প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:০৯ পিএম
আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৩৬ পিএম
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার লোগো। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে দলবদ্ধভাবে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার শিকার হিন্দু ধর্মাবলম্বী পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তবর্তী সরকার।
প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোষ্টে মঙ্গলবার বিকেলে এ জানানো হয়।
সেখানে বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি. আর. আবরার জেলার তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামে নিহত দীপু দাসের বাড়ি পরিদর্শন করেন। ওই সময় তিনি দীপু দাসের পরিবারের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে সহমর্মিতা জানান। পাশাপাশি যেহেতু দীপু দাস পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন, তাই পরিবারের বসবাসের জন্য একটি পাকাঘর নির্মাণসহ পরিবারের সার্বিক সুরক্ষার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) তত্ত্বাবধানে এ সহায়তা বাস্তবায়িত হবে জানিয়ে পোষ্টে আরও বলা হয়, বাড়ি নির্মাণের জন্য ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হব, যা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করবে। সেই সঙ্গে নগদ আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে দীপু দাসের বাবা ও স্ত্রীকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে এবং তার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য ৫ লাখ টাকার একটি এফডিআর করা হবে বলে পোষ্টে জানানো হয়।
এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি. আর. আবরার বলেন, “দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড একটি নৃশংস অপরাধ, যার কোনো অজুহাত নেই এবং আমাদের সমাজে এর কোনো স্থান নেই। তার পরিবারেরকে সহায়তার যে প্রচেষ্টা সরকার করেছে তা একটি জীবনের তুলনায় কিছুই নয়। রাষ্ট্র নিশ্চয়ই সুবিচার নিশ্চিত করবে”।
“সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা ছড়িয়ে যেভাবে দীপু দাসকে হত্যা করা হয়েছে তা পুরো জাতির জন্য লজ্জার। ন্যায় বিচারই কেবল এই লজ্জা থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে” বলেন শিক্ষা উপদেষ্টা।
উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমরা একটি রাষ্ট্র ও সমাজ হিসেবে সব ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষের মতপ্রকাশের শান্তিপূর্ণ অধিকারকে সম্মান করি—যতক্ষণ তা অন্যের প্রতি সম্মান বজায় রেখে করা হয়। মতভেদ বা আপত্তির মুহূর্তেও কোনো ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার রাখে না”।
তিনি যোগ করেন, এই ঘটনায় যারা দায়ী, তাদের সবাইকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে।
এর আগে, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে কারখানা থেকে বের করে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ মহাসড়কের পাশে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তারাকান্দার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে দীপু দুই বছর ধরে ওই কারখানায় কর্মরত ছিলেন। এই ঘটনায় নিহতের ভাইয়ের করা মামলায় এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।