প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ২৩:১৭ পিএম
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ২৩:১৮ পিএম
দেশের শীর্ষ পাঁচ শিল্পোদ্যোক্তার সঙ্গে সোমবার বৈঠক করেছেন ঢাকায় নবনিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনের সময় দেশের শীর্ষ পাঁচ শিল্পোদ্যোক্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নবনিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এই বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে মেঘনা গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল সোমবার সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে এসেছেন। এই সফরের অংশ হিসেবে তিনি দেশের শীর্ষ পাঁচ ব্যবসায়ীর সঙ্গে একটি ঘরোয়া ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এ সময় আগামী দিনে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরও সহজ করা এবং মার্কিন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে।
মোস্তফা কামাল বলেন, “বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তা কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ আমাদের কীভাবে সহায়তা করতে পারে, সেটিই ছিল আলোচনার মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে কৃষি পণ্য আমদানি এবং উন্নত যন্ত্রপাতি বা ইকুইপমেন্টের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আমরা আশাবাদী”।
মোস্তফা কামাল আরও উল্লেখ করেন, এই আলোচনা মূলত অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা কেন্দ্রিক ছিল, যেখানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার উপায়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া অপর এক ব্যবসায়ী নেতা যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষি পণ্য আমদানির গুরুত্ব তুলে ধরেন জানান, দীর্ঘ আট বছর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টা আমদানি শুরু হয়েছে। এছাড়া পোল্ট্রি খাতের জন্য উন্নত জেনেটিক্স, সয়াবিন এবং ডেইরি খাতের মানোন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। তবে জাহাজ ভাড়া বা ফ্রেইট কষ্টের ক্ষেত্রে ব্রাজিল বা অন্যান্য দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় কিছুটা বেশি হওয়ায়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নের মাধ্যমে এই খরচ কীভাবে কমানো যায়, সে বিষয়েও রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ও সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে সহায়ক হবে বলে রাষ্ট্রদূত মনে করেন। বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বন্দরের ট্রাফিক জট নিরসন এবং নীতিগত সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে কীভাবে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
এক ঘণ্টার এই বিশেষ বৈঠকে মেঘনা গ্রুপ, প্যারাগন গ্রুপ, নাহার গ্রুপ, টিকে গ্রুপ এবং সিটি গ্রুপের শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী নেতারা আশা প্রকাশ করেন, এই আলোচনার মাধ্যমে আগামীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে এবং প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।