প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৫৭ পিএম
জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস ২০২৬ পালন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দেশে উৎপাদিত খাদ্য তথা— মাছ, মাংস, দুধ, ডিমসহ যত ধরনের খাদ্যই আমরা উৎপাদন করি না কেন তা যাতে করে নিরাপদ হয় তা খেয়াল রাখতে হবে বলে আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। তিনি বলেন, বর্তমানে খাদ্যের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে চ্যালেঞ্জও বেড়েছে। নানা ধরনের রোগবালাই উঁকি দিচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমাদের ক্রমান্বয়ে উন্নতির দিকে যেতে হবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোকে খাদ্যের নিরাপদতায় সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস ২০২৬ পালন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে সোমবার সভাটির আয়োজন করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।
২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবসটি পালিত হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে 'নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি, সুস্থ সবল জীবন গড়ি'।
আলোচনা সভার প্রথম পর্বে খাদ্য সচিব ফিরোজ সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সচিব ড. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএফএসএর চেয়ারম্যান জাকারিয়া, খাদ্য নমুনা পরীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করেন বিএফএসএর সদস্য ড. মোহাম্মদ মোস্তফা, মূলপ্রববন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল হাসান সিকদার।
দ্বিতীয় পর্বে মুক্ত আলোচনা পরিচালনা করেন বিএফএসএর চেয়ারম্যান জাকারিয়া, প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সংগীতা আহমেদ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।
আলী ইমাম মজুমদার বলেন, খাদ্য উৎপাদন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সকলে মিলে কাজ করতে হবে। দিন দিন মানুষ ও প্রাণিকুলের খাদ্য যোগানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের উপর এসে পড়েছে। আমরা খাদ্যের উৎপাদন বাড়াতে প্রযুক্তি আনছি, আবার খাদ্যও আমদানি করছি। অনেক সময় খাদ্য আমদানি করতে গিয়েও কিছু বিপদে পড়তে হচ্ছে।
খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে খেজুরের রস খেলে নিপা ভাইরাস হতে পারে। অথচ আমাদের ছেলেবেলাও বাদুর ছিল। তখন এ রোগ হয়নি। তাহলে এখন এটি আপদ হয়ে কেন দাঁড়ালো তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে।
তিনি বলেন, পাঙ্গাস বড় করার ক্ষেত্রে হরমোনসহ বেশকিছু পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে সেটি সঠিক কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখতে হবে। খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে, সেইসঙ্গে সেটির নিরাপত্তা যেন থাকে তাও দেখতে হবে।
আলী ইমাম মজুমদার বলেন, আগে কৃষিতে সার ও কীটনাশক ব্যবহার হতো না। পরে কৃষি কর্মকর্তারা বাড়ি বাড় গিয়ে সার ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে। এখন সার ও কীটনাশক ব্যবহার বেশি হচ্ছে। এর কারণে মাছ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তবে এর ব্যবহার কমাতে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। আশা করি হয়তো ব্যবহার কমে একটা মাত্রায় চলে আসবে।
ড. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, কৃষি, খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়সহ আন্ত:মন্ত্রণালয় খাদ্য নিরাপদ করতে কাজ করে যাচ্ছে। এ সপ্তাহেই কৃষি উন্নয়নে ২৫ বছরের পরিকল্পনাকে চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হবে। খাদ্য নিরাপদ করতে হবে সকলের জন্য। শুধু মানুষ নয় সকল প্রাণির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা কাজ করছি।
প্রকল্প দেখতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে
কৃষি সচিব বলেন, প্রকল্প দেখতে গিয়ে দেখি সবজিতে পানির সঙ্গে কীটনাশক মেশানো হচ্ছে। সেই মহিলাকে প্রশ্ন করা হয় এটা মানুষের জন্য ক্ষতিকর তা জানেন কিনা? জবাবে তিনি বলেন, আমরা তো এটা খাবো না। অর্থাৎ অন্যরা কী খাচ্ছে সেটি আমরা দেখছি না। নিজেরা যা খাচ্ছি তা ভালোভাবে করলেও অন্যদের ব্যাপারে ভাবা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, বিএফএসএ ও বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাজ করা দরকার। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক গ্যাপ, দেশীয় গ্যাপ ও সাধারণ মানুষের খাদ্য উৎপাদনসহ আমাদের তিনটি স্তরে খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে মনোযোগ দিতে হবে। তা নাহলে আমরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বো।
কৃষি সচিব বলেন, খাদ্যের নিরাপত্তা নিয়ে সমন্বিত কাজ করতে হবে। কেননা এটি একা কারো পক্ষে করা সম্ভব না।
ফিরোজ সরকার বলেন, খাদ্যের সঙ্গে খাদ্যের নিরাপত্তা দরকার। বিশ্বের ১০ ভাগের এক ভাগ লোক খাদ্যজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে। কুষক থেকে শুরু করে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
খাদ্য সচিব বলেন, থাইল্যান্ডে শিশুদের সুস্থ রাখতে নিরাপদ খাদ্য ও চিকিৎসা নিশ্চিতে ইউনিয়নভিত্তিক প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। তাতে পরবর্তীতে দেখা যায় দেশটি ৩০ শতাংশ এগিয়ে গেছে।