× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জনবল সংকট

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নষ্ট দেড় কোটি টাকার যন্ত্রপাতি

ইউএনবি

প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৫ পিএম

জনবলের অভাব, কাঁচামাল সংকট ও বাজেট ঘাটতিতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়। ছবি: ইউএনবি

জনবলের অভাব, কাঁচামাল সংকট ও বাজেট ঘাটতিতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়। ছবি: ইউএনবি

জনবলের অভাব, কাঁচামাল সংকট ও বাজেট ঘাটতিতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়। আধুনিকায়নে আনা ১৫৩ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র এক–চতুর্থাংশ কর্মচারী দিয়ে কার্যক্রম চলছে নীলফামারির এই কারখানায়।

এদিকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় কাঁচামালের সরবরাহেও তৈরি হয়েছে তীব্র সংকট। ফলে মেরামত ও উৎপাদনের স্বাভাবিক গতি ধরে রাখা যাচ্ছে না।

আসাম–বেঙ্গল রেলপথকে ঘিরে ১৮৭০ সালে একশো ১০ দশমিক ২৯ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এ কারখানায় রয়েছে ২৭টি শপ বা উপকারখানা।

এখানে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ যাত্রীবাহী কোচ এবং মালবাহী ওয়াগন মেরামত করা হয়। স্টিম রিলিফ ক্রেন ও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলযানও এখানে পুনমেরামত করা হয়। সঙ্গে ক্যারেজ, ওয়াগন ও লোকোমোটিভের হাজারের ওপরে খুচরা যন্ত্রাংশও তৈরি হয় এই কারখানায়।

উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ২০১৭ সালে ১৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে কারখানাটির আধুনিকায়ন করা হয়।

ওইসময় প্রকল্পের আওতায় ১৭টি ওয়ার্কশপ সংস্কার এবং অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়। ৪৩ ধরনের যান্ত্রিক, ১৩ ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন সহ গভীর নলকূপ স্থাপন ও একটি ওভারহেড পানির ট্যাঙ্ক নির্মাণও করা হয়। তবে দক্ষ জনবল না থাকায় এই আধুনিকায়নের প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না।

বর্তমানে কারখানাটিতে কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীর অনুমোদিত ২ হাজার ৮৫৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৭১৬ জন। অর্থাৎ ২ হাজার ১৪৩টি পদ এখনো শূন্য পড়ে আছে।

এই ঘাটতির কারণে ক্যারেজ মেরামতের দৈনিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যাচ্ছে না। তিনটি কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বাস্তবে মেরামত হচ্ছে দুটি। এমনকি ৭৪০টি মেশিন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ শ্রমিকও নেই।

বাজেট স্বল্পতায় চাহিদা অনুযায়ী ও সময়মতো কাঁচামাল পাওয়া যায় না এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কথাও জানিয়েছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ।

পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এই কারখানাই সারা দেশের রেলওয়ের চাহিদা পূরণ করলেও কোচ ও ওয়াগন মেরামতের উপকরণ নির্ধারিত সময়ে পৌঁছায় না। অনেক সময় নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে এসব সংশোধনে অতিরিক্ত জনবল, কর্মঘণ্টা ও বিদ্যুৎ অপচয় হয়।

ক্যারেজ শপের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মমিনুল ইসলাম বলেন, ক্যারেজ শপে ৩৯৫টি পদের বিপরীতে কাজ করছেন মাত্র ৮৫ জন।

জনবল-সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সার্বিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। মেইনটেন্যান্স শিডিউল বিপর্যস্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের কারখানা শাখার সম্পাদক শেখ রোবায়তুর রহমান সংস্কার সূচির বিষয়টি তুলে ধরেন। নিয়ম অনুযায়ী একটি ক্যারেজে চার বছর অন্তর পিওএইচ এবং ১২ বছর অন্তর জিওএইচ করার কথা। কিন্তু জনবল ও কাঁচামালের অভাবে বহু ক্যারেজ বছরের পর বছর মেরামত ছাড়াই পড়ে আছে।

দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ ও কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে শেখ রোবায়তুর বলেন উৎপাদন কার্যক্রম আগের অবস্থায় ফেরাতে দ্রুত নিয়োগ ও কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ জানান, সর্বশেষ ২০২৩ সালে খালাসি পদে ২৮৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারপরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ শূন্য রয়ে গেছে।

বর্তমানে নির্ধারিত সময়ের বাইরে শ্রমিকেরা অতিরিক্ত সময় কাজ করে উৎপাদন চালু রাখছেন। জনবল-সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

শূন্য পদ পূরণ ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেলে কারখানাটি আবার পূর্ণ কর্মচাঞ্চল্যে ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা