× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাগ্‌যুদ্ধে জমজমাট ভোটের প্রচার

রাহাত হুসাইন

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪২ এএম

প্রচারের তুঙ্গে থাকা নির্বাচনি মাঠে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দর পারস্পরিক বাগ্‌যুদ্ধ যোগ করেছে বাড়তি উত্তাপ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

প্রচারের তুঙ্গে থাকা নির্বাচনি মাঠে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দর পারস্পরিক বাগ্‌যুদ্ধ যোগ করেছে বাড়তি উত্তাপ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ


দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনি হাওয়া। শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার। শহরের অলিগলি থেকে গ্রামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলÑ সর্বত্রই নির্বাচনি আমেজ। জনসংযোগ, লিফলেট বিলি, দলীয় প্রতীক নিয়ে শোভাযাত্রা ও স্লোগানে স্লোগানে সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। প্রচারের তুঙ্গে থাকা নির্বাচনি মাঠে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দর পারস্পরিক বাগ্‌যুদ্ধ যোগ করেছে বাড়তি উত্তাপ। প্রার্থীরা একে অপরকে ঘায়েল করতে বেছে নিয়েছেন ব্যক্তিগত আক্রমণ, তির্যক মন্তব্য আর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। নির্বাচনি জনসভা থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমÑ সবখানেই তপ্ত বাক্যবাণের লড়াই। 

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোটারদের প্রত্যাশা থাকে, রাজনৈতিক দলগুলো বিজয়ী হলে জনস্বার্থে কী করবে বা তাদের নীতি অন্যদের চেয়ে কতটা আলাদা তা জানা। কিন্তু বাস্তবেÑ নির্বাচনি প্রচার যত এগোচ্ছে, প্রার্থীদের মধ্যে বিভেদও তত বাড়ছে। বিশেষ করে বড় রাজনৈতিক দলগুলো একে অন্যকে আক্রমণ প্রতি-আক্রমণেই বেশি সময় ব্যয় করছে। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে পাশাপাশি থেকে আন্দোলনকারী দলগুলোর মধ্যেও নির্বাচনি মাঠে তৈরি হয়েছে দূরত্ব। তারাও একে অন্যের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে পাশে টানতে চাইছে ভোটারদের। নির্বাচনি লড়াইয়ে যা চরম আকার ধারণ করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেনÑ এই ধারাটি গণতন্ত্র এবং সুস্থ রাজনৈতিক ধারার জন্য অনুকূল নয়। বরং এর মাধ্যমে পুরাতন এবং বিভাজনের রাজনীতিকে উস্কে দেওয়া হচ্ছে। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের মাঠে নেই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। ফলে এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। দীর্ঘদিনের মিত্র দল দুটি এখন হয়ে উঠেছে পরস্পরের প্রতিপক্ষ। ভোটের মাঠে একে অন্যকে তারা বাক্যবাণে বিদ্ধ করছে। নির্বাচনি সভায় জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটসঙ্গীরা কড়া সমালোচনা করছেন বিএনপি এবং দলটির প্রধান তারেক রহমানের। জবাবে বিএনপি এবং তারেক রহমানও ছাড় দিচ্ছেন না। কোনো দলের নাম মুখে না নিয়েও অত্যন্ত কৌশলী ভাষায় তিনিও পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন।

গতকাল শনিবার গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “কাউকে ভাতার লোভ দেখিয়ে ভোট চাই না, কাজ দিয়ে দেশকে বেকারমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিতে চাই। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আমরা বেকার যুবক-যুবতীদের কাজের ব্যবস্থা করে দেব। যে দলের নেতারা দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় না।”

একই দিন রাজধানীর নয়াপল্টনে এক দোয়া মাহফিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমাদের জন্য কাজ করুন, আপনার বিকাশ নম্বর দিন, আমরা সেখানে কিছু পাঠাব। এটি নির্বাচনি আচরণবিধির মধ্যে পড়ে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।”

এর আগে খুলনার ডুমুরিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার তারেক রহমানকে ‘বড় মুফতি’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “বিলেত থেকে এসে উনি এখন ফতোয়া দিচ্ছেন কে মুসলমান আর কে কাফের। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে উনার সৌজন্যবোধ থাকা উচিত ছিল।”

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি জোটের শরিক দল এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহও বিএনপির কড়া সমালোচনা করে পটুয়াখালী-২ আসনে শফিকুল ইসলাম মাসুদের নির্বাচনি সমাবেশে বলেছেন, “এবার দেখলাম একটা দল ৪৫ জন চোরকে আবার সংসদে ঢোকাচ্ছে।”

এদিকে ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় এক সভায় বলেছেন, “একটি বড় দল বিগত সরকারের মতো ‘গুন্ডাতন্ত্র’ কায়েমের চেষ্টা করছে এবং নির্বাচনের পর দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। ভোটাররা যাতে ভয় না পেয়ে গণভোট ও সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, সেদিকে আমাদের জোর দিতে হবে।’”

এই বাক্যযুদ্ধে গতকাল শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়ারপুর ইউনিয়নের ভাতগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশের মানুষের ওপর যারা গুলি চালিয়েছিল এবং অত্যাচার-নির্যাতন করেছিল, তারা এখন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলে অবস্থান করছে।’”

মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ফেসবুক লাইভ এবং ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে সমর্থকদের তীব্র বাগ্‌যুদ্ধ। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা নির্বাচনি মাঠের হিংসা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে না পড়ুক। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে ভোটের মাঠে সব রাজনৈতিক দলেরই সহনশীল ও সংযত আচরণ জরুরি।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বাগ্‌যুদ্ধ বা নেতিবাচক মন্তব্য সব সময় প্রাসঙ্গিক নয়। ভোটের মাঠের উত্তেজনাপূর্ণ কথাবার্তা নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।

“রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে যদি পারস্পরিক সহনশীলতার অভাব থাকে তাতে ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারেন এবং অনেকে ভোটদানের প্রক্রিয়া থেকেও দূরে থাকতে পারেন। এজন্য নির্বাচনি আচরণে প্রার্থী ও নেতৃবৃন্দের সংযত ও সহনশীল আচরণ জরুরি।”

ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, জনস্বার্থের প্রতিশ্রুতি ছাপিয়ে বাগ্‌যুদ্ধ ততই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এই উত্তপ্ত প্রচারণার প্রভাব শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলে কীভাবে পড়ে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা