প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৩৭ পিএম
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:২৭ পিএম
কারাবন্দীদের প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে নতুন ও কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ছবি: বাসস
কারাবন্দীদের প্যারোল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন ও কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর পর তার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কারাবন্দীদের প্যারোলে মুক্তি প্রদানের ক্ষেত্রে এখন থেকে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই এসব বিধান শিথিল করা যাবে না।
নীতিমালার পটভূমি
যশোর কারাগারে আটক সাদ্দামের প্যারোল সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে নানা প্রশ্ন ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করে আগের নীতিমালা বাতিল করে নতুন করে সমন্বিত নীতিমালা জারি করে।
পুরনো নীতিমালা বাতিল করে ১ জুন ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে জারি করা প্যারোলের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নতুন নীতিমালাটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
প্যারোলের নতুন নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ —
১. নিকট আত্মীয়ের মৃত্যুতে প্যারোল
ভিআইপি ও অন্যান্য সকল শ্রেণীর কয়েদি বা হাজতি বন্দির নিকট আত্মীয়—যেমন বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি এবং আপন ভাই-বোনের মৃত্যুর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে।
২. বিশেষ পরিস্থিতিতে প্যারোল
নিকট আত্মীয়ের মৃত্যু ছাড়াও কোনো আদালতের আদেশ কিংবা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্যারোলে মুক্তি প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্দিকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে।
উভয় ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনায় প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ মুক্তির সময় নির্ধারণ করবেন।
৩. পুলিশ প্রহরা বাধ্যতামূলক
প্যারোলে মুক্ত বন্দীকে সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরায় রাখতে হবে।
৪. সময়সীমা সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা
প্যারোলে মুক্তির সময়সীমা ১২ ঘণ্টার বেশি হবে না। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার এ সময়সীমা হ্রাস বা বৃদ্ধি করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করবে।
৫. এলাকা ও দূরত্ব বিবেচনা
যদি কোনো বন্দি নিজ জেলার কারাগারে আটক থাকেন, তাহলে ওই জেলার অভ্যন্তরে যে কোনো স্থানে প্যারোল মঞ্জুর করা যাবে।
অন্যদিকে, কোনো বন্দি নিজ জেলার বাইরে অন্য জেলার কারাগারে আটক থাকলে গন্তব্যের দূরত্ব বিবেচনায় প্যারোল মঞ্জুর করা যাবে।
তবে উভয় ক্ষেত্রেই দুর্গম এলাকা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, দূরত্ব ও নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে প্যারোল মঞ্জুর বা না-মঞ্জুর করার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করবেন।
৬. পুনরায় কারাগারে ফেরত
কারাগারের ফটক থেকে পুলিশ বন্দিকে বুঝে নেওয়ার পর অনুমোদিত সময়সীমার মধ্যেই পুনরায় কারাগারে প্রেরণ করবে।
প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটই প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
আগের নীতিমালা বাতিল
এই নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা শাখা-২ থেকে এর আগে ২০০৭ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এবং ২০১০ সালের ৪ মার্চ জারি করা প্যারোল সংক্রান্ত সকল স্মারক ও নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন জারিকারী ও বিতরণ প্রজ্ঞাপনটি স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মোহাম্মদ আলী ভট্ট।
বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি, অতিরিক্ত সচিব (কারা), সকল বিভাগীয় কমিশনার, কারা মহাপরিদর্শক, সকল জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর একান্ত সচিবকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।