প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:১০ পিএম
ঢাকার বিএমএ ভবনে বৃহস্পতিবার অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্সর (আত্মা) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সদ্য অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম সংসদ অধিবেশনে পাস করার আহ্বান জানিয়েছে অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা)।
ঢাকার বিএমএ ভবনে আত্মা’র উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকালে আয়োজিত এক সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এটিকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে অধ্যাদেশ পাসের প্রক্রিয়ায় তামাক কোম্পানির অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি সংসদে আইন আকারে গৃহীত হলে নতুন প্রজন্ম নিকোটিনজাত পণ্য ব্যবহার শুরু করতে পারবে না এবং বিদ্যমান তামাকপণ্য ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হবে। এর ফলে নারী, শিশু ও অধূমপায়ীরা পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাবে। পাশাপাশি দেশে তামাকজনিত মৃত্যু ও আর্থ-সামাজিক ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
বক্তারা বলেন, “অধ্যাদেশটি জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও এর স্থায়ী সুফল নিশ্চিত করতে সংসদে আইন হিসেবে পাস করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সংবিধান অনুযায়ী, আসন্ন জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশটি উপস্থাপনের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পাস না হলে এটি বাতিল বলে গণ্য হবে”।
সভায় আরও জানানো হয়, তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুমোদনের সময় তামাক কোম্পানিগুলোর নজিরবিহীন হস্তক্ষেপের কারণে খোলা বা খুচরা তামাকপণ্য বিক্রি বন্ধ, ভ্রাম্যমাণ ও ফেরি করে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ, লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু এবং তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কর্মসূচি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব চূড়ান্ত অধ্যাদেশ থেকে বাদ পড়েছে। ভবিষ্যতে নীতি-প্রণয়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
আলোচনায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ তামাক ব্যবহার করে। প্রতিবছর তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের ফলে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা তামাক খাত থেকে অর্জিত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি। এ প্রেক্ষাপটে অধ্যাদেশটি সংসদে পাস হলে সরকার ও জনগণ উভয়ই লাভবান হবে বলে মত দেন বক্তারা।
সভায় সংগঠনের ৫৬ জন সদস্যের উপস্থিতিতে আত্মা’র কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোকপাত করেন সংগঠনের কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী ও প্রজ্ঞা’র (প্রগতির জন্য জ্ঞান) হাসান শাহরিয়ার। বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন চ্যানেল আই-এর প্রধান বার্তা সম্পাদক মীর মাশরুর জামান রনি, আত্মা’র কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ, সদস্যসচিব এবিএম জুবায়েরসহ অন্যরা।
বক্তারা আরও বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশনে সব অধ্যাদেশ উপস্থাপন ও ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পাস করতে হয়, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।”
এ প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি উল্লেখ করে নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী সময়কে কেন্দ্র করে অধ্যাদেশ পাসের বিষয়ে অনুসন্ধানী ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরির আহ্বান জানানো হয়।