প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০১ এএম
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় মোহাম্মদ ছরোয়ার আলম নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা। প্রতীকী ছবি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় মোহাম্মদ ছরোয়ার আলম নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
ছরোয়ার আলম রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে।।
ঢাকার রাজারবাগ এলাকা থেকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তাকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
ডিএমপির ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় ছরোয়ার আলম নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ডিবির একটি সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটোরিয়ামের পূর্ব পাশের সরকারি কোয়ার্টার থেকে তাকে আটক করা হয়।
এ সময় তার ব্যবহৃত মুঠোফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে।
জামায়াতের আমিরের এক্স হ্যান্ডল থেকে ৩১ জানুয়ারি বিকালে ইংরেজিতে একটি পোস্ট দেওয়া হয়।
পোস্টের একাংশে বলা হয়, আধুনিকতার নামে নারীদের ঘরের বাইরে নেওয়া হলে তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় ও নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়েন, যা পতিতাবৃত্তির আরেক রূপ। এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়।
বিএনপিপন্থী অ্যাকটিভিস্ট ও ইনফ্লুয়েন্সাররা দাবি করেন, এতে কর্মজীবী নারীদের অবমাননা করা হয়েছে। সাধারণ ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অনেকেও পোস্টটির সমালোচনা করেন।
এমন পরিস্থিতিতে ওইদিন রাত ১২টা ৪০ মিনিটে জামায়াতের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক বিবৃতি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, সাইবার হামলার মাধ্যমে জামায়াতের আমিরের নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। শুধু আমির নন, দলের আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।
একই বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করতে ১ ফ্রেবুয়ারি সকাল ১০টায় ঢাকার মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াত। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপনার মাধ্যমে এক্স হ্যান্ডল হ্যাক হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন দলের আইটি সেলের প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম ও প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান।
প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান দাবি করেন, সরকারি মেইল ব্যবহার করে এই সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। [email protected] ঠিকানা থেকে জামায়াতের মেইলে একটি ফাইল পাঠানো হয় যেখানে নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য রয়েছে—এমন একটি ফাইল সংযুক্ত ছিল বলেও জানান তিনি।
যে মেইল থেকে এটি পাঠানো হয়েছে, সেটি মোহাম্মদ ছরোয়ার আলমের নামে এবং তিনি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে কর্মরত বলেও অভিযোগ করা হয়।