× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সংশয় সংঘাতের মধ্যে ভোটের প্রচার শুরু

দীপক দেব ও তানভীর হাসান

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০৪ এএম

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:১৯ এএম

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ শেষ হয়েছে। কোলাজ ছবি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ শেষ হয়েছে। কোলাজ ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ শেষ হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের প্রচার শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার থেকে। প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও পথসভা করবেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। বিএনপির পক্ষ থেকে আজ সিলেট থেকে এই প্রচারাভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করবেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকা থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রচারাভিযান শুরু করবেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ ছাড়া তিন নেতার মাজার ও শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করার কথা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। 

এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করার প্রস্তুতির মধ্যেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে একাধিক সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। সর্বশেষ গত বুধবার ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর আমিরের আসনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় পার্টিকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এনসিপি নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভোটের মাঠে থাকা বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরাও পরিবেশ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেণে রাখতে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের প্রচারকাজ শুরুর দিন থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন পুলিশ প্রধান। তারপরও ভোটে প্রচারের নামার আগে নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কেউ কেউ। তবে চলমান সংঘাতের মধ্যেই প্রচারকাজ শুরু হওয়ায় নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সচেতন মহলে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। 

সারা দেশে প্রতীক বরাদ্দ শেষ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গতকাল বুধবার রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া শেষ হয়েছে। এবার মোট দুই হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ছিলেন ২ হাজার ৮৭ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৪৮১ জন। যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থী রয়েছেন ১ হাজার ৮৪২ জন। এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫১টি রাজনৈতিক দল। তবে প্রতীক পেয়ে প্রার্থীরা সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশার কথা জানানোর পাশাপাশি পরিবেশ নিয়ে আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন। ঢাকা-৬ আসনে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ইসিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবদুল মান্নান। প্রতীক বরাদ্দের পর তিনি নির্বাচন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে গত ১৪ জানুয়ারি ইসিতে লিখিত অভিযোগ দেন বলে গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

যেভাবে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করবে দলগুলো

সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথা অনুযায়ী সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করবে বিএনপি। গতকাল রাতে সিলেটে পৌঁছানোর পর রাতেই হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন তারেক রহমান। আজ সকালে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন তিনি। প্রথম দিনেই বিএনপি চেয়ারম্যানের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় প্রচারকাজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। 

অন্যদিকে রাজধানী ঢাকা থেকে জাতীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করবেন ঢাকা-১৫ আসনে ১০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে জনসভায় অংশ নেবেন তিনি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকার বাইরের নির্বাচনী সফর শুরু করবেন দলের আমির। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হবে এই নির্বাচনী সফর। প্রথমে দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ ঈদগাহ মাঠে জনসমাবেশে যোগ দেবেন তিনি। এরপর পর্যায়ক্রমে যোগ দেবেন পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও গাইবান্ধার সমাবেশে।

এ ছাড়া রাজধানীতে তিন নেতার মাজার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় দলটির নেতারা তিন নেতার মাজার ও শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম শুরু করবেন। এ কর্মসূচিতে দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, আসিফ মাহমুদ, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, আদিব আরিফ, মনিরা শারমিন, জাবেদ রাশিন, দিলশানা পারুল ও নাবিলা তাসনিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পার্টি রংপুর থেকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের করব জিয়ারত করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করার কথা জানিয়েছে। 

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে প্রশ্ন, থাকছে সংঘাতের শঙ্কা

আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরুর আগের দিন গতকাল বুধবার ইসিতে গিয়েও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো দলের প্রধান ও দলের পক্ষ থেকে যে সমস্ত কথা বলা হচ্ছে, মিডিয়ায় আসছে সেগুলো নিয়ে কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতেই বোঝা যায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।’ 

এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগের ৬০ ফুট এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর কল্যাণপুরে ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মিরপুরে আহত নেতাকর্মীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি এ ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেন। এ ছাড়া পীরেরবাগে নারী কর্মীদের হেনস্থার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের উদ্যোগে এই মিছিল হয়। হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল থেকে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই, কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না। কিন্তু তারা যদি আমাদের সঙ্গে বিশৃঙ্খলা করতে আসে, আমরা ছাড় দেব না। জামায়াত-শিবিরকে দুর্বল ভাবার কোনো সুযোগ নেই। এ দেশের মানুষ আগামীতে জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।’ এর আগেও গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

এসব ঘটনার কারণে আনুষ্ঠানিক প্রচারকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ-সংঘাত এবং সহিংস আচরণের আশঙ্কা করছে। পেশিশক্তি প্রদর্শন, বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধির আশঙ্কাও করা হচ্ছে।

অন্যদিকে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে র‍্যাব কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দিয়ে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ‘নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় আমাদের কোনো প্রার্থীকে কোনোভাবেই যেন হাদি ভাইয়ের মতো পরিণতি বরণ করতে না হয়। সরকারের কাছে প্রত্যাশা, যাতে কোনো অবৈধ অস্ত্র না থাকে, কোনো সংঘাত না হয়, কোনো ভোটার বা প্রার্থীর যেন ক্ষতি না হয়।’ 

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরাও চিন্তার বিষয়

এদিকে ভোটের পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার বিষয়ে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরাও ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে বিএনপির শরিক দলগুলোকে ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে এর প্রভাব দেখা যেতে পারে। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার বিদ্রোহী প্রার্থীসহ তাদের পক্ষ নেওয়া প্রায় ৫৯ জনকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জাতীয় পার্টি নিয়ে ঘটতে পারে অপ্রীতিকর ঘটনা

নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ঘিরেও সংঘাত-সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। গতকাল রাজশাহীতে সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে এনসিপির এক নেতা বলেছেন, ‘জাতীয় পার্টিকে প্রতীক দেওয়া হলে রাজশাহীতে কোনো নির্বাচন হবে না, নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।’ তবে অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদেরও প্রতীক বরাদ্দ দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার। এই দিন সকাল থেকে রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থীদের উপস্থিতিতে প্রতীক বরাদ্দ চলছিল। দুপুরে সেখানে গিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে একটি লিখিত অভিযোগ দেন এনসিপির কার্যক্রম স্থগিত থাকা জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার সাবেক আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম ওরফে সাজু। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় পার্টি (জাপা) কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো প্রচার কর্মসূচি রাখছে না। দলটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় আলাদাভাবে ভোটের প্রচার চালাবেন।

যা প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার 

এদিকে সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গতকাল বুধবার প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে নির্বাচনকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৩০০টি আসনে ৩০০টি নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের আগে চার দিন, ভোটের দিন ও ভোটের পর দুই দিনÑ মোট আট দিনের জন্য ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ন্যূনতম ১৫ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সাধারণ ভোটকেন্দ্রে এই সংখ্যা ১৫ থেকে ১৭ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ থেকে ১৯ জন পর্যন্ত হতে পারে। প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রের ভেতর প্রিসাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তায় সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া পুলিশ, আনসার, ভিডিপি ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হবে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে ২৫ হাজার ৫০০টি বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।

৪২ হাজার ৭৬৯টি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তার ছক

নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তার ছকও তৈরি করা হয়েছে। সূত্রমতে, এবার সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৬৯টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হতে পারে, এমন ধারণা নিয়ে নিরাপত্তার ছক তৈরি করা হয়েছে। ঝুঁকি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এসব কেন্দ্রকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে লাল (অধিক গুরুত্বপূর্ণ) কেন্দ্রের সংখ্যা ৮ হাজার ৭৭০টি, হলুদ (গুরুত্বপূর্ণ) কেন্দ্রের সংখ্যা ১৬ হাজার ৬৭৫টি ও সবুজ (সাধারণ) কেন্দ্রের সংখ্যা ১৭ হাজার ৩২৪টি চিহ্নিত করে নিরাপত্তার ছক তৈরি করা হয়েছে। 

সূত্রমতে, সম্প্রতি ইসির সঙ্গে আইজিপি দেখা করে নির্বাচনী প্রচার ও ভোটের সময়ের নিরাপত্তা পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা করেন। ইসি থেকে ভোটের মাঠে সহিংসতা রোধে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আইজিপিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী গতকাল রাত থেকেই প্রতিটি থানায় বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা পুলিশ লাইনেও পর্যাপ্ত সংখ্যক রিজার্ভ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানায়, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার জনবল, প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত মোতায়েনÑ সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যা দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মোতায়েনকৃত ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৬৩ জনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

হাঁস পেলেন রুমিন ফারহানা, ফুটবল জারার : সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে তার কাঙ্ক্ষিত ‘হাঁস’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত প্রতীক পেয়ে উচ্ছ্বসিত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার হাঁসগুলো যখন চুরি হয়, আমি চোরকে ছাড়ি নাই। আমি মামলা করেছি, জেলেও ভরেছি। আমার এই হাঁস (প্রতীক) যদি কেউ চুরি করার চিন্তাও করে, আমি যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’ অন্যদিকে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীক পেয়েছেন। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে তাসনিম জারা জানান, বৃহস্পতিবার (আজ) থেকে তার নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে। এই প্রচারের মূল ভিত্তি হবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার রাজনীতি।

নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী

এদিকে কুমিল্লা-৪ আসনে ঋণখেলাপির অভিযোগে মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল বুধবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ।

পোস্টাল ভোটিং শুরু

‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে গতকাল বুধবার বিকাল ৫টা থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট প্রদান প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইসি। প্রবাসীদের পাশাপাশি ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা এবং হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরাও এই অ্যাপ ব্যবহার করে ভোট দিতে পারবেন। ইসি এক বার্তায় জানিয়েছে, ভোট দেওয়ার পর পোস্টাল ব্যালটসহ হলুদ খাম আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে নিকটস্থ পোস্ট অফিস বা ডাকবাক্সে জমা দিতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা