দীপক দেব
প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:০৯ এএম
আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:২৩ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র নিরাপদ রাখতে ঢাকা জেলার শাত্তা ইউনিয়ন অগ্রপথিক তরুন সংঘ মাঠে আনসারদের মাঝে শটগান সহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরন করা হয়। ছবি: আলী হোসেন মিন্টু
বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ। ভোট ও গণভোটকে ঘিরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ; তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার কারণে নির্বাচনকে ঘিরে একধরনের চাপা উৎকণ্ঠাও রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিশেষ এক পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার স্পষ্ট আভাস ফুটে উঠেছে। গত ১৭ বছরে অনুষ্ঠিত তিনটি একতরফা নির্বাচনের ধারাবাহিকতা থেকে একেবারেই ভিন্ন প্রেক্ষাপটের এ নির্বাচনের গতিপথ নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করতে চলেছে দেশের তরুণ সম্প্রদায় ও নারী সমাজ।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভোটের মাঠে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের মধ্যে; তবে আসনপ্রাপ্তির দিক থেকে কারা এগিয়ে থাকবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। গত দুদিন ধরে ব্যাপক মানুষ রাজধানী ছেড়েছেন নিজেদের এলাকায় ভোট উৎসবে অংশগ্রহণ করার উদ্দেশ্যে। শেরপুরের ঘটনা ছাড়া এবারের নির্বাচনকে ঘিরে এখন পর্যন্ত বড় কোনো সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। তবে গতকাল সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন স্থানে টাকা ছড়ানোর ঘটনায় উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। তফসিল ঘোষণার পর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদীর ওপর প্রাণঘাতী হামলা ও নির্বাচনকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের অপপ্রচারের কারণে ভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে একধরনের উৎকণ্ঠা রয়েছে।
অন্যদিকে সরকার, ইসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা। ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দিতে যেতে বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দীর্ঘ ১৮ মাস পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। এই নির্বাচনকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে তরুণ সমাজের মধ্যে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত ১৫ বছরে তরুণদের একটা বড় একটা অংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সে কারণেই এই ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। ভোটের কোনো কোনো প্রচারাভিযানে নারীদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অনেকের মতে, ব্যালটের মাধ্যমে নারী সমাজ এর জবাব দেবে। তাই ভোটকেন্দ্রে আজ তাদের উপস্থিতিও ঘটবে চোখে পড়ার মতো।
প্রসঙ্গত, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন ঘটার পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর একপর্যায়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা জানান সিইসি এএমএম নাসির উদ্দীন। জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট হওয়ার কারণে এবার ভোট গ্রহণের সময় ১ ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। ভোটগ্রহণ হবে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে টানা বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
প্রধান উপদেষ্টা ও সিইসির আহ্বান : গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ নিজ ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করতে দেশের সকল শ্রেণি ও পেশার ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে দেশবাসীর প্রতি এই আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। অন্যদিকে গতকাল জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ভোটদান শুধু নাগরিক অধিকারই নয়, বরং দায়িত্ব। দেশবাসী সচেতনভাবে এই দায়িত্ব পালন করবেন। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি আহ্বানÑ শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার্থে সকলে দায়িত্বশীল ও যত্নবান হবেন। তিনি ভোটারদের প্রতি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বানও জানান।
ভোট নিয়ে আগ্রহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের : এবারের নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহ অনেক বেশি। গত তিনটি নির্বাচনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি পর্যবেক্ষক উপস্থিত হয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে। ভোট ও গণভোট পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে এসেছেন ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক। গতকাল বুধবার প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ৮০ জন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, ২৪০ জন বিভিন্ন দেশ থেকে আগত এবং ৫১ জন বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের এই সংখ্যা ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতিসংঘের আহ্বান : সংসদ নির্বাচনে নারীদের নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থবহ অংশগ্রহণ সবার মৌলিক অধিকার। নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে। নারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বৈষম্য বা সহিংসতামূলক ঘটনা যাতে না ঘটে এবং ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সবাই যেন দায়িত্বশীল থাকে, সে বিষয়েও অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
সহিংসতার আশঙ্কা বিএনপির, মাঠ না ছাড়ার ঘোষণা জামায়াতের : বিএনপির বিজয় অনিবার্য জেনে একটি গোষ্ঠী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। গতকাল তিনি কী উদ্দেশ্যে, কাদের দেওয়ার জন্য ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে নির্বাচনের আগের দিন ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছিলেন তা বের করার জোর দাবি জানান। গণমাধ্যমে প্রাপ্ত সংবাদের বরাত দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের এই উপদেষ্টা বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন জেলায় সহিংসতা, অতর্কিত হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভোটারদের মধ্যে অর্থ বিতরণের পাশাপাশি ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। তিনি এসব ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ব্যাগ থেকে ‘৭৪ লাখ’ টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ বলে অভিযোগ করেছে দলটি। গতকাল দলের অবস্থান তুলে ধরে এই কথা বলেন জামায়াতের মুখপাত্র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে তাদের দল ও নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, তার দল কোনো অবস্থাতেই ভোটের মাঠ ছাড়বে না। সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে দেখা করার পর তিনি আরও বলেন, ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করে একটা সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়া হবে।’
পৌঁছেছে ৮ লাখ ৮৩ হাজার পোস্টাল ভোট : দেশে ও দেশের বাইরে থেকে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ৮ লাখ ৮৩ হাজার পোস্টাল ভোট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে। গতকাল ইসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রবাসীদের জন্য ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ভোট দিয়ে দেশে পাঠানো হয়েছে ৪ লাখ ৮১ হাজার ১৮৫ জন। আর রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে পৌঁছেছে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৬ জন। এদিকে দেশের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮ জনের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ভোট দেওয়া ব্যালট পাঠিয়েছেন ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫১ জন। আজ বিকালে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত হাতে আসা পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনা হবে।
ফল প্রকাশে তেমন দেরি হবে না, বললেন ইসি : জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের পরিবেশ খুব ভালো বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবদুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, ‘উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আমরা খুব পরিকল্পিতভাবে কাজ করছি। আশা করি, ভোটের ফলাফল প্রকাশে খুব বিলম্ব হবে না।’ এর আগে ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট একসঙ্গে গণনা করা হবে। কেন্দ্রের প্রাথমিক ফল রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে কমিশনে পাঠানো হবে। অধিকাংশ আসনের ফল মধ্যরাতের মধ্যেই পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে ভোটগ্রহণ চলার সময় চার ধাপে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা (শতকরা হার) পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে ইসি। গতকাল ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মারা যাওয়ায় ওই আসন বাদে ২৯৯ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নিচ্ছে। দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন। স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। এর মধ্যে ৬৩ জন দলীয়সহ মোট ৮৩ জন মহিলা প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। আর হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
সারা দেশে ৫০ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ : ভোট ও গণভোটের ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের ৫০ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে কমিশন। ইসি কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। এগুলোর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ২১ হাজার ৫০৬টি। এসব কেন্দ্রে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ভোট নেবেন। এদের মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন, পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জন জেলা প্রশাসক ও তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৫৯৮ জন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক প্রস্তুতি : এবারের নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ করার জন্য নজিরবিহীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত রবিবার থেকে বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৪৮ জন নিরাপত্তা সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ জন সদস্য। এ ছাড়া নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫, পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ এবং আনসার ও ভিডিপির ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এর বাইরে ১ হাজার ৯২২ জন বিএনসিসি ক্যাডেট এবং ৪৫ হাজার ৮২০ জন গ্রামপুলিশ (চৌকিদার ও দফাদার) দায়িত্ব পালন করবেন।
এ নির্বাচনে মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সারা দেশে প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬-১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭-১৮ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। আর মেট্রোপলিটন এলাকার সাধারণ ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ও আনসারের ১৬ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন থাকবেন। দুর্গম ঘোষিত ২৫ জেলার নির্দিষ্ট এলাকার ভোটকেন্দ্রে ১৬-১৮ জন করে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। এসব সদস্য ভোটগ্রহণের দুদিন আগ থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন। অন্যদিকে নির্বাচনী অপরাধের বিচারকাজ পরিচালনায় নিয়োজিত আছেন বিচারিক হাকিম ৬৫৭ জন, নির্বাহী হাকিম ১ হাজার ৪৭ জন ও নির্বাচনী তদন্ত কমিটিতে ৩০০ বিচারিক হাকিম। এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কমিটি গঠন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো এবার নির্বাচনে ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও ব্যাপক সিসিটিভি নজরদারি ব্যবহার করা হচ্ছে। ইসি জানিয়েছে, ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি নিশ্চিত করা হয়েছে।