মেরিনা লাভলী ও এহসানুল হক সুমন, রংপুর
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৪ পিএম
ঘনিয়ে আসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে কাক ডাকা ভোর থেকে রাত অবধি ছুটে চলেছেন রংপুরের প্রার্থীরা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। আগামী সংসদে গিয়ে অধিকার পূরণের দাবি জানাচ্ছেন ভোটাররা।
অন্যদিকে ন্যায্যতা, অধিকার ও সুশাসন
প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দূর করাসহ কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের বাণী প্রার্থীদের মুখে মুখে। হাট-বাজার,
শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ, অফিস-আদালত, পাড়া-মহল্লা-চায়ের দোকানে সর্বত্রই ভোটের আলাপ।
চলছে প্রার্থী নির্বাচনে চুলচেরা বিশ্লেষণ। নির্বাচনে রংপুরে বিএনপি, জাতীয় পার্টি,
জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ ১৪টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা
করছেন। এ ছাড়া ৭ স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ৬টি
সংসদীয় আসনে এবার মোট প্রার্থী ৪৪ জন। নির্বাচনের দৌড়ে এবার কোথাও এগিয়ে বিএনপি, কোথাও
জাতীয় পার্টি আবার কোথাও জামায়াতে।
রংপুর-১
তিস্তা নদীবেষ্টিত রংপুর-১ আসনে নির্বাচনী
মাঠে বিএনপি ও জামায়াত। প্রতীক বরাদ্দের পর এ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা ছিল।
কিন্তু বিএনপি প্রার্থীর করা রিটে মনোনয়ন বাতিল হয় জাতীয় পার্টির প্রার্থীর। এতে জামায়াতের
কিছুটা সুবিধা এনে দিয়েছে। জানা যায়, গঙ্গাচড়া উপজেলা ও রংপুর সিটি করপোরেশনের ৯টি
ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত রংপুর-১ আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা
করছেন। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে প্রথমবারের মতো নির্বাচনের মাঠে নেমেছিলেন
ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী (লাঙ্গল)। শুরুতে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা
মনোনয়নপত্র বাতিল করলেও পরে নির্বাচন কমিশনে আপিলে তার মনোনয়নপত্র বৈধ হয়। তবে মনোনয়নের
বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেন বিএনপি প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন। উচ্চ আদালতের
আপিল ডিভিশন ২৭ জানুয়ারি জাপা প্রার্থী মঞ্জুম আলীর মনোনয়ন বাতিল করে দেন। জাতীয় পার্টির
কোনো প্রার্থী না থাকায় রংপুর-১ আসনে লড়াই হবে দ্বিমুখী।
এদিকে নির্বাচনী মাঠে লড়ছেন বিএনপির
শক্তিশালী প্রার্থী জেলা বিএনপির সদস্য মোকাররম হোসেন সুজন। ২০২৪ সালে উপজেলা নির্বাচনে
অংশ নিয়ে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এদিকে দশ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে
নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি রায়হান সিরাজী। বিগত দিনে
তিনি রংপুর-১ আসনে দলকে গোছানোর চেষ্টা করেন। রায়হান সিরাজী ভোটযুদ্ধে ভালো করবেন বলে
জামায়াতের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ধারণা।
ভোটাররা বলছেন, বিএনপির মোকাররম হোসেন
সুজন গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। সর্বশেষ তিনি গঙ্গাচড়ার
মানুষের ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তাই জনপ্রিয়তার দিক থেকে সুজন এগিয়ে
আছেন এটা দিনের মতো সত্য। এলাকার মানুষের যেকোনো বিপদে-আপদে ছুটে গিয়ে পাশে দাঁড়ান
তিনি। এলাকার দুঃখী, অসহায়, গরিব মানুষের নির্ভরশীল আশ্রয়, চিরচেনা বন্ধু তিনি। জামায়াতের
রায়হান সিরাজী মহানগরের সেক্রেটারি হওয়ায় সিটি করপোরেশনের ৯টি ওয়ার্ডের মানুষের কাছে
সুপরিচিত।
সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে দুই প্রার্থীই
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতসহ নানা
উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভোটাররা মনে করেন বিগত দিনে বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার
অভিজ্ঞতা আছে। ক্ষমতায় থাকতে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে। ফলে বিএনপির প্রতি ভোটারদের
ঝুঁকে পড়াটা অস্বাভাবিক নয়। রংপুর-১ আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেনÑ হাতপাখা মার্কায়
ইসলামী আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা, কাঁচি মার্কায় বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের
আহসানুল আরেফিন ও মোমবাতি মার্কায় ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আনাস। এ আসনে ৩ লাখ ৭৫
হাজার ২২৭ ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৩১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার
৩৯২ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন।
রংপুর-২
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-২
(বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে লড়ছেন হেভিওয়েট বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী। স্বাধীনতার
পর রংপুর-২ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৭ বার, জাতীয় পার্টি ৫ বার ও বিএনপি
একবার বিজয়ী হয়েছিল। আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকায় এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে
হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য
আনিছুল ইসলাম মণ্ডল।
রংপুর-২ আসন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির
উর্বর ভূমি। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে নেই। ফলে ভোটের হিসেব-নিকেশে জাতীয় পার্টির আনিছুল
ইসলাম মণ্ডল এগিয়ে থাকবেন বলে মনে করেন সচেতন ভোটাররা। অন্যদিকে জেলা বিএনপির প্রার্থী
মোহাম্মদ আলী সরকারও জোরেশোরে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অস্টম জাতীয় সংসদে তিনি
জাতীয় সংসদ সদস্য ছিলেন। তাই রংপুর-২ আসনের মানুষের কাছে তিনি পরীক্ষিত একজন জনপ্রতিনিধি।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিপুলসংখ্যা
গরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করবে এমন বক্তব্য দিয়ে মোহাম্মদ আলী সরকার রংপুর-২ আসনের কাঙ্ক্ষিত
উন্নয়নে ভোট চাইছেন। সেই সঙ্গে সংসদীয় এলাকার উন্নয়নে অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর
কথা বলছেন তিনি। অন্যদিকে এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হলেন সিনিয়র নায়েবে আমির এটিএম
আজহারুল ইসলাম। এ আসনটি জামায়াতের জন্য মর্যাদার। কিন্তু জামায়াতের প্রার্থীর বিজয়ী
হওয়াটা সহজসাধ্য ব্যাপার না। কারণ ভোটের মাঠে থাকা হেভিওয়েট বিএনপি ও জাতীয় পার্টির
প্রার্থী রয়েছেন।
প্রচার-প্রচারণায় জাতীয় পার্টি, বিএনপি
ও জামায়াতের ৩ প্রার্থীই বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, কর্মসংস্থান
সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, মৌলিক চাহিদা পূরণ ও আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি নিশ্চিতে
কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করছেন। এ আসনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা
করছেন হাতপাখা মার্কায় ইসলামী আন্দোলনের আশরাফ আলী ও তারা মার্কায় জেএসডির আজিজুর রহমান।
রংপুর-২ আসনে ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯২১ ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯২ হাজার ২৮৮ জন, নারী
১ লাখ ৮৮ হাজার ৬২৪ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৯ জন।
রংপুর-৩
রংপুর-৩ আসন জাতীয় পার্টির দুর্গ।
প্রায় ৩৮ বছর ধরে এ আসনে দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনে প্রতিনিধিত্ব করেছেন
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, স্ত্রী রওশন এরশাদ, ছেলে সাদ এরশাদ ও সর্বশেষ বর্তমান চেয়ারম্যান
জিএম কাদের। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে জাতীয় পার্টি দুর্গের আসন রক্ষায় কাজ করছেন।
সংসদ নির্বাচনে এ আসনে দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চেয়ারম্যান জিএম কাদের। রংপুর-৩
আসনকে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজ, দখলবাজ ও দুর্নীতিবাজদের হাত থেকে রক্ষায় আগামী নির্বাচনে
লাঙ্গলে ভোট চান জিএম কাদের।
অন্যদিকে সদর আসনকে পিছিয়ে রাখার
নেপথ্যে জাতীয় পার্টিকে দায়ী করে জোরেশোরে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন হাতপাখা মার্কার
ইসলামী আন্দোলনের আমিরুজ্জামান পিয়াল, ধানের শীষ মার্কার বিএনপি প্রার্থী সামসুজ্জামান
সামু, দাঁড়িপাল্লা মার্কার জামায়াতে প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান বেলাল ও হরিণ মার্কার
তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী।
ভোটের মাঠে আমিরুজ্জামান পিয়াল সর্বশেষ
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৫০ হাজার ভোট পেয়ে চমক দেখান। নগরীতে ইসলামী আন্দোলন সাংগঠনিকভাবে
শক্তিশালী হওয়ায় জিএম কাদেরের শক্ত প্রতিপক্ষ হতে পারে আমিরুজ্জামান পিয়াল। তিনি বিজয়ী
হলে ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবেন বলে ভোটারদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে দিনরাত গণসংযোগ,
উঠান বৈঠকসহ প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনে জিতলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক
রহমান এ এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন। এ ছাড়া নানা উন্নয়নের
প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন সামসুজ্জামান সামু।
জামায়াতের প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান
বেলালও অন্য প্রার্থীদের মতো সমানতালে নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। গত
সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসনে জিএম কাদেরের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে চমক সৃষ্টি করেছিলেন
তৃতীয় লিঙ্গের হরিণ মার্কার প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী।
রংপুর-৩ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেনÑ
মই মার্কায় বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের আব্দুল কুদ্দুস, কাঁচি মার্কায় বাংলাদেশের
সমাজতান্ত্রিক দলের (মাকর্সবাদী) আনোয়ারা হোসেন বাবলু ও সূর্যমূখী মার্কায় স্বতন্ত্র
প্রার্থী রিটা রহমান।
রংপুর-৩ আসনে ৫ লাখ ৮ হাজার ২২৩ ভোটারের
মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ জন, নারী ২ লাখ ৫৫ হাজার ৮৪৮ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার
৫ জন।
রংপুর-৪
শিল্পপতির আসন খ্যাত রংপুর-৪ আসন। প্রায় ৩০ বছর ধরে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন
শিল্পপতিরা। সংসদেও গেছেন তারাই। সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ আসনে ধানের শীষের বিএনপির
প্রার্থী শিল্পপতি এমদাদুল হক ভরসা। স্বাধীনতার পর এ আসনে ৪ বার এমপি হয়েছেন জাতীয়
পার্টির প্রার্থী। তাই এবার আসনটি উদ্ধারে মরিয়া দলটির নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে এনসিপির প্রার্থী আখতার
হোসেন ১১ দলীয় জোট থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাই এ আসনটি এনসিপির জন্য মর্যাদার।
দশ দলীয় জোটের প্রার্থী হওয়ায় এ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী সরে দাঁড়িয়ে তাকে সমর্থন
দিয়েছেন। দশ দলীয় জোটের প্রার্থী আখতার হোসেন সাদামাটা পোশাক পড়ে গ্রামের মেঠোপথে হেঁটে
ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন।
১৯৯৬ সাল থেকে ২০২৪ সালের নির্বাচন
পর্যন্ত তিস্তা নদীবেষ্টিত রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে শিল্পপতিরা নির্বাচিত হয়ে
এসেছেন। এর মধ্যে ভরসা পরিবার থেকে বিএনপির হয়ে রহিম উদ্দিন ভরসা ও জাতীয় পার্টির হয়ে
করিম উদ্দিন ভরসা নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সালের নির্বাচনে রংপুর-৪
আসনে শিল্পপতি আওয়ামী লীগের টিপু মুনশি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে দ্বাদশ জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য রহিম উদ্দিন ভরসার
ছেলে বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা। তাই আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে পূর্বপরিচিত
এমদাদুল হক ভরসা। নির্বাচনের লক্ষ্যে তিনি সশরীরে পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলার ভোটারদের
সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। দলকে সুসংগঠিত করাসহ মানুষের কল্যাণে কাজ করায় ভোটের দৌড়ে
তিনি সবার চেয়ে এগিয়ে। এমদাদুল হক ভরসা ভোটের মাঠে দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি।
অন্যদিকে বিগত সময়ে রংপুর-৪ আসনে
৪ বার জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই আসনটি পুনরুদ্ধারে নির্বাচনী
মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন লাঙ্গল মার্কায় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আবু নাসের শাহ মাহবুবার
রহমান।
রংপুর-৪ আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা
করছেন হাতপাখা মার্কায় ইসলামী আন্দোলনের জাহিদ হোসেন, রিকশা মার্কায় বাংলাদেশ খেলাফত
মজলিসের আবু সাহমা, ডাব মার্কায় বাংলাদেশ কংগ্রেসের উজ্জ্বল চন্দ্র রায়, কাঁচি মার্কায়
সমাজতান্ত্রিক দলের (মাকর্সবাদী) প্রগতি বর্মণ তমা ও হরিণ মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থী
শাহ আলম বাসার।
রংপুর-৪ আসনে ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ জন
ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫০ হাজার ৭৮৮জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ১১৩ জন
ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন।
রংপুর-৫
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে এবার ত্রিমুখী
লড়াই হওয়া সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতের তিন প্রার্থীই
জোরেশোরে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম
রব্বানী ও বিএনপি প্রার্থী গোলাম রব্বানী। দুই দলের প্রার্থীর নাম একই হওয়ায় ভোটারদের
মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
মিঠাপুকুরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলন অধ্যাপক গোলাম
রব্বানী। জামায়াতে প্রার্থী গোলাম রব্বানী নির্বাচনে সহজে বৈতরণী পাড় হওয়ার সুযোগ খুব
একটা পাবেন না বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী ভোটারদের মনোযোগে
রয়েছেন। বিএনপি প্রার্থীর বিপুল জনপ্রিয়তা জামায়াতে প্রার্থীকে ত্রিশঙ্কু অবস্থায় ফেলেছে।
তারপরও জামায়াতের নেতাকর্মীরা মনে করেন তাদের প্রার্থীর বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।
নির্বাচিত হয়ে মিঠাপুকুরের উন্নয়নে কাজ করে যাবেন জামায়াত প্রার্থী।
এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোণঠাসা
মিঠাপুকুর বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের পর চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। ওয়ার্ড, ইউনিয়নসহ উপজেলা কমিটি
কাউন্সিল করে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে। তাই নেই কোনো দলীয়
কোন্দল। উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় অধ্যাপক গোলাম রব্বানী এ নির্বাচনে
জামায়াতের শক্ত প্রতিপক্ষ। নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তারেক রহমানের
রাষ্ট্র সংস্কার ও আসনের উন্নয়নে বিএনপির পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি ভোট চাইছেন।
অন্যদিকে রাজনীতি থেকে সাময়িক নীরবতা
কাটিয়ে ভোটের মাঠে সক্রিয় হয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী শিল্পপতি এসএম ফখর-উজ-জামান
জাহাঙ্গীর। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি আসনের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের
স্বার্থে লাঙ্গল মার্কায় ভোট চাচ্ছেন। নৌকাবিহীন নির্বাচনে এবার আওয়ামী লীগের ভোট পেলে
জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর এগিয়ে যেতে পারেন বলে মনে করছেন সচেতন
ভোটাররা।
রংপুর-৫ আসনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি,
জামায়াত ছাড়াও হাতপাখা মার্কায় ইসলামী আন্দোলনের গোলজার হোসেন, কেটলি মার্কায় নাগরিক
ঐক্যের মোফাখখারুল ইসলাম নবাব, কাস্তে মার্কায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির
আবু হেলাল, গল মার্কায় এবি পার্টির আব্দুল বাছেত, কাঁচি মার্কায় বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক
দলের (মাকর্সবাদী) বাবুল আক্তার ও ডাব মার্কায় বাংলাদেশ কংগ্রেসের মাহবুবুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা
করছেন।
এ আসনে ৪ লাখ ৬৯ হাজার ১৮৯ জন মোট
ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩২ হাজার ৪৬২ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২৩ জন
ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৪ জন।
রংপুর-৬
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) ভিআইপি আসন হিসেবে
খ্যাত। এ আসন থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার সংসদ সদস্য
হয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী
৬ বার, আওয়ামী লীগের প্রার্থী ৭ বার ও বিএনপির প্রার্থী ২ বার বিজয়ী হয়েছিলেন।
আসনটিতে বিজয়ী হতে এবার নির্বাচনী
আসনে ছুটে বেড়াচ্ছেন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা। মনে করা হচ্ছে রংপুর-৬ আসনে এবার
বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এ আসনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জাতীয়
সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী এমপি ছিলেন। তবে এবার নির্বাচনের সমীকরণ ভিন্ন।
জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের দুর্গের এবার মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
করেছিলেন বিএনপির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম। তাই পীরগঞ্জের ১৫টি ইউনিয়নবাসীর কাছে পরিচিত
মুখ সাইফুল। তিনি এলাকায় রাজনৈতিক-সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা
করেছেন। এ ছাড়া আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির
সাইফুল ইসলামকে আওয়ামী লীগের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মণ্ডল সমর্থন দিয়েছেন
বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এই গুঞ্জন সত্যি হলে ভোটের দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন বিএনপির সাইফুল
ইসলাম।
অন্যদিকে রংপুর-৬ আসনে চাঙ্গা হয়ে
উঠেছে জামায়াতের রাজনীতি। একাধিকবার দলের আমির শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করতে এসে
দলকে সক্রিয় ও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেছেন। জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিন
(দাঁড়িপাল্লা) সুবক্তা হওয়ায় এলাকায় তার জনপ্রিয়তা বেশ। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে
দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। নির্বাচনী প্রচারণায়
তারা ভোটারদের কাছে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
রংপুর-৬ আসনে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থী
ছাড়াও লাঙ্গল মার্কায় জাতীয় পার্টির নুর
আলম মিয়া, ঈগল মার্কায় বাংলাদেশ পার্টির ছাদেকুল ইসলাম, মার্কায় ইসলামী আন্দোলনের সুলতান
মাহমুদ, ঘোড়া মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাফর মো.
জাহিদ, ফুটবল মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থী খন্দকার শাহিদুল ইসলাম ও সূর্যমুখী
মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থী তাকিয়া জাহান চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ আসনে ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩৫ জন ভোটারের
মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৬ হাজার ১০২ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬২৯ জন ও তৃতীয়
লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন।