× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চলনবিল

নীল পানি আর হলদে সরিষা ফুলে এগ্রো ট্যুরিজমের হাতছানি

ফারুক আহমাদ আরিফ

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:২৩ পিএম

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:০৫ পিএম

নীল পানি আর হলদে সরিষা ফুলে এগ্রো ট্যুরিজমের হাতছানি

চলনবিলে বর্ষায় থৈ থৈ নীল পানি। শুষ্ক মৌসুমে সরিষার ফুলের সমারোহ। রয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বিজড়িত স্থান শাহজাহাদপুর। যমুনা নদীবেষ্টিত এ অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক পর্যটন কার্যক্রম গড়া সম্ভব হলেও কোনো সরকারই এগিয়ে আসেনি। অথচ এ অঞ্চল হতে পারে বড় ধরনের পর্যটন কেন্দ্র।

সরেজমিনে সিরাজগঞ্জ দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা সরিষা ফুল দেখতে এসেছেন। তারা মৌচাষিদের মধু সংগ্রহ দেখে অভিভূত। ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়াচ্ছে মৌমাছি। তাদের ভন ভন শব্দে এক মোহনীয় তৈরি হয়েছে। হলদে সরিষা ফুলে মৌমাছির আগমনে এক ধরনের কম্পন তৈরি হয়। এতে ফুলের থোকা দুলে উঠে।

কথা হলে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কাওসার আজম বলেন, এগ্রো ট্যুরিজমের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা বর্ষাকালে থৈ থৈ পানি থাকে। তখন এটিকে সমুদ্রের মতো মনে হয়। জেলেরা মাছ ধরে। এসব মাছ ভেজে খাওয়ার জন্য কোথাও কোথাও কিছু রেস্টুরেন্টও হয়েছে। আবার বর্ষার পর সিরাজগঞ্জের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে সরিষার আবাদ হয়। সবুজ সরিষা গাছে হলুদ ফুলের সমারোহ ঘটে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত এ অবস্থা চলে। তখন অন্য এক চলনবিলের উদ্ভব ঘটে। তা ছাড়া পাবনা অঞ্চলে পেঁয়াজ ও নাটোর অঞ্চলে রসুনের আবাদ হয়। এসব এলাকা দেখতেও অপরূপ। তখন দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ছুটে আসে। এখানে সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে এগ্রো ট্যুরিজমের বিপুল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হবে।

তিনি বলেন, বর্ষা ও শীত দুই মৌসুমে চলনবিল অঞ্চলে পর্যটকরা যায়। সেখানে সমস্যা হচ্ছে থাকার জায়গা নেই। সরকারিভাবে বেশি কিছু রেস্টুরেন্ট করে দিতে পারে। বিশেষ করে উল্লাপাড়ার মোহনপুর ইউনিয়নে রেল স্টেশন রয়েছে। সেখানে সব রেল থামে না। এখানে রেলগুলো থামানো গেলে পর্যটকরা ঘুরে ফিরে আবার রেলে ঢাকা বা আশপাশের জেলাগুলোতে চলে যেতে পারত।

কী বলছেন ভ্রমণপিপাসুরা

বরিশাল থেকে সিরাজগঞ্জে বেড়াতে গিয়েছেন মো. নিজামুল হক। তিনি বলেন, বরিশালে এতো বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে সরিষার আবাদ নেই। আমার সন্তানদেরও এমন বিস্তৃর্ণ অঞ্চল দেখাতে পারিনি। আমি দেখে যাচ্ছি। আগামীতে পরিবারসহ বেড়াতে আসব।

কুমিল্লা থেকে সরিষা ফুল দেখতে সিরাজগঞ্জে বেড়াতে যান মো. নূরে আলম। তিনি বলেন, আমরা বিদেশি মধু কিনি। অথচ এখানে অনেক মৌচাষিদের সঙ্গে কথা হলো। তাদের মধুগুলো খাটি। এসব মধু খেয়ে দেখলাম। দাম হাতের নাগালে। এ অঞ্চলে সরিষা ফুল দেখার সঙ্গে সঙ্গে মধু নিয়েও ভ্রমণপ্রেমিরা ঘরে ফিরতে পারবে। এসব মধু বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও থাকা-খাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধিতে সরকারের কিছু পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) জেরিন আহমেদ বলেন, বর্ষা মৌসুমে চলনবিল পানিতে তলিয়ে যায়। তখন এক অপার সৌন্দর্য ফুটে উঠে। আবার শীতকালে সরিষা, পেঁয়াজ, রসুন ও অন্যান্য শাক-সবজির আবাদ হয়। বিশেষ করে সরিষার সৌন্দর্যটি সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর। এ অঞ্চল ঘিরে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পৃষ্টপোষকতা দরকার।


পার্টনার (প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রূরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেসিলেন্স ইন বাংলাদেশ) প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর (পিসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরিষাকেন্দ্রিক ট্যুরিজম করতে গেলে মধুর উৎপাদন কমে যেতে পারে। কেননা মৌমাছি খুবই সেন্সেটিভ প্রাজাতির। মানুষের উপস্থিতি বেশি হয়ে গেলে মধু আহরণে বাধাগ্রস্ত হবে। তাই অন্যান্য ক্ষেত্রে এগ্রো ট্যুরিজমকে উৎসাহিত করলেও মধুকেন্দ্রিক আমাদের কিছুটা ভিন্ন পথ অবলম্বন করতে হবে।

সিরাজগঞ্জের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা ও টাঙ্গাইলের মধ্যে নির্মিত দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘতম এবং বিশ্বের ১১তম দীর্ঘ সেতু যমুনা সেতু। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪.৮ কি. মি. এবং প্রস্থ ১৮.৫ মি.। দুটি জেলাকে সংযোগ করা সেতুটি রাজশাহী, রংপুর বিভাগের সঙ্গে ঢাকাকে যুক্ত করেছে। তা ছাড়া রয়েছে হার্ডপয়েন্ট, রাণীগ্রাম গ্রোয়েন, কাঁটাখাল, ইলিয়ট ব্রীজ ইত্যাদি। ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব দরবেশ মখদুম শাহের মাঝারও সিরাজগঞ্জে অবস্থিত। তিনি শাহজাদপুরে পুরানো শাহী মসজিদের পার্শ্ববর্তী কবরস্থানে শায়িত। তা ছাড়া শাহজাদপুরের আর একটি বিখ্যাত ও জনপ্রিয় পুরাকীর্তি হচ্ছে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শাহজাদপুরের কাচারিবাড়ী। এটি রবীন্দ্রনাথের পৈতৃক জমিদারি তত্ত্বাবধানের কাচারি ছিল। রবীন্দ্রনাথ ১৮৯০ থেকে ১৮৯৬ মোট ৭ বছর জমিদারির কাজে শাহজাদপুরে আসা-যাওয়া এবং অবস্থান করেছেন।

এছাড়া বাংলাদেশের বৃহত্তম দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটার বড় কারখানাটি শাহজাদপুরের বাঘাবাড়িতে অবস্থিত। কারখানায় দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়াও দুগ্ধজাত ঘি, মাখন, দই, আইসক্রিমসহ নানা ধরনের পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। মিল্কভিটার প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ দুধ শাহজাদপুরের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের দুগ্ধ খামার থেকে সংগৃহীত।

প্রকৃতি নির্ভর পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান খবির উদ্দীন বলেন, করোনা মহামারির পর থেকে মানুষ অনেকটাই প্রকৃতিপ্রেমি হয়েছে। চলনবিলকে ঘিরে নেচারবেইজড (প্রকৃতি নির্ভর) পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। এ অঞ্চলে যেমন পানি আছে তেমনি শুষ্ক মৌসুমে রয়েছে অন্য আরেক উপাদান। এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যকে রক্ষা করে পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। সেজন্য সেসব অবকাঠানো ও যোগাযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা দরকার তা করতে হবে। 

তিনি বলেন, একেকটি অঞ্চলের একেক ধরনের বৈশিষ্ট থাকে। সেই বৈশিষ্টগুলো বজায় রাখতে হবে। সেখানকার মানুষের রুটি-রুজি বৃদ্ধিতে পর্যটন যেমন নতুন দুয়ার খুলবে তেমনি জাতীয় অর্থনীতিকেও সমৃদ্ধ করবে।

ট্যুরিজমের মাস্টার প্ল্যানে চলনবিল নিয়ে বিশেষ চিন্তা রয়েছে

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) নুজহাত ইয়াসমিন বলেন, পর্যটনখাতে চলনবিল একটি সম্ভাবনাময় জায়গা। আমাদের মাস্টার প্লানে চলনবিল নিয়ে বিশেষ প্লান রয়েছে। 

ট্যুরিজমের প্রমোট ও কানেকটিভিটি তৈরি করে দেয় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। একেকটা জায়গার মালিক আলাদা হয়। সেখানকার আর্কোলজিক্যাল সাইটগুলো দেখে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। আর চলনবিলের ট্যুরিজম নিয়ে আমাদের মাস্টার প্ল্যানে রয়েছে। যদিও এখনো মাস্টারপ্ল্যানটি পাস হয়নি। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা