× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এমএসএফের উদ্বেগ

নির্বাচনি সহিংসতা ক্রমেই প্রাণঘাতী রূপ নিচ্ছে

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:১৬ এএম

জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক ও নির্বাচনি সহিংসতা শুধু বৃদ্ধি পায়নি, বরং তা ক্রমেই প্রাণঘাতী রূপ নিচ্ছে। ছবি: প্রতীকী

জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক ও নির্বাচনি সহিংসতা শুধু বৃদ্ধি পায়নি, বরং তা ক্রমেই প্রাণঘাতী রূপ নিচ্ছে। ছবি: প্রতীকী

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) জানুয়ারি মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়া ঘিরে সহিংসতা ও প্রাণহানির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সংগঠনটি বলছে, জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক ও নির্বাচনি সহিংসতা শুধু বৃদ্ধি পায়নি, বরং তা ক্রমেই প্রাণঘাতী রূপ নিচ্ছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ ও আইনের শাসনের জন্য গভীর উদ্বেগজনক।

এমএসএফের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় আহতের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। জানুয়ারিতে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ জনে, যেখানে ডিসেম্বরে নিহত হয়েছিলেন মাত্র ১ জন। এমএসএফ মনে করে, এটি প্রমাণ করে যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া কার্যত প্রাণঘাতী সহিংসতার দিকে যাচ্ছে। 

সংগঠনটির মতে, দুষ্কৃতকারীদের হামলায় নিহত ও আহতের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়া রাজনৈতিক সহিংসতার নৃশংসতা বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। জানুয়ারি মাসের নির্বাচনি সহিংসতাকে তারা মাসটির অন্যতম সবচেয়ে ভয়াবহ মানবাধিকার সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

নির্বাচনি পরিবেশের সঙ্গে সমান্তরালভাবে জানুয়ারি মাসে মব সন্ত্রাস বা গণপিটুনির ঘটনাও ভয়াবহভাবে বেড়েছে। এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে গণপিটুনির ২৮টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২১ জন, যেখানে ডিসেম্বরে ২৪টি ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ছিল ১০ জন, অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে নিহতের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।

এমএসএফ বলছে, গণপিটুনির ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থাহীনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে। 

সংগঠনটি জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হত্যা করা ফৌজদারি অপরাধ এবং এটি বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

নির্বাচনি অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জানুয়ারি মাসে অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের সংখ্যাও বেড়েছে। জানুয়ারিতে ৫৭টি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে ডিসেম্বরে এ সংখ্যা ছিল ৪৮। এ ছাড়া ডিসেম্বরে কারা হেফাজতে মৃত্যু ছিল ৯ জন, জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু ২টি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হয়েছে ১ জন। 

এমএসএফ বলছে, এসব পরিসংখ্যান সমাজে সহিংসতা, গুম এবং বিচার-বহির্ভূত হত্যার আশঙ্কাকে আরও জোরালো করে। প্রতিবেদনটিতে নির্বাচনি সময়ের আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে মামলায় আসামির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার ডিসেম্বরে ১৬ জন, জানুয়ারিতে ৮ জন। সরকার পতনের পর সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার মামলায় ডিসেম্বরে নাম উল্লেখ করা আসামির সংখ্যা ছিল ৩০, জানুয়ারিতে তা ১২০ জনে দাঁড়িয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা ছিল ১১০, জানুয়ারিতে বেড়ে তা দাঁড়িয়েছে ৩২০ জনে।

এমএসএফের মতে, এ অবস্থা আইনগত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও গণমামলার প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। নির্বাচনী অস্থিরতার ছায়ায় সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাও বেড়েছে। জানুয়ারি মাসে প্রতিমা ভাঙচুর, বাড়িঘর ভাঙচুর ও মামলাসহ সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১৫টি, যেখানে ডিসেম্বরে ছিল মাত্র ৪টি। এমএসএফ বলছে, এটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পুনরুত্থান এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন।

এমএসএফের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, মানবাধিকারের প্রতিটি ক্ষেত্রে অবনতি দেখছি আমরা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনের আগে এসে রাজনৈতিক মামলায় আসামির সংখ্যা বাড়ানোতেই বেশি মনোযোগী। 

তিনি আরও বলেন, মব সন্ত্রাস ও অজ্ঞাতনামা লাশের সংখ্যা বাড়লেও তা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। বরং সরকারের কোনো কোনো মহল থেকে মব সন্ত্রাসের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানো হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা