মামুন রশীদ
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:১১ এএম
আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩৫ এএম
প্রতীকি ছবি
প্রায় দুই যুগ পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে এর আগেও চারবার সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনাকারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অন্যদিকে গত ৯ জানুয়ারি দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার নিতে চলেছেন তারেক রহমান। স্বাভাবিকভাবেই নতুন সরকারের সামনে এখন অনেক চ্যালেঞ্জÑ যেগুলোর মধ্যে ভঙ্গুর অর্থনীতি ও প্রায় স্থবির পররাষ্ট্রনীতি সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। তবে নতুন সরকারের মধ্যপন্থায় কূটনৈতিক সম্পর্কের স্থবিরতা কেটে যাবেÑ এমন আশা ব্যক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রীয় সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। এই নীতির আলোকে চলার পথে নতুন সরকারের সামনে প্রধান পররাষ্ট্রীয় চ্যালেঞ্জ হবে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে ক্রিয়াশীল বিভিন্ন বড় পরাশক্তিগুলোর মধ্যে অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখা। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আঞ্চলিক ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটার ফলে যে পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে, তার পুনর্মূল্যায়ন করে যৌক্তিক সৌহার্দ্যমূলক উন্নয়ন সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করা।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত দেড় বছরে পররাষ্ট্রনীতিতে এক ধরনের স্থবিরতা এবং বিশেষত ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে বড় ধাক্কা এসেছিল। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি এবং অনেক দেশে বাংলাদেশিদের ভিসা প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়াও বড় শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে কূটনীতিবিদরা মনে করছেন, এই সমস্যাগুলো নির্বাচিত সরকারের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। একই সঙ্গে তারা মনে করছেন, মধ্যপন্থী দল হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিএনপির যে পরিচিতি, তা নতুন সরকারের কাজ সহজ করে দেবে। বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার অতীত অভিজ্ঞতাও দলটিকে এগিয়ে রাখবে উল্লেখ করে বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মহলে দলটির যোগাযোগ এবং নির্বাচনে আগে-পরে তাদের কূটনৈতিক তৎপরতাও পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে সেজন্য শুধু জনগণের ভোটের পাল্লাতেই নয়, বরং একটি কার্যকর সরকার গঠনের মাধ্যমে দেশের ভেতরে স্থিতিশীলতাও অর্জন করতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন টাইমের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান জানান, তার দল বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বোয়িং কেনা, জ্বালানি প্রকল্প ও মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী বিএনপি। জাতীয় নির্বাচনের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, সার্ককে কার্যকর করে তুলতে হবে। এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি ইতোমধ্যেই পররাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্যমূলক, কার্যকর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মতো প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ : এম হুমায়ুন কবির
এ বিষয়ে কূটনীতি-রাজনীতি বিশ্লেষক ও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এই সরকারকে অভ্যন্তরীণভাবে এমনভাবে আস্থা অর্জন করতে হবে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইতিবাচক ভাবমূর্তি বা ‘ইম্প্রেশন’ তৈরির জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘গত ১৮ মাস ধরে চলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধ করে সরকার কতটা কার্যকরভাবে তা রক্ষা করতে পারছে, এটা অবশ্যই বাইরের বিশ্ব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।’
জুলাই অভ্যুত্থানের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে ধাক্কা লাগে। শেখ হাসিনার ভারতে অব্স্থান দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটায় এবং উভয় পক্ষেই অবিশ্বাস জোরালো হয়। এর বিরূপ প্রভাব পরে উভয় দেশের ভিসা প্রক্রিয়াতেও। এর সঙ্গে যুক্ত হয় সীমান্ত হত্যা, পানি বিরোধ, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার মতো পুরনো অভিযোগ। এরকম প্রেক্ষাপটে উভয় দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিষয়ে হুমায়ূন কবির বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই সম্পর্কের দিকে নজর রাখছে। কারণ তারা বিষয়টিকে আঞ্চলিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পানি সমস্যা, সীমান্ত সমস্যা এবং আগের সরকারের আমলে হওয়া চুক্তিগুলো রিভিউ করা বা পর্যালোচনা করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সমন্বয় করে এগোতে হবে।’ সেই সঙ্গে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত সাম্প্রতিক চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু অভ্যন্তরীণ কাজ সম্পন্ন করার বিষয়েও তাগিদ দেন। চীনের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রে অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও মাথায় রেখে সতর্কভাবে এগোনোর পরামর্শ দিয়ে এই কূটনীতিবিদ বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে, এই বিষয়গুলোই আগামী সরকারকে প্রধানত মোকাবিলা করতে হবে।’
‘নিউ স্টার্ট’ খুব কষ্টসাধ্য হবে না : মুন্সী ফয়েজ আহমেদ
নতুন সরকার ও তাদের পররাষ্ট্রনীতির সুবিধা-অসুবিধা প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি মধ্যপন্থী দল (কখনও মধ্য-ডান বা কখনও মধ্য-বাম), যা তাদের জন্য সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করা সহজ করে তুলবে।’ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পররাষ্ট্রনীতিতে এক ধরনের স্থবিরতা ছিল এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা এসেছিল উল্লেখ করে এই কূটনীতিবিদ বলেন, ‘যেহেতু এই সরকারের সঙ্গে অন্যান্য দেশের আগে থেকেই যোগাযোগ ও জানাশোনা আছে, তাই একটি ‘নতুন শুরু’ বা ‘নিউ স্টার্ট’ খুব বেশি কষ্টসাধ্য হবে না বলেই মনে হয়।’
তবে কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক নয়, বরং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সবার সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে মুন্সি ফয়েজ আহমদ বলেন, ‘একজনের সঙ্গে সম্পর্ক যেন অন্য কারও সাথে দ্বন্দ্ব বা অসংবেদনশীলতা তৈরি না করে, সেই ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। আমাদের উন্নয়ন সহযোগীদেরও এটি বোঝাতে হবে যে, তাদের কেবল নিজস্ব স্বার্থ দেখলে হবে না, বরং বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের দিকেও ইতিবাচকভাবে তাকাতে হবে।’
এই কূটনীতিবিদ মনে করেন, ‘পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে একটি ভালো অবস্থানে ফিরিয়ে আনা।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে থেকেই ভারতের মোদি সরকারের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ হয়েছে এবং খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করও বাংলাদেশে এসেছিলেন। এতে করে মনে হয়, সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, সেই মেঘ কাটতে শুরু করেছে।’ তবে প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সঠিক মাত্রা বজায় রাখার (অর্থাৎ খুব বেশি কাছে চলে যাওয়া বা খুব বেশি দূরত্ব তৈরি না করা) প্রতি গুরুত্বারোপ করে মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মাধ্যমে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।’
এ ক্ষেত্রে শুধু ভারতের ক্ষেত্রেই নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টের অনির্ভরযোগ্য আচরণের কারণে তাদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরতে হবে। হুট করে কোনো বড় প্রতিশ্রুতি না দিয়ে, আগের সরকারের আমলে শুরু হওয়া ডায়লগগুলোর ভিত্তিতে নিচের স্তর থেকে ধীরে ধীরে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।’
এ ছাড়া অন্যান্য দেশের সঙ্গে, বিশেষত চীন, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান সহযোগিতা চালু রাখা এবং নতুন নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করে এই কূটনীতিক বলেন, ‘ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বড় চ্যালেঞ্জগুলো সামলাতে পারলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে।’
প্রতিবেশীকে উপেক্ষা করার উপায় নেই : ফরিদুল আলম
এদিকে প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় মেয়াদি অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনের পর একটি নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা এবং এই নতুন সরকারকে ঘিরে শুধু দেশের সাধারণ মানুষই নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ও আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে উল্লেখ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ফরিদুল আলম বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে তারেক রহমান জানিয়েছেন, তিনি মূলত জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করবেন।’ তারেক রহমানের এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তবে এই পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’
নতুন সরকারের সামনে সম্ভাব্য অন্যান্যা চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে ফরিদুল আলম বলেন, ‘পূর্ববর্তী সরকার ভারতপন্থী ছিল এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারত-বিরোধী ও পাকিস্তানপন্থী এক ধরনের নীতি দেখা গিয়েছিল। তবে নির্বাচিত সরকারকে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতকে অবশ্যই আস্থায় রাখতে হবে, কারণ ভারতকে বাস্তবিকভাবে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত করাও প্রয়োজন, কারণ উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে তাদের সঙ্গে আমাদের অনেক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় রয়েছে। এশিয়ার উদীয়মান শক্তি হিসেবে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন নতুন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে।’
সার্ক কার্যকর করে তুলতে হবে : আব্দুল্লাহ হেল কাফি
এদিকে কূটনীতি-বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক, ড. আব্দুল্লাহ হেল কাফি মনে করেন, ‘নতুন যে গঠিত সরকার হচ্ছে, তাদের অভিজ্ঞতা আছে। কারণ দলটি আগেও ক্ষমতায় ছিল। ফলে গত দেড় বছরে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে যে ঘাটতি, আমাদের পররাষ্ট্রনীতির যে মূল সুরÑ সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়Ñ সেখানে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল সে অবস্থার অবসান ঘটবে।’ তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষত, ভারতের সঙ্গে বিএনপির সব সময়ই একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গেলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্কেরও উন্নয়ন ঘটেব।’
নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান সার্ককে কার্যকর করার কথা বলেছেনÑ এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সার্ক কার্যকর হলে শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই নয়, আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও প্রসারিত হবে, যা বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের প্রতিটি দেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। এর ফলে কারও সঙ্গেই সম্পর্ক উত্তপ্ত না হয়ে বরং একটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হবে, যা এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
বিএনপি আয়োজিত জাতীয় নির্বাচনোত্তর প্রেস ব্রিফিংয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষাই হবে তাদের সরকারের পররাষ্ট্রনীতি।’ বিএনপি যদি বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে পররাষ্ট্রনীতি ঠিক রাখার কৌশল ধরে রাখতে পারে তাহলে দেশের ভেতরেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে মনে করেন তিনি।