বাসস
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:০৫ পিএম
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:২৩ পিএম
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: বাসস
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সচল ও কার্যকর করাই বর্তমান সরকারের প্রধান কাজ বলে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল ও আস্থাহীন করে ফেলা হয়েছিল। কার্যকর প্রতিষ্ঠান ছাড়া একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠন অসম্ভব। আমাদের লক্ষ্য এসব প্রতিষ্ঠানে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা।
সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী বিভাগের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর একটি উপস্থাপনা পেশ করেন।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “একটি বিধ্বস্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে স্বচ্ছতা ও জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা যেহেতু জনগণের ট্যাক্সে চলি, সেহেতু প্রতিটি পয়সার হিসাব এবং কাজের স্বচ্ছতা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে”।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ।
“ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—এই তিনটি স্তর একে অপরের পরিপূরক। আমরা যদি ভিন্নমত ভুলে একটি ‘টিম’ হিসেবে কাজ করি, তবেই সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব”।
গ্রামীণ অর্থনীতির দুর্দশা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, “গ্রামের মানুষ বর্তমানে অনেক কষ্টে আছে এবং তাদের এই কষ্ট লাঘব করা কেবল আবেগ নয়, রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ জীবনের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে”।
সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “নির্বাচনি ইশতেহার ও ঘোষিত ৩১ দফা কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এটি জনগণের সাথে সরকারের একটি ‘সামাজিক চুক্তি”।
তিনি এই চুক্তি বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও এর অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।