স্ব স্ব জেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:১৯ পিএম
আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫৯ পিএম
বুধবার কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে পাঠানো শুরু হয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এ উপলক্ষে সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে পাঠানো শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় একযোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
মেহেরপুর
মেহেরপুরে বুধবার সকাল ১০টায় জেলার তিন উপজেলায় একযোগে নির্বাচনি সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সরঞ্জাম তুলে দেন। এ সময় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এনামুল হক, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বাবু হকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ)
কক্সবাজার-৪ আসনে সেন্টমার্টিন দ্বীপসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ব্যালট পেপার ও নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে টেকনাফ উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রথমে কোস্টগার্ডের নিরাপত্তায় সেন্টমার্টিনে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়। সেখানে কোস্টগার্ডের পাশাপাশি নৌবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। ধাপে ধাপে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার সব কেন্দ্রে সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ব্যালট পেপার সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮১৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮২ জন, নারী ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৫১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৬ জন।
উখিয়ায় ৫৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩২টি এবং টেকনাফে ৬১টির মধ্যে ২৭টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাঠপর্যায়ে মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।
বরিশাল
বরিশালেও বুধবার সকাল থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটের সরঞ্জাম বিতরণ শুরু হয়েছে। বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ থেকে সকাল ১১টা থেকে কেন্দ্রগুলোতে সরঞ্জাম পাঠানো হয়। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানজুরা মুশাররফ বলেন, “সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না”।
বরিশাল জেলায় মোট ৮৩৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ২৫৫টি অতি গুরুত্বপূর্ণ, ২৩৬টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৩৪২টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত।
নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে সেনাবাহিনীর প্রায় ১ হাজার ৫০০ সদস্য, পুলিশের ২ হাজার ৬৬৭ সদস্য, ১৪ প্লাটুন বিজিবি, নৌবাহিনীর একটি জাহাজসহ ৬০ জন সদস্য, কোস্টগার্ডের ৫ ইউনিটের ১৫০ জন এবং ১০ হাজার ৮২৯ জন আনসার সদস্য।
বরিশালের ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩৮ জন, পুরুষ ১১ লাখ ৫৮ হাজার ২২০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২০ জন। এ জেলায় ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নওগাঁ
নওগাঁর ৬টি সংসদীয় আসনের ৭৮২টি কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে নির্বাচনি সরঞ্জাম। জেলার ১১টি উপজেলার সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তারদের কাছ থেকে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসাররা ভোটের বিভিন্ন সরঞ্জামি বুঝে নিচ্ছেন। এরপর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সরঞ্জামগুলো কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তরা।
এদিকে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দেখা গেছে পুলিশ সদস্যর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনী ও বিজিবি সার্বক্ষনিক টহল দিচ্ছেন।
নওগাঁয় ৬টি আসনে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিকদল ২৭ জন ও স্বতন্ত্র ৫ জনসহ মোট ৩২জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মুর্শিদা খাতুন জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কড়া নিরাপত্তায় নির্বাচনি সামগ্রী কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন। একটি কেন্দ্রে ১৩ জন আনসার-ভিডিপি ও কেন্দ্রভেদে ১-২ জন পুলিশ সদস্য ভোট কেন্দ্রের আইনশৃংখলা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়াও পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সারা উপজেলা টহল দিবেন।
তিনি বলেন, “সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট গ্রহণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করি আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভোটররা নির্বিঘ্নে দিতে পারবেন”।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “এবার মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশেই ভোট দিতে পারবে। সারা জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, নির্বাচনে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে”।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। ভোটারদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনী মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিটি এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে”।
জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে ৭৮২টি ভোটকেন্দ্রে মোট ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন, নারী ভোটার ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২১ জন। এ ছয়টি আসনে সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৬৩ হাজার, যা মোট ভোটারের ১৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
বগুড়া
বগুড়ার ১২টি উপজেলায় মোট ৯৮৩টি ভোটকেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে ভোটের সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে। প্রিজাইডিং অফিসারদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, সিল, স্ট্যাম্প, প্রয়োজনীয় ফরম ও অন্যান্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
বগুড়া সদর উপজেলার ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের সরঞ্জাম উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন থেকে বিতরণ করা হচ্ছে। সকাল ১০টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরঞ্জাম হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু হয়। সহকারী রিটার্নিং অফিসার আব্দুল ওয়াজেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর এবং উপজেলা নির্বাচন অফিসার জায়েদ ইবনে আবুল ফজল প্রিজাইডিং অফিসারদের হাতে সরঞ্জাম তুলে দেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলার সাতটি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৩৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি, বাসদ, সিপিবিসহ অন্যান্য দল।
বগুড়া জেলায় ১২টি উপজেলা ও ১২টি পৌরসভা রয়েছে। জাতীয় সংসদের সাতটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭১ জন, নারী ভোটার ১৫ লাখ ১ হাজার ৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪২ জন। জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ভোটকক্ষ রয়েছে ৫ হাজার ৫৭৮টি।
নাটোর
সারাদেশের ন্যয় নাটোরের চারটি আসনের ৫৬৬ টি ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টা থেকে জেলার চারটি আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ও নির্বাচনি সরঞ্জাম বিতরণ করেছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা।
এরমধ্যে নাটোর সদর উপজেলা পরিষদ থেকে ১০৫ টি কেন্দ্রে নির্বাচনি সামনি কেন্দ্র গুলোতে পাঠানো হয়। এসময় সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। যৌথ বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় এসব নির্বাচনি সরঞ্জামাদি কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো হয়। এর আগে প্রতিটি কেন্দ্রের নির্বাচনি কর্মকর্তাসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার ও পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। নির্বাচনকালীন সব ধরণের সহিংসতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেয়া হয়।
নাটোরের ৭টি উপজেলার ৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন মোট ২৫ জন প্রার্থী। জেলায় মোট ১৫ লক্ষ ৪৭ হাজার ২০৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১ হাজার ৫০ জন সেনাবাহিনী, ১ হাজার ৩১৪ জন পুলিশ, ৪৯ জন র্যাব ও ৭ হাজার ৪৮৭ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন জানান, নির্বাচন সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যে কোন ধরণের অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
পটুয়াখালী
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপারসহ ভোটগ্রহণের সরঞ্জামাদি কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বুধবার সকাল থেকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া পাহারায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা নিজ নিজ কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বুঝে নেন।
এ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং জামায়াত সমর্থিত জোটের খেলাফত মজলিসের দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, কলাপাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৮১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮ হাজার ৮৩৬ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫ হাজার ৬৪৫ জন। অন্যদিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ৯৪ হাজার ৮৬৪ জন; এর মধ্যে পুরুষ ৪৭ হাজার ৬৬১ জন এবং নারী ৪৭ হাজার ২০৩ জন।
এদিকে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জেলার চারটি নির্বাচনি এলাকায় ২৬ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ৭ প্লাটুন বিজিবি, ৬টি র্যাব টিম, বিপুল সংখ্যক আনসার ও কোস্টগার্ড সদস্য, দেড় হাজার পুলিশ সদস্য এবং ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ফেনী
ফেনীর ৩টি সংসদীয় আসনের ৪২৮ ভোট কেন্দ্রে পৌছে যাচ্ছে ভোটের সরঞ্জাম। ভোট দিবেন ১৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি ভোটার। সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করতে চলছে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি। নেয়া হচ্ছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সকাল থেকেই দেখা গেছে ভোটকেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেছে পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনীর সদস্যরা৷ উপজেলা পর্যায়ে জড়ো হয়েছে আনসার সদস্যরা। কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে নির্বাচনি সরঞ্জাম।
ফেনী জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মনিরা হক জানান, জেলার ৪২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২৫টি কেন্দ্রকে সাধারণ, ২৪৮ টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ, ৫৫ টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৮ প্লাটুন বিজিবি, ৯ প্লাটুন সেনাবাহিনী, পুলিশের ৫৪টি মোবাইল টিম, পুলিশের ৫টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র্যাবের ৬টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, আনসার ১২ প্লাটুন মোতায়েন থাকবে। এছাড়া মাঠে দায়িত্ব পালন করবে ১৮ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ৭ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
জেলা রিটার্নিং অফিসার বলেন, “সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন আমরা উপহার দিতে পারব”।
হিলি
হিলিতে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে ব্যালট বক্স, ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম। বুধবার দুপুরে হাকিমপুর উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে এসব সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সার্বিক প্রস্তুতি।
টাঙ্গাইল
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় নির্বাচনি সরঞ্জাম ও ব্যালট পেপার বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বর ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের হাতে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, সিল, কালি,কলম এবং আনুষঙ্গিক নির্বাচনী মালামাল তুলে দেওয়া হয়। এসময় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের নিয়োজিত থাকতে দেখা গেছে।
বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সরঞ্জামসহ ভোটকেন্দ্রের অভিমুখে রওনা হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাসাইল উপজেলার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ইতোমধ্যে আনুষাঙ্গিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনি মালামাল পৌঁছানোর পর কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নিচ্ছেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা। দুর্গম এলাকার কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ সতর্কতার সাথে সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি ও সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৫
সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে ভোটগ্রহণ উপলক্ষে লোহাগাড়া উপজেলায় ভোটের সরঞ্জাম বিতরণ শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের হাতে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচন সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে এসব সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছাতে শুরু করেছে।
এ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী (দাঁড়িপাল্লা) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী শরীফুল আলম চৌধুরী (হাতপাখা)।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর ১৫টি টিম মোতায়েন থাকবে, যার মধ্যে ৯টি টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া ২ প্লাটুন বিজিবি ম্যাজিস্ট্রেটসহ, ব্যাটালিয়ন আনসার বাহিনী ম্যাজিস্ট্রেটসহ, পুলিশের স্ট্রাইকিং টিম, সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত টহল টিমসহ আরও ৫টি মোবাইল টিম মাঠে থাকবে।
কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জেরও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে পাঠানো শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিভিন্ন উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে জেলার ৬টি নির্বাচনী এলাকার ৯১৩টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, সীলসহ বিভিন্ন সামগ্রী পাঠানো শুরু হয়।
রাত পোহালেই ভোট। এ উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে নির্বাচনি সরঞ্জামাদি। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে নির্বাচনি সামগ্রী হস্তান্তর করেন উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার। পরে সেনাবাহিনীর প্রহরায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় ভোটের সামগ্রী। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, সন্ধ্যার আগেই সব কেন্দ্রে নির্বাচনি সামগ্রী পাঠানো শেষ হবে।
সরজমিনে সংসদীয় আসনগুলো ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারা নির্বাচনী সরঞ্জাম বুঝে নিতে নির্দিষ্ট ভ্যেন্যুতে আসা শুরু করেন। ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার থেকে শুরু করে কেন্দ্রভিত্তিক ভোটারতালিকাসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম বুঝিয়ে দিচ্ছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা। গাড়িতে করে এসব সরঞ্জামাদি কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন আনসার ভিডিপির সদস্য ও পুলিশ। সন্ধ্যার মধ্যেই সবকটি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফ জানান, জেলার ৬টি নির্বাচনি এলাকায় ভোট কেন্দ্র ৯১৩টি। আর ভোটার সংখ্যা ২৭ লক্ষ ২৭ হাজার। আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে নির্বাচনী মাঠে ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কোন ধরনের শঙ্কা নেই”।
সার্বিক প্রস্তুতি
দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত বিধিবিধান মেনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে।