× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

২১ ফেব্রুয়ারিই শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা

হাসনাত শাহীন

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:২৩ পিএম

ফাইল ছবি।

ফাইল ছবি।

দেশের স্বনামখ্যাত ৩০-এর বেশি শীর্ষস্থানীয় সৃজনশীল প্রকাশনাসহ মূলধারার প্রায় ৩৫০ সৃজনশীল প্রকাশকের ঈদের পরে মেলা আয়োজনের দাবি উপেক্ষা করে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলা একাডেমি। কয়েক দফা তারিখ পেছানোর পর অবশেষে ২০ ফেব্রুয়ারি বাদ দিয়ে অমর একুশের দিন অর্থাৎ একুশে ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বইমেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির একাধিক সূত্র।

সিংহভাগ প্রকাশক বাইরে রেখে বইমেলা আয়োজনের বিষয়ে কোনো দায় নিচ্ছে না বাংলা একাডেমি। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য সরকার ও প্রকাশকদের সিদ্ধান্তে মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে; তারা শুধু নির্দেশ পালন করছে। এ বিষয়ে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘প্রকাশকরা তো বেশ কিছুদিন আগে থেকেই (ঈদের পর) করার কথা বলছেন। কিন্তু প্রকাশকদের মতামত নিয়েই তো আমরা তারিখ নির্ধারণ করেছিলাম। এটা সরকার ও প্রকাশকদের যৌথ সিদ্ধান্ত। প্রকাশকদের সঙ্গে এবং সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ফেব্রুয়ারিতেই মেলা করার ব্যাপারে আগ্রহী ছিল। এখন যে নতুন সরকার আসতে যাচ্ছে তাদেরও ফেব্রুয়ারিতেই শুরু করার ইচ্ছা। বাংলা একাডেমি শুধু নির্দেশনা পালন করবে। সরকার যেভাবে বলবে সেভাবেই করবে। সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। মেলা অনেক বড় ব্যাপারÑ রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় বিষয়। তবে আমরা এখনও অনুরোধ করব, বড় প্রকাশকরা যেন মেলায় আসেন। তারা না এলে মেলার সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন হবে।’

অন্যদিকে ঈদের পর বইমেলা করার দাবিতে গঠিত সৃজনশীল প্রকাশকদের অস্থায়ী সংগঠন ‘প্রকাশক ঐক্য’ বলছেÑ রোজা ও ঈদ বাজারের কারণে প্রকাশকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বিনিয়োগকৃত টাকাও তুলতে পারবে না, ফলে অনেক প্রকাশককে পথে বসতে হবেÑ এ ধরনের বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে অমর একুশে বইমেলাকে ঈদের পর আয়োজনের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের কাছে লিখিত আবেদন জানান, ৩২১ জন প্রকাশককে নিয়ে গঠিত ‘প্রকাশক ঐক্য’। বাংলা একাডেমির এমন সিদ্ধান্তকে প্রকাশনা শিল্পের জন্য অশনিসংকেত বলে জানায় ‘প্রকাশক ঐক্য’। মূলধারার সৃজনশীল প্রকাশকরা অংশ নিচ্ছে না বলে এই মেলা পাঠকহীন, প্রশ্নবিদ্ধ ও নিয়মরক্ষার মেলায় পরিণত হবে বলেও জানান তারা। প্রকাশনা শিল্প রক্ষা করতে ঈদের পরে মেলা আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেও খোলা চিঠি দিয়েছে প্রকাশক ঐক্য। ঈদের আগে বইমেলা হলে তারা অংশ নেবে না।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকাশক বলেন, ‘ঈদের আগে বইমেলা হলে অংশ নিতে পারব না। প্রকাশক ঐক্যের সঙ্গে সাড়ে তিনশ প্রকাশক রয়েছেন। বড় বড় প্রকাশনী রয়েছে ঐক্যের সঙ্গে।’

দেশের খ্যাতনামা প্রকাশনা ‘অন্য প্রকাশ’-এর প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বলেন, রমজানে মেলা করা মানে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা। আমরা লগ্নিকৃত টাকাও তুলতে পারব না। এবার একটি ঐতিহাসিক ও উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যার কারণে নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। আমরা এর আগে দাবি জানিয়েছিলাম ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা আয়োজনের জন্য। নির্বাচনের দোহাই দিয়ে বাংলা একাডেমি আমাদের আবেদনে সাড়া দেয়নি। নির্বাচনের জন্য ৩-৪ দিন মেলা বন্ধ রাখা যেত। তাহলে প্রকাশকরা এই ক্ষতির সম্মুখীন হতো না। সরকার মাত্র এলো। এখনই তাদের কাছে কোনো দাবি তুলে দেওয়ার ব্যাপারে আমরা রাজি ছিলাম না। যে কারণে প্রকাশনা শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে খোলা চিঠি দিতে বাধ্য হয়েছি।

অনন্যা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মনিরুল হক বলেন, প্রকাশনা শিল্প ধ্বংস করতে বাংলা একাডেমি গায়ের জোরে এই মেলার আয়োজন করতে যাচ্ছে। দেশের সিংহভাগ সৃজনশীল প্রকাশকের দাবি উপেক্ষা করে এই মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্তে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জামায়াত (জামায়াতে ইসলামী) ঘরানার গুটি কয়েক প্রকাশক নিয়ে এবারের মেলা একুশের মেলার পরিবর্তে একটি ইসলামী বইমেলা আয়োজন করতে যাচ্ছে বলেও জানান অনন্যা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মনিরুল হক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলা একাডেমির সচিব ও মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. সেলিম রেজা বলেন, বাংলা একাডেমি কেন ইসলামী বইমেলার আয়োজন করতে যাবে! ইসলামী বইমেলা বলুক, পাকিস্তানি বইমেলা বলুক, আর ইন্ডিয়ান বইমেলা বলুক, সেটা তাদের বিষয়। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। তিনি বলেন, বইমেলার যে নীতিমালা আছে; সেই নীতিমালার আলোকে আমরা স্টল বরাদ্দ দিয়েছি। ইসলামী প্রকাশনা সংস্থা দেখে স্টল বরাদ্দ দিয়েছিÑ এটাও ঠিক না।

তারেক রহমানের কাছে ‘প্রকাশক ঐক্য’র খোলা চিঠি দেওয়াতে মেলার তারিখ পরিবর্তন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলা একাডেমির সচিব ড. সেলিম রেজা বলেন, সরকার চাইলে সব সম্ভব। আর প্রকাশকদের স্টল ভাড়া মওকুফের দাবি ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। এখন যদি তারা বইমেলায় অংশ নেয়, তাহলে স্টল ভাড়া আরও কমতে পারে হয়তো।

এদিকে বাংলা একাডেমির একাধিক সূত্র জানিয়েছে ২০ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২১ তারিখ মাথায় রেখে এবারের ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ আয়োজনের কাজ চলছে। আন-অফিসিয়ালি জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একুশে ফেব্রুয়ারি বইমেলার উদ্বোধন করবেন। আজ বুধবার অফিসিয়ালি সিদ্ধান্ত হতে পারে।

বইমেলার আয়োজনের কাজের অগ্রগতি প্রসঙ্গ আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছেÑ ইতোমধ্যে ৯০ শতাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন। প্রায় ৪০০ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান স্টলের ভাড়া পরিশোধ করেছে, আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। ইতোমধ্যে ৫১৫ ইউনিট স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে স্টল বরাদ্দের প্রকাশিত তালিকায় ২৯৯টি প্রকাশনীর নাম রয়েছে; এর মধ্যে ১৫০-এর বেশি বাপুসের সদস্য নন এবং তারা অপরিচিত প্রকাশনা সংস্থা। আর ৭০-এর বেশি প্রকাশক গত বইমেলায় অংশ নেননি এবং কেউ কেউ আগে কখনও বইমেলায় অংশ নেয়নি। এ ছাড়া গতকাল মঙ্গলবার বইমেলার দুই প্রাঙ্গণÑ বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, স্টল নির্মাণের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কাজ হয়েছে। নির্মাণ শ্রমিকরা বলছেন, কাজ শেষ হতে আরও ৪ থেকে ৫ দিন লাগবে; তার মানে ২১ তারিখের পরেও কাজ করা লাগবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা