প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৪১ পিএম
নির্বাচন ভবনে রবিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দিকা। ছবি: বিবিসি বাংলা
ইসলামী সংগঠনে নারীদের শীর্ষ নেতৃত্বে আসার সুযোগ নেই এবং এটি মেনেই তারা রাজনীতি করছেন বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দিকা। তিনি বলেন, “ইসলামী সংগঠনে নারীরা নেতৃত্বে আসতে পারে না। আমরা এটা মেনে নিয়েই ঈমান এনেছি। এটা মেনে নিয়েই আমরা চলছি”।
নির্বাচন ভবনে রবিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পদে নারীদের সুযোগ দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে নুরুন্নেসা সিদ্দিকা বলেন, “জামায়াতে ইসলামী হলো ইসলামী সংগঠন। ইসলামী সংগঠন ইসলাম মেনে চলবে, এটাই স্বাভাবিক। যেখানে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, পুরুষ হচ্ছে নারীদের পরিচালক। এটা আল্লাহর নির্দেশ, এটা ফরজ”।
তার মতে, শীর্ষ পদে নারী আসাটা মুখ্য বিষয় নয়; বরং নারীর অধিকার সঠিকভবে আদায় হচ্ছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি দেশের বিগত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, “গত ৫৪ বছরে দুজন নারী প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলেন, কিন্তু নারীদের সমস্যা কি সমাধান হয়েছে? নারীদের প্রতি সহিংসতা কমেছে? নারীদের অধিকার আদায় হয়েছে? সুতরাং নারী শীর্ষপদে থাকলেই যে একটা কিছু হয়ে যাবে, কথাটা তো ঠিক না।
“বরং নারী হোক বা পুরুষ, যিনি মানবিক হবেন, নারী পুরুষ সবাইকে মর্যাদা দেবেন আমরা এমন নেতৃত্ব চাই। এজন্য আমরা শীর্ষপদে আসা জরুরি মনে করি না”।
গত বুধবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও একই বিষয়ে কথা বলেছিলেন। তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, জামায়াতের আমির পদে নারীর আসার সুযোগ নেই। তিনি কারণ হিসেবে নারীদের কিছু ‘শারীরিক সীমাবদ্ধতা’ ও ‘কঠিন দায়িত্ব পালনে প্রতিকূলতার’ কথা উল্লেখ করেন। আমিরের ওই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। নুরুন্নেসা সিদ্দিকার আজকের বক্তব্য সেই বিতর্কের প্রেক্ষাপটেই দলের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করলেন।