× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আসতে পারে সরকারের ১০০ দিনের রোডম্যাপ

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:২৪ এএম

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল থেকে

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল থেকে

নতুন সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকার নির্ধারণের প্রাথমিক প্লাটফর্ম নতুন মন্ত্রিসভা। নবগঠিত এই মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে আজ বুধবার বেলা ৩টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের নবনির্মিত ১ নম্বর ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে মতবিনিময় সভা। বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় এ সভা থেকে সরকারের প্রথম ১০০ দিনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হতে পারে।

সভায় দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়টি অগ্রাধিকার পেতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে বাজার তদারকি বাড়ানোর এবং রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ চেইন স্থিতিশীল রাখার পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি দমন এবং সেবা খাতে ডিজিটাল রূপান্তর নিয়েও মন্ত্রীরা আলোচনা করতে পারেন। একটি সমন্বিত রোডম্যাপ প্রণয়নের মধ্য দিয়ে প্রশাসনিক সংস্কার, ই-গভর্ন্যান্স সম্প্রসারণ এবং নাগরিকসেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হতে পারে। 

প্রশাসন বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সরকারের জন্য প্রথম এই সভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা এতে উপস্থিত থাকবেন এবং আলোচনায় অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে সচিবালয়ে আজ কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকবে।

প্রশাসন পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নীতিনির্ধারণের মধ্য দিয়ে আমলাতন্ত্রে গতি ও শৃঙ্খলা আনতে প্রথম এ সভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন প্রধানমন্ত্রী এ সভায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সময়ানুবর্তিতা, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতির ওপর জোর দিতে পারেন। ১০০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার প্রকল্প চিহ্নিতকরণ এবং ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর বিষয়ে নির্দেশনাও দিতে পারেন। 

সমন্বয় ও জবাবদিহিতায় নতুন কৌশল

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী তাই মন্ত্রীদের নিয়মিত সমন্বয় সভা, অগ্রগতি প্রতিবেদন এবং নির্দিষ্ট সূচকভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থার ওপর জোর দিতে পারেন। নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, যদি শুরুতেই ফলাফলভিত্তিক কাজের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা যায়, তাহলে আমলাতন্ত্র পুরো মেয়াদেই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি রোধে কঠোর নজরদারি, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করারও সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক আমলা ড. আব্দুস সবুর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “এই মতবিনিময় সভা শুধু প্রশাসনিক নির্দেশনাই নয়, রাজনৈতিক বার্তাও তুলে ধরতে পারে। নতুন সরকার জনমুখী কর্মসূচি, সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী সম্প্রসারণ এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করতে পারে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পরিবহন খাতে সেবার মান উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রণোদনা বাড়ানোর বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পেতে পারে। কেননা জন-আস্থা অর্জনে দ্রুত দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”

তিনি বলেন, “যদিও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া তুলনামূলক সহজ, কিন্তু বাস্তবায়ন পর্যায়ে নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। প্রশাসনিক জটিলতা, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এ সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।”

১০০ দিনের রোডম্যাপের নির্দেশনা আসতে পারে

নবগঠিত মন্ত্রিসভার এই প্রথম মতবিনিময় সভা থেকে একটি সংক্ষিপ্তমেয়াদি রোডম্যাপ ঘোষণার প্রত্যাশা করছেন পর্যবেক্ষকরা। তারা মনে করছেন, বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা, প্রশাসনিক সংস্কারের সূচনা, দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও জনসেবায় ডিজিটাল উদ্যোগ সম্প্রসারণ ইত্যাদি বিষয়ে পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য সুস্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা দরকার।

তাদের মতে, নতুন সরকারের প্রথমদিকের পদক্ষেপই জনমনে প্রত্যাশা ও আস্থার ভিত্তি গড়ে তোলে। বুধবারের মতবিনিময় সভা তাই কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; এর ফলে সরকারের প্রাথমিক দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি সরকারের কাজের ধরন, গতি ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের একটি শুভ সূচনা ঘটবে।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সুস্পষ্ট নীতিগত দিকনির্দেশনা, সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা এবং জবাবদিহিতার কাঠামো উঠে এলে তা প্রশাসনে গতি সঞ্চার করতে পারে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়েও সাড়া জাগাতে পারে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা