প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:২১ এএম
আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:২২ এএম
উৎসবমুখর ও শান্তি পূর্ণ পরিবেশে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। মঙ্গলবার বিমানবন্দর স্টেশন থেকে তোলা। ছবি: আলী হোসেন মিন্টু
নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত ছুটিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। এ ছুটিতে অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে নিজের এলাকায় যাওয়ায় ঢাকা ফাঁকা হতে শুরু করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সরকার সাধারণ ও বিশেষ ছুটি ঘোষণা করেছে। ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে, যা আগেই ঘোষিত ছিল। এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি। এ ছুটিতে রাজধানীর মানুষ ছুটছেন গ্রামের দিকে। ঢল নেমেছে। আর এতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে ঢাকা ও আশপাশের মহাসড়কগুলোতে। বাস সংকটের কারণে কয়েকগুণ বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। সেই সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টার যানজটে নিদারুণ ভোগান্তিতে পড়তে হয় ঘরমুখো মানুষদের।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে নিজ এলাকায় ভোট দেওয়ার উদ্দেশে সড়কে নেমে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে ঢাকার সড়কে ভোগান্তি চরমে ওঠে। মহাখালী থেকে খিলক্ষেত পর্যন্ত বিভিন্ন স্পটে ঢাকা ছাড়ার জন্য বিভিন্ন বয়সের লোকজনকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ময়মনসিংহগামী অঞ্চলের এসব মানুষ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও নির্দিষ্ট গাড়িতে উঠতে পারছিল না। দুপুরের পর থেকে রাজধানীর মধ্যকার চলাচল করা বাসের ৮০ শতাংশই দেখা যায়নি।
নেত্রকোনার উদ্দেশে রওনা দেওয়া মকবুল তার স্ত্রী সন্তানসহ ২ ঘণ্টা দাঁড়িয়েও বাসে উঠতে পারেননি। কোনোটায় সিট ফাঁকা নেই, কোনোটাতে দ্বিগুণ ভাড়া হাঁকাচ্ছে বাসের লোকজন। বিকাল ৫টার পর রামপুরা থেকে প্রগতি সরণি হয়ে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক মানুষকে ঢাকার ভেতরকার বিভিন্ন গন্তব্যের বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। মেরুল থেকে মিরপুর-১০ এলাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়া গৃহিণী ফাহমিদা ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গাড়ি পাননি।
কুড়িল বিশ্বরোডে বিআরটিসি, ভূঁইয়া পরিবহনসহ বেশকিছু বাসের চালকের সঙ্গে বাড়তি ভাড়া আদায় নিয়ে যাত্রীদের বচসা করতে দেখা যায়। প্রগতি সরণিতে অছিম পরিবহন, তুরাগ পরিবহনের চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনের কারণে পুলিশের পরিবহন রিকুইজিশনে গণপরিবহনের সংকট দেখা দিয়েছে। তবে চালকরা আরও জানান, রিকুইজিশনের ভয়ে অনেক মালিক তাদের বাস সড়কে নামাননি। ফার্মগেট এলাকার কয়েকজন চালকও একই কথা বলেন।
এদিকে নিমতলা, হাঁসাড়া, ষোলঘর ও শ্রীনগর সাওনি এলাকায় বাস থামিয়ে যাত্রী না নেওয়া এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে এসব পয়েন্টে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক যাত্রী পরিবহন না পাওয়ার অভিযোগ করেন। যাত্রীদের দাবি, বাসগুলো ফাঁকা আসন থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় স্টপেজ থেকে যাত্রী তুলছে না। কেউ কেউ জানান, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি অর্থ দাবি করা হচ্ছে। নিমতলা এলাকার শরীয়তপুরগামী অপেক্ষমাণ এক চাকরিজীবী মজিদ বলেন, ‘সকাল থেকে ২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছি। কয়েকটি বাস গেলেও আমাদের নেয়নি। অফিসে জরুরি কাজ থাকলেও পৌঁছতে পারছি না।বেশি ভাড়া চাইছে।’সেগুফতা নামে এক গৃহিণী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘২টা ছোট বাচ্চা নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি প্রায় এক ঘণ্টা। বাস থামছে না। যারা নিচ্ছে, তারা বাড়তি ভাড়া চাইছে।’তবে এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের তেমন চাপ দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নির্বাচনের ছুটিতে যাত্রী চাপ বাড়লেও সার্বিক যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যাত্রীরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঢাকাতে পরিবহন সংকটের বিষয়ে ট্রাফিকের অতিরিক্ত কমিশনার আনিসুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশেকে বলেন, মাওনাতে শ্রমিকদের একটা আন্দোলনের কারণে পরিবহন চলাচল ব্যাহত হয়। গতকাল পর্যন্ত রিকুইজিশনের ভয়ে অনেকে রাজধানীর মধ্যে চলাচল করা বাসগুলোও সড়কে বের করেনি।