কর্মশালায় বক্তারা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:১৪ পিএম
চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উন্নয়নের জন্য সমন্বিত কাজ করা দরকার। এক্ষেত্রে সরকারের কাজের সঙ্গে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) কাজের সমন্বয় হলে বঞ্চিত ও অভাবগ্রস্থ লোকদের উন্নতি তরান্বিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।
রাজধানীর তুলা ভবনে বৃহস্পতিবার সকালে ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘সাস্টেইনেবল ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট এন্ড লাইভলিহোড রেজিলেন্স’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একে ফজলুল হক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্লানিং পরিচালক আব্দুস সাত্তার, ফ্রেন্ডশিপের কার্যক্রম নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান সিকদার, বক্তব্য রাখেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবদুল লতিফ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. আবু সুফিয়ান, মৎস্য অধিদপ্তরের বাজেট ও অর্থ বিভাগের পরিচালক মো. সাহেদ আলী প্রমুখ।
অধ্যাপক ড. একে ফজলুল হক ভূইয়া বলেন, ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করে। তাদের জাহাজে হাসপাতাল, বোর্ড ও নৌকায় স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও কিছু কাজ রয়েছে। তারা মূলত এসব কাজের মাধ্যমে ভালনারেবল ফ্যামিলির লাইফ ও লাইভলিহোড সুন্দর করতে অবদান রাখছে। এগুলোর মাধ্যমে আগামীতে আরো কীভাবে উন্নত করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করা দরকার। এখন পর্যন্ত তাদের কাজগুলো মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করছে।
তিনি বলেন, মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে যেভাবে ফ্রেন্ডশিপের জনশক্তি কাজ করছে তা সম্মানের যোগ্য ও মানুষের আস্থারস্থলে পরিণত হয়েছে। আমাদের দেশে সরকার থেকে শুরু করে বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের মধ্যে ফ্রেন্ডশিপের কাজটি আলাদা ও বিশ্বাসযোগ্য।
ড. একে ফজলুল হক ভূইয়া বলেন, এখন ইন্টারনেটের কল্যাণে চরে বসেও একজন খামারি চিন্তা করে কীভাবে ভালো প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়? তারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রযুক্তি দেখছে। এসব প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। যেমন-ড্রাগন ফল আমাদের দেশের না হলেও এটির চাষাবাদ পদ্ধতির সঙ্গে আমরা পরিচিত হয়েছি। এখন দেশে চাষাবাদ হচ্ছে। আরাবিয়ান খেজুরও আমদানি হয় এবং চাষাবাদও হচ্ছে। এসব ফসল দেশে এনে চাষাবাদ করা যায় কিনা, এতে আর্থিক উন্নতি হয় কিনা তা নিয়ে চিন্তা হচ্ছে। এ চিন্তা কৃষক, যুবশক্তি সব দিক থেকেই হচ্ছে।
তিনি বলেন, জীবন জীবিকাকে উন্নত করতে হলে একাধিক ড্রাইভে অংশ নিতে হবে। তবে এসব করার ক্ষেত্রে স্থায়িত্ব, আর্থিক অগ্রগতির দিক থাকতে হবে।
রুনা খান বলেন, ২৩ বছর আগে ভাসমান হাসপাতাল তৈরির মাধ্যমে আমাদের কাজ শুরু হয়। তারপর অন্যান্য অনেক কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের চিন্তা হলো মানুষের মধ্যে ইন্টিগ্রেটেড না করতে পারলে আস্থা অর্জন করা সম্ভব হবে না। কেননা আমরা কাজ করতে গিয়ে দেখেছি- নদী ভাঙনের ফলে মানুষ অন্যত্র চলে যায়। তাদের মধ্যে স্থায়িত্ব নেই। তাই যে কাজ করলে তাদের স্থায়ী উপকার হয় সেসব কাজ হাতে নেওয়া হয়।
রুনা খান বলেন, কাজের জন্য অনেক টাকার দরকার নেই বরং বুদ্ধি করে কাজ করলে অল্প টাকায় ভালো কাজ করা যায়।