প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৩১ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিবৃতি দিয়েছে চীনের দূতাবাস। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ব্যাপক প্রভাব ও যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে বাংলাদেশকে জানানোর বিষয় নিয়ে সদ্য নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের মন্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে চীন।
চীনের দূতাবাসের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান, যা বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় দূতাবাসের ফেইসবুক পোস্টে তুলে ধরা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বুধবার বিকালে কয়েকটি দৈনিকের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সে সময় তার কাছে দেশটির সিনেটের শুনানির প্রসঙ্গ টেনে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।
প্রশ্নের জবাবে ক্রিস্টেনসেন বলেন, “শুনানিতে আমি যেমন বলেছিলাম, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের সার্বিক প্রভাব নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে।
“বাংলাদেশে আমি সব বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখব, সেটা অন্তর্বর্তী সরকার বা নতুন নির্বাচিত সরকার হোক। এখানে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে যুক্ততায় ঝুঁকির যে বিষয়টি রয়েছে, সেটা আমি স্পষ্টভাবে তুলে ধরব”।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ ও কিছু ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে বাংলাদেশকে জানানোর বিষয়ে উল্লেখ করা হয় চীনা দূতাবাসের মুখপাত্রের বিবৃতিতে।
সেখানে চীনের দূতাবাসের মুখপাত্র বলেন, “বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের এ ধরনের মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই ধরনের মন্তব্যে সঠিক ও ভুল গুলিয়ে ফেলা হয়েছে এবং এর পেছনে সুস্পষ্ট অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে।
“কূটনৈতিক সম্পর্ক
প্রতিষ্ঠার পর গত ৫০ বছরে চীন ও বাংলাদেশ সব সময় একে অপরকে সমর্থন করেছে, সমতার ভিত্তিতে
সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতায় যুক্ত হয়েছে। চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা
দুই দেশের জনগণের জন্য বাস্তব সুফল বয়ে এনেছে এবং ব্যাপক জনসমর্থন পেয়েছে। এই সহযোগিতা
আঞ্চলিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক”।
“চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে
না। তাদের উচিত দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়া এবং এই অঞ্চলের উন্নয়নে সহযোগিতামূলক
পদক্ষেপে মনোনিবেশ করা” বলে বিবৃতির শেষাংশে উল্লেখ করেছে চীন।