জামায়াত আমিরের এক্স ‘হ্যাকড’
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০৯ এএম
জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের অভিযোগে মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঢাকার মতিঝিল এলাকা থেকে ছরওয়ারে আলমকে (ডানে) আটক করে ডিবি। ছবি: ফেসবুক থেকে
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাকড’ হওয়ার অভিযোগের ঘটনায় বঙ্গভবনের কর্মী ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। তবে এই গ্রেপ্তার ঘিরে পুলিশের ভেতর থেকেই ভিন্ন ভিন্ন তথ্য আসায় ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরেই কোনো দ্বিমত ছিল কি না।
পুলিশের একাধিক সূত্র বলছে, গ্রেপ্তার দেখানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিধা ছিল। মিন্টো রোড এলাকায় আলোচনায় এসেছে—কোনো চাপের মুখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও।
জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের অভিযোগে মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঢাকার মতিঝিল এলাকা থেকে বঙ্গভবনে সহকারী প্রোগ্রামার হিসেবে কর্মরত ছরওয়ারে আলমকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তবে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়েছে—এমন তথ্য পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।
এর মধ্যে রাত পৌনে ১০টার দিকে সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ডিএমপির পক্ষ থেকে বার্তা দিয়ে জানানো হয়, এ বিষয়ে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন। রাত সাড়ে ১০টায় মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়।
রাজনৈতিক চাপে গ্রেপ্তার
সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণবার্তা পাওয়ার পর ডিবির দুজন কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডি নিউজ টোয়েন্টি ফোরকে বলেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ তারা পাননি।
তাদের দাবি, মূলত রাজনৈতিক চাপের কারণেই তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ‘জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা’দের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা—এমন কথাও এক কর্মকর্তা দাবি করেন।
নিবিড় তদন্তের দায়িত্বে ডিবি
নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২৫ মিনিট পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
সাধারণত এ ধরনের ব্রিফিংয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের প্রধানের সঙ্গে আরও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেখা গেলেও সেদিন তাকে একাই গাড়িতে করে মিডিয়া সেন্টারে আসতে দেখা যায়।
পরে ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান তার সঙ্গে যোগ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম একটি লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান।
“জামায়াত আমিরের ‘এক্স আইডি হ্যাকড’ হওয়ার বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে হাতিরঝিল থানায় একটি জিডি করা হয়। এটা সাইবার সংক্রান্ত হওয়ায় ডিবির ওপর তদন্তভার ন্যস্ত করা হয়।
“এই পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে ছরওয়ারে আলম নামে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। এই ঘটনায় ইতোমধ্যে হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা হয়েছে। নিবিড় তদন্তের জন্য মামলাটির তদন্তভার ডিবির হাতে ন্যাস্ত করা হয়েছে।”।
তিনি বলেন, “এই পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে ছরওয়ার আলম নামের এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলাটির তদন্তভার ডিবির হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।”
‘অহেতুক বিভ্রান্তি’ না ছড়ানোর আহ্বান
ডিবির এ কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা ব্যক্তির কর্মস্থল থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।
জব্দকৃত যন্ত্রপাতির ফরেনসিক পরীক্ষার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অহেতুক বিভ্রান্তি’ না ছড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রথম প্রশ্ন আসে—ছরওয়ারে আলমকে কি হাতিরঝিল থানার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে?
জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, “জি।” তিনি প্রাথমিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘যথেষ্ট প্রমাণ’ পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জব্দ করা মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভের ফরেনসিক পরীক্ষা ছাড়া বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।
ডিবির ভেতরে দ্বিধা–বিভক্তির বিষয়টি কতটা সত্য
এ বিষয়ে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে কি না—এ সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মতভেদ ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক জানতে চান, ডিবির ভেতরে দ্বিধা–বিভক্তির যে তথ্য ছড়িয়েছে, তা কতটা সত্য। জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সত্য নয়। মামলা হওয়ার পর পুলিশ আসামি ধরেছে।
ছরওয়ারে আলমের সঙ্গে ঘটনার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “ফরেনসিক রিপোর্ট না এলে তো বলা যাবে না।”
তখন প্রশ্ন ওঠে, আটকের প্রায় ১৬–১৭ ঘণ্টা পর কীসের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জবাবে তিনি বলেন, “তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে না...।”
আরেক সাংবাদিক জানতে চান, তাকে কি সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে? উত্তরে শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা না, হাতিরঝিল থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।”
শেষে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলার এফআইআরে ছরওয়ারে আলমের নাম থাকায় কি তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে?
এ প্রশ্নে ডিবি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম সংক্ষেপে বলেন, “জি।”