মজুমদার ইমরান, ঢাকা ও হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:১২ এএম
আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:১২ এএম
সংসদ ভবন। ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পর নতুন সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা কেমন হবে, তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। সামনে আসছে অনেকেরই নাম। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, প্রবীণ অভিজ্ঞ ও তরুণ প্রতিশ্রুতিশীল নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত হতে চলেছে নতুন মন্ত্রিসভা। তা ছাড়া মন্ত্রিসভায় একক কোনো এলাকার পাল্লা ভারী করার বদলে আঞ্চলিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাও চলছে। ভাবী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তা নিয়ে জল্পনা চলছে বিভিন্ন মহলে।
বিএনপির নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা কেমন হবে জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘কেমন মন্ত্রিসভা হতে যাচ্ছে, তা দেখার জন্য দেশবাসীকে আর অল্প কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।’ তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশ করেছে। এখন সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ এবং সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মঈন খানদের মতো প্রাজ্ঞ নেতারা মন্ত্রিসভায় থাকবেন নাকি তাদের কেউ বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা হবেন, তা নিয়েও চলছে জোর আলোচনা। দলের সম্ভাব্য নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনকে বিবেচনা করা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে।
২০০১-০৬ মেয়াদে সরকারে থাকা অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকতউল্লাহ বুলু, আ ন ম এহসানুল হক মিলন থাকতে পারেন এবারের মন্ত্রিসভায়। তরুণদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ইশরাক হোসেন, ড. রেজা কিবরিয়া ও আজিজুল বারী হেলাল। এছাড়া জোটসঙ্গীদের মধ্য থেকে ববি হাজ্জাজ, আন্দালিব রহমান পার্থ, নুরুল হক নূরের নামও জানাচ্ছে বিভিন্ন সূত্র। নতুন সরকারের সঙ্গে কোনো-না কোনোভাবে থাকতে পারেন বিএনপির এবারের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী। নতুন ক্যাবিনেটের সম্ভাব্য টেকনোক্র্যাট সদস্য হিসেবে সামনে আসছে মাহদী আমিন ও হুমায়ুন কবিরের নাম। পরবর্তী সরকারের স্পিকার হিসেবে শোনা যাচ্ছে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নাম।
চট্টগ্রাম থেকে আলোচনায় যারা
এদিকে চট্টগ্রাম থেকে মন্ত্রণালয়ে কারা থাকছেন, কাকে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারেÑ সেসব নিয়েও চলছে আলোচনা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পাশাপাশি এবার নবীন কয়েকজনের নামও শোনা যাচ্ছে; যারা মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন। এক্ষেত্রে দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি কক্সবাজার-১ আসন থেকে এবার নির্বাচিত হয়েছেন।
বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, এবারও চট্টগ্রামের ৪ থেকে ৫ জন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। তারা বলছেন, প্রতিটি সরকারের আমলেই মন্ত্রিসভায় বিশেষ গুরুত্ব পায় চট্টগ্রাম। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।
মন্ত্রিপরিষদে গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে নির্বাচিত আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়াও শোনা যাচ্ছে হাটহাজারী থেকে নির্বাচিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ আরও কয়েকজনের নাম। তরুণ নেতৃত্ব থেকে বিশেষ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রাঙ্গুনিয়া থেকে নির্বাচিত হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-১০ থেকে নির্বাচিত সাঈদ আল নোমানের নাম রয়েছে আলোচনায়। বিগত সময়ে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসন থেকে যারা জয়ী হয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই সরকারের মন্ত্রিপরিষদে স্থান পেয়েছেন। এবার এ আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির আবু সুফিয়ান। সেই হিসেবে তিনিও আছেন আলোচনায়।
নির্বাচিতদের বাইরে আলোচনায় রয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম আকবর খোন্দকার। চট্টগ্রাম-৬ আসনে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার পরও প্রত্যাহার করে নেয় বিএনপি। সেই হিসেবে অনেকে বলছেন, গোলাম আকবর খোন্দকারকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় রাখতে পারেন তারেক রহমান।