প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:২৮ পিএম
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভারস আইজাবস। ছবি: বিবিসি বাংলা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের নির্বাচনি পরিবেশ ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান ইভারস আইজাবস।
ঢাকায় মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন ইভারস আইজাবস।
নির্বাচনি পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, “কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন থাকলেও সামগ্রিকভাবে পরিবেশ খুবই ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক। ইইউ একটি বিশ্বাসযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করছে”।
ইভারস আইজাবস জানান, সারাদেশে ইইউর দুই শতাধিক পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে জানুয়ারির শুরু থেকেই প্রায় ৬০ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মাঠে কাজ করছেন। মঙ্গলবার থেকে স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরাও দায়িত্ব পালন শুরু করবেন, যারা মূলত ভোটগ্রহণ ও ভোট গণনার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।
তিনি বলেন, “আজ আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্র থেকে আসা সবচেয়ে বড় সংখ্যক প্রশিক্ষিত, পেশাদার ও অভিজ্ঞ পর্যবেক্ষক দল মাঠে পাঠাচ্ছি।”
পাশাপাশি ইইউর অংশীদার দেশ নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও কানাডার পর্যবেক্ষকরাও এই মিশনে যুক্ত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
ইইউ পর্যবেক্ষক দলের প্রধান আরও বলেন, “পর্যবেক্ষকরা বাংলাদেশের সব অঞ্চল ও জেলায় অবস্থান করে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের মূল নীতিমালা- নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও সম্মান মেনে কাজ করবেন। ঢাকায় অবস্থানরত মূল টিম সারাদেশে থাকা পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখব “।
বাংলাদেশের জনগণের আতিথেয়তা ও আন্তরিকতায় সন্তোষ প্রকাশ করে ইভারস আইজাবস বলেন, “বাংলাদেশে এসে আমরা যে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছি, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় ফিরে আসছে—এই ঐতিহাসিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পেরে আমরা গর্বিত”।
তিনি বলেন, “ইইউ–বাংলাদেশ সহযোগিতার ক্ষেত্রে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে”।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, ইইউ পর্যবেক্ষক দল প্রার্থী ও বিভিন্ন অঞ্চলের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের অধিকাংশই আশা প্রকাশ করেছেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং সার্বিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে ইইউ পর্যবেক্ষক দলের ধারণা”।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ইস্যু পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ইইউ পর্যবেক্ষক দলের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। নির্বাচন শেষ হওয়ার দুই মাস পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ প্রকাশ করা হবে।