প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২৩:০৭ পিএম
প্রতীকী ছবি
শ্রমিকের অধিকার ও স্বার্থ উপেক্ষা করে শ্রম আইন সংশোধনের অভিযোগ তুলে এর বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন।
এ অবস্থায় শ্রম আইন সংশোধনসংক্রান্ত বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকটি কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে।
জানা গেছে, উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তির (পিএসসি) খসড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রম আইন ও বিধি থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারী কোম্পানির শ্রমিকদের জন্য শ্রমিক মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিল (ডব্লিউপিপিএফ) রাখার বাধ্যবাধকতা বাতিলের সুপারিশ করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করতে ইতোমধ্যে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্রমিক সংগঠনগুলো শুরু থেকেই এ ধরনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে আপত্তি ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।
এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকেলে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। এতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় শ্রমিক নেতারা শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি সম্মান রাখার দাবি জানান। তারা বলেন, শ্রম মন্ত্রণালয় ও ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে তাড়াহুড়া করে শ্রম আইন সংশোধনের যেকোনো উদ্যোগ শ্রমিকের অধিকার লঙ্ঘনের শামিল হবে।
বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার বলেন, “ডব্লিউপিপিএফ শ্রমিকের আইনগত অধিকার। দেশের আইন না মেনে যদি এই সুবিধা বাদ দেওয়া হয়, তবে তা শ্রমিকের স্বার্থের পরিপন্থি হবে”।
তিনি আরও বলেন, “সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ডব্লিউপিপিএফ সুবিধা বাদ দেওয়ার যে প্রস্তাব দিয়েছে, আমরা তার তীব্র বিরোধিতা ও প্রতিবাদ করেছি”।
বাবুল আক্তার বলেন, “দেশের প্রচলিত আইনে সব কোম্পানির শ্রমিকদের জন্য ডব্লিউপিপিএফ বাধ্যতামূলক। কিন্তু শুধু বিদেশি বিনিয়োগকারী কোম্পানির শ্রমিকদের এই সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া আইনবিরোধী এবং শ্রমিকের অধিকার হরণ”।
বাবুল আক্তার জানান, সভায় শ্রমিক সংগঠনগুলো স্পষ্টভাবে বলেছে—এই মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা ও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে আলোচনার মাধ্যমে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
শ্রমিক সংগঠনগুলোর আপত্তি ও প্রতিবাদের মুখে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান বাবুল আক্তার। তবে বিষয়টি নিয়ে আগামী রবিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে আবারও।
এ বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সভায় উল্লেখযোগ্য কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি”।
বাংলাদেশে ২০০৬ সালে আইন করে শ্রমিক মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিল (ডব্লিউপিপিএফ) গঠন করা হয়। এ আইন অনুযায়ী শতভাগ রপ্তানিমুখী ও বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শ্রমিক কল্যাণের জন্য তাদের লাভের ৫ শতাংশ এই তহবিলে জমা দিতে হয়। এই তহবিল থেকে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।
ডব্লিউপিপিএফের মাধ্যমে একদিকে রাষ্ট্র নিয়মিত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব পায়, অন্যদিকে শ্রমিক কল্যাণ, ন্যায্য সম্পদ বণ্টন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়।