প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:২১ পিএম
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৫৫ পিএম
ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত,একাত্তর টেলিভিশনের সিইও মোজাম্মেল হক বাবু। ছবি: বাসস
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সাংবাদিক শ্যামল দত্ত ও মোজাম্মেল হক বাবু এবং তাদের স্ত্রী-সন্তানদের নামে থাকা একাধিক ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ সোমবার দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। দুদকের পক্ষে সংস্থার উপ-পরিচালক বায়োজিদুর রহমান খান আবেদনটি করেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জাজ আদালতের বেঞ্চ সহকারি মো. রিয়াজ হোসেন বাসস'কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আবেদনে বলা হয়, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, তার স্ত্রী সঞ্চিতা দত্ত ও কন্যা সুষমা শশী দত্তের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা মোট ১৮টি হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এসব হিসাবে জমা রয়েছে ৫ কোটি ৩২ লাখ ১৯ হাজার ৬৫ টাকা।
এছাড়া একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, তার স্ত্রী অপরাজিতা হক ও কন্যা শাবাবা ইশায়াত হকের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ১১টি হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এসব হিসাবে রয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, শ্যামল দত্ত ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে উল্লেখযোগ্য অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেলেও অনুসন্ধানে এসব সম্পদের বৈধ ও সুস্পষ্ট উৎস পাওয়া যায়নি। এছাড়া বিভিন্ন হস্তান্তর ও স্থানান্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পদের প্রকৃত উৎস আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা অর্থ পাচারের অপরাধের ইঙ্গিত দেয়।
একইভাবে মোজাম্মেল হক বাবু, তার স্ত্রী-কন্যা এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা অস্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রেও বৈধ আয়ের উৎসের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দুদক আবেদনে উল্লেখ করেছে। এসব সম্পদ মানিলন্ডারিং সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে বলেও দাবি করা হয়।
দুদক মনে করছে, অনুসন্ধান চলাকালে এসব সম্পদ হস্তান্তর বা মালিকানা পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাই ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরদিন শ্যামল দত্ত সপরিবারে ভারতে যাওয়ার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ইমিগ্রেশনে আটকে যান। পরে একই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালানোর সময় শ্যামল দত্ত ও মোজাম্মেল হক বাবুকে আটক করা হয়।
আটকের পর থেকে তারা কারাগারে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।