প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:০৩ পিএম
সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। ফাইল ফটো
জাতির প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নির্বাচন কমিশন দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বুধবার আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের ব্রিফিংয়ে সিইসি এসব কথা বলেন। এ সময় অন্য চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
সিইসি বলেন, “আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে কমিশন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের সহযোগিতায় ব্যাপক নিরাপত্তা ও সমন্বয় ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে”।
নির্বাচনি বিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেকোনো অভিযোগ বা বিরোধ প্রতিষ্ঠিত আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই কঠোরভাবে নিষ্পত্তি করা হবে”।
স্বচ্ছতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে সিইসি বলেন, “নির্বাচন ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি হচ্ছে স্বচ্ছতা। গণমাধ্যম ও দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার জবাবদিহিতা ও জনআস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে”।
ভোটারদের অসুবিধা না করে এবং ভোটকেন্দ্রের গোপনীয়তা বজায় রেখে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সিইসি জানান, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধি এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা কমিশনের নির্দেশিকা অনুসারে ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করবেন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তাদের মূল্যায়ন প্রকাশ করতে পারবেন।
ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, “লিঙ্গ ও বয়স নির্বিশেষে সকল ভোটার নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন। যথাযথ পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যালট ইস্যু করা হবে এবং নির্ধারিত নিয়মে গোপনীয়তা বজায় রেখে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রেই গণনা শেষ করে ফলাফল ঘোষণা করা হবে, পরে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা সংকলন করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন”।
ভোটার অংশগ্রহণ সহজ করতে বুধ ও বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রসঙ্গে সিইসি জানান, প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ২৭ লাখ নারী। বর্তমানে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭০ লাখের বেশি। এ কার্যক্রমে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সহায়তা করেছে।
প্রথমবারের মতো তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটদানের সুযোগ রাখা হয়েছে। সীমিত সময় ও প্রস্তুতি সত্ত্বেও প্রায় ৮ লাখ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, যা ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন সিইসি।
তিনি আরও জানান, ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সব নির্বাচনী সামগ্রী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো কেন্দ্রভিত্তিক পাঠানোর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।