প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৫২ পিএম
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৫৩ পিএম
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বুধবার বিকালে তার দপ্তরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
ভারতের কূটনীতিকরা চাইলে তাদের পরিবারকে সরাতেই পারেন, তবে ‘সিকিউরিটি কনসার্ন’ জানায়নি বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
উপদেষ্টা বুধবার বিকালে তার দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেছেন।
এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, “ইন্টারন্যাশনাল অবজার্ভার কোন কোন দেশ থেকে আসছে? ইউরোপীয় ইউনিয়নটা আমরা জোরেশোরে জানি; সাউথ এশিয়ার কোন দেশ থেকে অবজার্ভার আপনার আসছে কি না? ইন্ডিয়া থেকে কেউ আসার ইন্টারেস্ট করেছে কি না? সেক্ষেত্রে আপনার রেসপন্স কী?”
এর জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “আসলে এ ব্যাপারে আমার কাছে খুব ডিটেলস তথ্য নেই। কারণ তথ্যটা সরাসরি চলে যায় হচ্ছে ইলেকশন কমিশনে। এবং আমরা প্রথম থেকে এমনও বলেছি যে আমরা আগ বাড়িয়ে কোনো হেল্পও করতে যাব না। কারণ তাহলেই মনে হবে যে আমরা কোনো পক্ষ নেয়ার চেষ্টা করছি।
“কোনো হেল্প লাগলে আমরা হেল্প করব। বাকিটা নির্বাচন কমিশন যেভাবে হ্যান্ডেল করবেন তারা করবে। এখন পর্যন্ত ইউরোপ থেকে তো বড় দল আসবে এটা কনফার্ম। দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাপারে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।”
“যে যে দেশ থেকে আসবে অবশ্যই হয়তো কিছু স্ক্রুটিনি হতেই পারে। যদি কোনো… যারা আসলে নির্বাচন অবজার্ভ না করে যদি অন্য কোনো কাজে কেউ আসার চেষ্টা করে, সেটা হয়তো হোম মিনিস্ট্রি এবং মিশনগুলো হোম মিনিস্ট্রির নেতৃত্বে দেখবে। আমরা চাই যে ম্যাক্সিমাম সংখ্যক অবজারভার আসুক।”
সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে উপদেষ্টা বলেন, “এটা কিন্তু খুব স্পষ্ট অবস্থা সরকারের যে আমরা সমস্ত পৃথিবী থেকে ম্যাক্সিমাম অবজার্ভার… ম্যাক্সিমাম সাংবাদিক আমরা চাই। আমরা এটাও চাই যে সব সংবাদ সংস্থা থেকে যথেষ্ট পরিমাণ সাংবাদিকরা আসুক। তারা দেখুক। কারণ আমাদের জন্য লুকানোর কিছু নাই। আমরা চাই যে ট্রান্সপারেন্ট সবকিছু হোক এবং অবজার্ভার আসুক সর্বোচ্চ সংখ্যক, সাংবাদিকরা আসুক সর্বোচ্চ সংখ্যক।”
আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, “ভারতে আমাদের মিশনগুলোতে ভিসা প্রসেসিং যেটা বন্ধ ছিল, সেটা কী অবস্থায় থাকবে? ভারতীয় সাংবাদিকরা কিংবা ভারতে কর্মরত ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়ার সাংবাদিকরা যদি নির্বাচন কাভার করতে চায় তাদের ভিসা প্রসেসটা (কী হবে)?”
উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, “তাদের আসার ব্যবস্থা মানে অলরেডি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে তারা যেন আসতে পারেন সে ব্যবস্থা করার জন্য।”
সাধারণ ভিসা প্রসেসিং বন্ধ থাকবে কি না—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেছেন, “এখন বন্ধ আছে বন্ধ, আমরা সময় হলে খুলব। তবে এই আগামী আট-দশ দিনের মধ্যে এটা না করাই সমীচীন হবে।”
সাংবাদিকের প্রশ্ন, “আমরা দেখলাম যে যত পর্যবেক্ষক দল ঢাকা আছে, বা যারা যারা আছেন, তাদেরকে আপনাদের পক্ষ থেকে আপনারা আশ্বস্ত করতে পেরেছেন নিরাপত্তা বা যাবতীয় বিষয়ে। কিন্তু ভারতের প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করতে পারলেন না—এটা কি আপনাদের ব্যর্থতা, না কি তাদের?”
জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “এখানে ব্যর্থতা সাফল্যের কিছু নেই। এটা একটা দেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা নিয়ে যাবে তাদের সাংবাদিক, তাদের পরিবার পরিজনকে। এ ব্যাপারে এখানে ব্যর্থতারই বা কি আছে, আর এখানে সাফল্যেরই বা কি আছে? এতে সাফল্যের ব্যর্থতার কিছু নেই।”
এক সাংবাদিক ভারতের কূটনীতিকদের বক্তব্য টেনে বলেন, “ইন্ডিয়ান হাই কমিশন থেকে বলা হয়েছে ওসমান হাদি মারা যাওয়ার পরে ১৭, ১৮ ডিসেম্বর ওদের হাই কমিশনের বোমা সাদৃশ্য বস্তু পাওয়া গিয়েছিল এবং শঙ্কা থেকেই ওরা ওদের ডিপ্লোমেটদের সরিয়ে নিযয়েছে। আমরা যদি দেখি সিন্ধু অপারেশন যখন চলছিল, তখন পাকিস্তান থেকেও কিন্তু কুটনৈতিকদের পরিবার সরিয়ে নেয়।”
“দেখুন আমি এগুলি তুলনার মধ্যে যেতে চাই না। তারা কেন করেছে সেটা আমি যতটুকু জানি, আপনারাও ততটুকু জানেন” বলেন উপদেষ্টা।
এরপর সেই সাংবাদিক জিজ্ঞস করেন, “সিকিউরিটি কনসার্ন আপানাদের জানিয়েছে কি না?”
তখন উপদেষ্টা বলেন, “সিকিউরিটি কনসার্ন ওইভাবে আমাদেরকে জানায়নি। তবে তাদের মিশনকে যখন মিশনের চারদিকে যখন ঘেরাও-টেরাও হয়েছিল, আমাদের মিশনেও হয়েছে। আমরা তখন জানিয়েছি আমাদের কনসার্ন যে নিরপত্তা ব্যবস্থা কর। তারাও জানিয়েছে নিরাপত্তার ব্যবস্থা কর। এবং আমরা নিরাপত্তার অ্যাডিকুয়েট ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। তাতে তারা সন্তুষ্ট কি না—সেটা তো আমাদের কিছু করার নেই। আমাদের যেটুকু সম্ভব আমাদের পক্ষে সেটা করেছি, তারা চেয়েছে সেটা আমরা দিয়েছি।”
রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন করতে গিয়ে এক সাংবাদিক বলেন, “…আমরা দেখলাম যে সৌদির সঙ্গে আমাদের যে একটা অ্যালায়েন্স বা বৈঠক সেখানে ৬৯ শতাংশ রোহিঙ্গাকে আসলে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং অলরেডি ওয়ান থার্ড ডান। …প্রশ্নটি হচ্ছে যে এই বিষয়টি ভবিষ্যতে রোহিঙ্গার ক্রাইসিসকে সুরাহা করতে আমাদের এগেইন্স্টে কোনো প্রভাব পড়বে কি না? আরেকটা বিষয় হচ্ছে—আমরা যেসব রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট দিচ্ছি, ওইখানে যদি তারা কোনো অকারেন্স করে বা অপরাধের সাথে জড়িত হয় তখন সেই দায়ভার কে নেবে?”
উত্তরে উপদেষ্টা
বলেন, “আমার মনে হয় এত ডিটেইলসে আমরা না যাই। বিষয়টা হচ্ছে এরকম—আমাদেরই ত্রুটির কারণে প্রচুর রোহিঙ্গা বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে
সেখানে গেছে বহু বছর আগে। তখন হাতে লেখা পাসপোর্ট ছিল। প্রচুর দুর্নীতির অভিযোগও এর
মধ্যে আছে। সিচুয়েশনটা এরকম দাঁড়িয়েছে, যারা আমাদের পাসপোর্ট নিয়ে গেছে, সৌদিরা
ইনসিস্ট করছে তাদেরকে যেন আমাদের পাসপোর্ট আমরা রিনিউ করে দেই। একটা সিদ্ধান্ত যখন
নেওয়া হয় কোনো দেশের প্রেক্ষিতে সেখানে আরো অনেক স্বার্থ জড়িত থাকে।
“তো এটুকু শুধু জেনে রাখুন যে আমরা এটা চেষ্টা করেছিলাম যাতে করতে না হয়, কিন্তু আমাদের অন্যান্য স্বার্থের কারণে আমরা এটা করতে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা এই ৬৯ হাজারকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেব।”
“এটার কারণে শুনুন, পাসপোর্ট মানে এই না যে সে বাংলাদেশের নাগরিক। পাসপোর্ট কিন্তু যে কোনো দেশের নাগরিককে পাসপোর্ট দেওয়া যায় এবং এটার উদাহরণ প্রচুর আছে সমস্ত পৃথিবীতে। অন্য দেশের নাগরিককেও আপনি পাসপোর্ট দিতে পারেন একটা পারপাসে সে গেল ইত্যাদি ইত্যাদি।”
সরকারের উদ্দেশ্য তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের মূল বিষয়টা হচ্ছে যে এই মানুষগুলি মিয়ানমার থেকে এসেছে তারা এথনিসিটি নিয়ে তারা গবেষণা করতে থাকুক; সেটা হলো অন্য জিনিস। কিন্তু এই মানুষ যারা এখানে এসেছে, ১৩ লক্ষ—তাদের পূর্বপুরুষরা শত শত বছর যাবত ওখানে ছিলেন। কাজেই তাদেরকে ফেরত নিতে হবে এবং এটা সমস্ত পৃথিবী স্বীকার করে যে তারা রোহিঙ্গারা একটা জনগোষ্ঠী যেটা মিয়ানমারের আরাকানের অধিবাসী।
“তো আমাদের সেই পয়েন্ট অফ ভিউ থেকেই এটাকে ডিল করতে হবে এবং এসব টেকনিক্যাল ইস্যুর কারণে আটকে থাকবে না। আমরা যদি তাদেরকে ফেরত দেওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, সেটা করতে গিয়ে আমাদের আরো অন্যান্য অনেক কাজ আছে—এইসব ছোটখাট টেকনিক্যাল ইস্যুতে সেটা আটকে থাকবে না।”
এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, “ওয়াশিংটন পোস্টের সম্প্রতি একটি নিবন্ধ এসেছে, একটা অডিও লিকের কথা বলা হচ্ছে। মার্কিন কূটনীতিক বলছেন যে অমুক দল ক্ষমতায় এসে অমুক রকম আইন করতে চাইলে আমরা তাদের উপর এত পারসেন্ট ট্যাক্স দেব—এটাকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির হস্তক্ষেপ মনে করেন কি না “
উপদেষ্টা বলেন, “আমি এটা নিয়ে আমি কোনো কমেন্ট করতে চাই না। কারণ এগুলি আমরা জানি না যে কে আসবে আর কি হবে—স্পেকুলেট করে তো লাভ নেই। আমরা দেখব যে কে নির্বাচনে জেতে, তারা ক্ষমতায় আসবে, তারপর তারা কি করে সেটা তারা তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ডিল করবে।”
আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, “নতুন কোনো অ্যাম্বাসেডর আসলে বড় দেশগুলো তারা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পত্র পেশ করার পর পরই… এই অ্যাম্বাসেডরের সঙ্গে চিফ ইলেকশন কমিশনার, হেড অফ দ্য গভর্নমেন্ট, জুডিশিয়ারি সবার বৈঠক হলো আপনার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হলো কি?”
উপদষ্টা এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “না, এটার কারণটা একটু অন্যরকম। এটা আসলে আমাদের পক্ষ থেকে সম্ভব ছিল না। কারণ যেই দেখাগুলি করেছেন সময় তো অল্প। করা প্রয়োজন ছিল তারপর তারা রিকোয়েস্ট করেছে, যেহেতু আমি ছিলাম না, এভেইলেভল ছিলাম না বলেই; আমি বলেছি ঠিক আছে ওনারা দেখা করতে পারে। আমার সঙ্গে জিজ্ঞেস করেই এই কাজটা করা। এটা নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।”
চীনের ড্রোন কারখানা কি বাংলাদেশে হচ্ছে? এটা অন্য দেশের কনসার্ন আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “আমি পত্রিকাতে দেখলাম যে হচ্ছে।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
জানে না? পত্রিকা দেখে জানতে হয়েছে—এমন পাল্টা প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, “না, এই ধরনের
কোলাবোরেশন তো হচ্ছে। তো একটা ফ্যাক্টরি যদি হয়, একটা ফ্যাক্টরি হওয়া তো আসলে পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের বিষয় না। এখন যদি অন্য কেউ… এখন বিষয়টা হচ্ছে যে, ভারতে যা কিছু হয় অথবা
পাকিস্তানে যা কিছু হয়, এটা নিয়ে কি আমার কী মতামত সেটার কোনো গুরুত্ব আছে?”
“এটা কি আপনার সরকার ব্যবস্থা কাঠামোর, না বাংলাদেশের ক্ষেত্রে—এ প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বরেণ, “না বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। বাংলাদেশে যদি কোনো একটা কিছু, ফ্যাক্টরি ইন্ডাস্ট্রি কিছু করার চেষ্টা করে, চিন্তা করে বা সেটআপ করে, অন্য একটা দেশের সহযোগিতায়—সেটা বাংলাদেশ নিজের স্বার্থে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে করবে। অন্য কে কী মনে করবে তাতে কিছু আসে যায় না।”
ওসমান হাদির বড় ভাইকে
ব্রিটেনে হাই কমিশনে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “ডেপুটি হাই
কমিশনার করা হয় নাই, তাকে সেকেন্ড সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, বহাল আছে।”