প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৩৮ পিএম
আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:১০ পিএম
প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও আশপাশের এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ছবি: সংগৃহীত
নবম পে–স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলন ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ও তার আশপাশের এলাকা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে যমুনা ও আশপাশের এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শুক্রবার দুপুরে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ১৪৪ ধারা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রাষ্ট্রীয় ভবন যমুনার নিরাপত্তায় কাকরাইল মসজিদ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে সকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সরকারি চাকরিজীবীরা নবম পে–স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে তারা মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার দিকে রওনা দেন।
বেলা ১১টার দিকে মিছিলটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের অগ্রসর হওয়া ঠেকানোর চেষ্টা করে।
আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
তবে কিছু সময় পর আবারও আন্দোলনকারীরা জড়ো হয়ে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময়ও পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ আবারও টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।
এমন অবস্থার মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডিএমপি কমিশনার যমুনা ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা দেন। এতে ওই এলাকায় সভা–সমাবেশসহ যেকোনো ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়।
অন্যদিকে, আন্দোলনকারীরা জানান, আজকের মধ্যেই নবম পে–স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে। দাবি আদায় না হলে তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন এবং বাড়ি না ফেরার কথা জানান।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে–স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত ও অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে গত ২৭ জানুয়ারি তিনি বলেন, পে–কমিশনের প্রতিবেদন শুধু গ্রহণ করা হয়েছে, বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার চাইলে এ বিষয়ে পরিবর্তন আনতে পারবে।
এই অবস্থায় সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘিরে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।