গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫১ পিএম
গাজীপুরে ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সোমবার তীব্র যানজট দেখা গেছে। ছবি: প্রতিদিনে বাংলাদেশ
ভোট উপলক্ষে টানা চারদিনের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ায় গাজীপুরে ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বিকেল থেকেই যানবাহন চলাচল থেমে থেমে চলছে, কোথাও কোথাও সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে।
ছুটির সুযোগে গাজীপুরের পোশাক কারখানার শ্রমিকরা একসঙ্গে বাড়ি ফেরায় মহাসড়কে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত যাত্রীর চাপকে পুঁজি করে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় যান চলাচল থেমে থেমে চলছে। একই অবস্থা চন্দ্রা–নবীনগর সড়কেও। অপরদিকে ঢাকার প্রবেশমুখ আবদুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ। গতকাল রাত থেকেই এই যানজট ও ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
শ্রমিকরা জানান, ভোট দিতে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে সন্ধ্যার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তারা পর্যাপ্ত যানবাহন পাচ্ছিলেন না। সকালে কিছুটা স্বাভাবিক হলেও সুযোগ বুঝে পরিবহন চালক ও সহকারীরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন। অনেক ক্ষেত্রে ৮০০ টাকার নিচে কোনো গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা। গাজীপুরে প্রায় পাঁচ হাজার শিল্পকারখানা ছুটি হওয়ায় একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক রাস্তায় নেমেছেন।
মহাসড়কে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ বলছেন, “জনবল সংকটের মধ্যেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকা দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী শ্রমিকদের চাপ বেশি থাকায় ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের ওই অংশে যানজট বেড়েছে। তবে মহাসড়ক সচল রাখতে এবং শ্রমিকদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন”।
নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, “নির্বাচনি দায়িত্বে হাইওয়ে পুলিশের প্রায় ৮৫ শতাংশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। বাকি ১৫ শতাংশ সদস্য দিনরাত টানা ডিউটি করে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন”।
সব কারখানা একসঙ্গে ছুটি হওয়ায় যানবাহনের ধীরগতি তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।