশাপাশি এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপটের কথাই জানালেন রাজধানীর কয়েকজন ব্যবসায়ী।
নিউমার্কেটের ফুটপাত কাপড় ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া জানান, আগে কিছু না কিছু দিয়েছি। এখন
কাউকে টাকা দিতে হয় না। কেউ আমাদের কাছে আসেও না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন
ব্যবসায়ী বলেন, শুনছি নেতারা বলতেছে আর চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না। যদি সত্যি এমনটা
হয় তাহলে আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য ভালো সংবাদ।
ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে ডিএমপির সব
এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি,
অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির তৎপরতা ঠেকাতে ইতোমধ্যে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশ জানায়, সব ধরনের চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি
রাজধানীর বড় বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র, শপিং মলে থাকবে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। এসব এলাকা
চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হচ্ছে।
এদিকে আসন্ন পবিত্র রমজান ও ঈদকে ঘিরে রাজধানীতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও
আর্থিক লেনদেন অনেক বেড়ে যায়। এ সময়ে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী পরিবহনের
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ‘এসকর্ট’ সেবা দেবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপি জানায়, রমজান মাস ও ঈদ সামনে রেখে রাজধানীতে ক্রয়-বিক্রয়, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং
নগদ অর্থ ও মূল্যবান দ্রব্যের লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এই পরিস্থিতিতে
কোনো ব্যক্তি, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বড় অঙ্কের নগদ অর্থ ও মূল্যবান দ্রব্য স্থানান্তরের
ক্ষেত্রে পুলিশের সহায়তা প্রয়োজন মনে করলে ডিএমপির এসকর্ট সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
তবে সেবাপ্রত্যাশী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব যানবাহনের ব্যবস্থা করতে হবে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি)
মুহাম্মদ তালেবুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে ডিএমপি
সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। নিরাপত্তা ইস্যুতে রাজধানীর
বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আমরা সভা করেছি। চাঁদাবাজির বিষয়ে কোনো
অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুততার মধ্যে ব্যবস্থা নেব।
এদিকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে এলাকায় ফিরেই কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার)
আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ চাঁদাবাজদের
বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাতে দেবিদ্বার নিউমার্কেট এলাকার দোকান
মালিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে বাজার ইজারা সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে তিনি জানান, নির্ধারিত
কাঁচাবাজার এলাকার বাইরে চাঁদা তুলতে গেলে জনগণ যদি প্রতিরোধ গড়ে তোলে তাহলে তিনি দায়
নেবেন না। এ ঘটনার দুই মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে হাসনাত আবদুল্লাহকে বলতে শোনা যায়, আপনি (শাহ আলম) ইজারা
তুলবেন বাজার থেকে। বাজারের বাইরে চাঁদা তুলতে আসবেন না। আপনি শুধুমাত্র কাঁচাবাজারের
ইজারা নিয়েছেন। আপনি কাঁচাবাজারের এদিকে যদি আসেন, মানুষ আপনাকে ধরে পেটালে, পুলিশের
হাতে তুলে দিলে, আমাদের কিছুই করার নেই।
এ ছাড়া ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে
করা মাইকিংয়ে বলা হয়, ‘গফরগাঁও বাজারের সকল ব্যবসায়ী ও পৌরবাসীকে জানানো যাচ্ছে যে
কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী বা বেআইনি কর্মকাণ্ড বা কোনো ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করলে
দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে অনুরোধ করা যাচ্ছে। শপথগ্রহণের পর প্রথমবার নিজ
এলাকায় ফিরে স্থানীয় জনতা ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমর রুবেল জানান, ‘এই সীমান্ত জনপদে কোনো গুন্ডামি
বা চাঁদাবাজির ঠাঁই হবে না।’
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড
পিআর) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, রমজান মাসে চাঁদাবাজি
ও অবৈধ আদায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান
ও পরিবহন খাতে বিশেষ নজরদারি, সাদা পোশাকে টিম মোতায়েন এবং দ্রুত অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা
রাখা হয়েছে। চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশসহ অন্যান্য
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যুগোপযোগী উন্নয়নে সঠিক পরিকল্পনা দরকার। পুলিশকে জনগণের
আস্থা অর্জন করতে হবে।