প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০৭ এএম
বাঙালির জাতিসত্তা, স্বকীয়তা আর সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার রক্তাক্ত আন্দোলনের গৌরবগাথা-রচিত মাস শুরু হলো আজ। বছর ঘুরে আবারও ফিরে এলো প্রাণের মাস ও ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। রবিবার থেকে সকল বাঙালির আবেগমাখা কণ্ঠে মহান ভাষাশহীদদের স্মরণে ধ্বনিত হচ্ছেÑ ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি।’
ফেব্রুয়ারি বাঙালির অহংকার ও গর্বের মাস। এ মাস একুশের শহীদদের স্মৃতিবাহী শোকাবহ মাস। এ কারণে মাসটিকে পালন করা হয় পরম মমতায়। এ মাসে চলে বাঙালি পাঠকের সবচেয়ে বড় উৎসব মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা। মাসজুড়ে দেশে-বিদেশে থাকে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের কারণে এবার বইমেলা পিছিয়ে গেছে ১৯ দিন। অন্যান্য আয়োজনও হয়ে পড়েছে সীমিত। তারপরও ভাষার মাসের চেতনা জাগ্রত রয়েছে সবার মনে-মগজে।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার অর্জন করেছিলেন বাঙালি তরুণরা। ভাষা আন্দোলনের ওই আত্মত্যাগের মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের পথ। যে পথ ধরে বাঙালি এগিয়ে যায় স্বাধীনতার সংগ্রামে। পাকিস্তান থেকে আলাদা রাষ্ট্র হয়ে একাত্তরে আত্মপ্রকাশ ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের।
১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ মাতৃভাষা বাংলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে লড়াই-সংগ্রাম শুরু করেছিল, ১৯৫২ সালের জানুয়ারিতে বাঙালির সেই প্রতিবাদ রূপ নিয়েছিল অগ্নিস্ফুলিঙ্গে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছিল পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশন। সেজন্যই সেদিন ধর্মঘট ডাকতে বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর ধর্মঘট প্রতিহত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও তার আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
সেই ১৪৪ ধারা ভেঙেই সেদিন মিছিল নিয়ে এগিয়ে যায় বাংলার দামাল ছেলেরা। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্দেশে মিছিলের ওপর পুলিশের গুলি চলে। শহীদ হন রফিক, শফিক, জব্বার, বরকত, শফিউদ্দীন, সালামসহ আরও অনেকে। এর দুই বছর পর ১৯৫৪ সালের ৭ মে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকার করে প্রস্তাব গ্রহণ করে।
১৯৯৮ সালে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে উদযাপনের জন্য জাতিসংঘে আবেদন করেন কানাডাপ্রবাসী রফিকুল ইসলাম এবং আব্দুস সালাম। ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ভাষার জন্য বাঙালির আত্মত্যাগের দিনটি তাই আজ বিশ্বের সব ভাষাভাষীর অধিকার রক্ষার দিন।