সংসদ ভবনে এমপি ও মন্ত্রীদের শপথ
আসাদুজ্জামান সম্রাট
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:২০ এএম
জাতীয় সংসদ ভবন। ছবি: বাসস
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে শপথ কক্ষে সকালে সংসদ সদস্যদের এবং একই দিনে বিকালে দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। এই প্রথম কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর এত বিলম্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সংসদ সদস্যদের শপথ ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ। এই প্রথম চিরাচরিত প্রথা ভেঙে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়।
জাতীয় সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর জন্য সংবিধানে নির্ধারিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতির কারণেই এত বিলম্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ শপথ অনুষ্ঠান। সংবিধানে উল্লিখিত অন্য বিকল্প হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন। আজ রবিবার শপথ পড়ানোর জন্য রাষ্ট্রপতি কাউকে ‘মনোনীত’ করলে শপথ অনুষ্ঠান এক দিন আগে অর্থাৎ আগামীকাল সোমবারও অনুষ্ঠিত হতে পারে।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর উপযুক্ত ব্যক্তি হলেন স্পিকার অথবা ডেপুটি স্পিকার। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু হত্যা মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাদের অপারগতার প্রথম বিকল্প হিসেবে ১৪৮ অনুচ্ছেদের ২-এর ‘ক’ উপ-দফা অনুযায়ী, ‘স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অসমর্থ হওয়ার তিন দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাবেন’ বলে উল্লেখ আছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এ ক্ষেত্রে বিলম্ব না করার সিদ্ধান্ত থাকলেও শপথ নিয়ে যাতে বিতর্ক না হয় সেজন্য বিলম্ব করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ১৩ জানুয়ারি শনিবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারবেন।
এতদিন নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ হতো বঙ্গভবনের দরবার হলে। এবার সেই প্রথা ভেঙে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র।
এদিকে সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান-পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে জাতীয় সংসদ ভবনকে। জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, সংসদ সচিব কানিজ মওলা সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। গতকাল শনিবার সরকারি ছুটির দিনেও তিনি সংসদ সচিবালয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিস করেছেন। নির্বাচন কমিশন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট বিশেষ দূত মারফত সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং সংসদ সচিবালয় তা অফিসিয়ালি গ্রহণ করেছে। সংসদ সচিব কানিজ মওলা জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবারই অনুষ্ঠিত হবে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান।
সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত গণপূর্ত ইএম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষ থেকে শুরু করে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সভাকক্ষগুলো প্রস্তুত করে সেগুলো তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। যাতে সেখানে কোনো ধুলাবালি না পড়ে। তারপরেও শপথের দিন আরও একবার তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হবে।
জাতীয় সংসদ ভবনের তৃতীয় তলায় সংসদ সদস্যদের জন্য কয়েকটি বুথ তৈরির কাজ চলছে। সেখানে সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের পর ছবি তুলবেন এবং নির্বাচনী এলাকা অনুযায়ী সচিবের কক্ষে রাখা সংসদ সদস্য বইয়ে স্বাক্ষর করবেন। এখান থেকে প্রতি সংসদ সদস্যকে বিদ্যমান সংবিধানের একটি কপি ও জাতীয় সংসদ পরিচালনার ‘কার্যপ্রণালি বিধি’ দেওয়া হবে। কার্যপ্রণালি বিধিতে জাতীয় সংসদ পরিচালনা সম্পর্কিত বিধিবিধান এবং সংসদ সদস্যদের অধিকার, আচরণ ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ থাকে।
মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি : নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পড়াবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদের বিদায়ী সচিব শেখ আব্দুর রশিদ। শনিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। নতুন মন্ত্রিসভার শপথের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রস্তুতি আছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের জন্য কমবেশি এক হাজার অতিথিকে দাওয়াত দেওয়া হবে। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হতে পারে। আইন অনুযায়ী আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ শেষ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন সরকার গঠনের কথা রয়েছে। এ লক্ষ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শপথ : ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শপথ পড়ানো হবে। প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচিতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে শপথ পড়ানো হবে। এ নিয়ে গতকাল (শুক্রবার) রাতেও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস কাজ করেছেন। সংসদ বিষয়ক অন্যান্য ব্যাপারে আসিফ নজরুল কাজ করছেন। তবে কে শপথ পড়াবেন তা পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে।