দীপক দেব
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:০০ এএম
আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে আগমন, অবস্থান ও প্রস্থানকে সর্বোচ্চ নজরদারির আওতায় আনছে সরকার।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে আগমন, অবস্থান ও প্রস্থানকে সর্বোচ্চ নজরদারির আওতায় আনছে সরকার। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার, নথিপত্রের কঠোর যাচাই-বাছাই এবং ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে।
নীতিনির্ধারকদের ভাষায়, এ সময়ের বিদেশি ভ্রমণ হবে একটি ‘কন্ট্রোলড ভিজিট’ ব্যবস্থার অধীনে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগমনী ভিসাসহ (ভিসা অন অ্যারাইভাল) সব ধরনের ভিসা প্রদানের আগে আবেদনকারীর কাগজপত্র, আগমনের উদ্দেশ্য, স্পন্সরকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, আবাসনের ঠিকানা এবং ফিরতি টিকিটÑ সবই যাচাই করতে হবে। সন্তুষ্ট না হলে ভিসা দেওয়া যাবে না। নিরাপত্তা ঝুঁকি, রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও ভ্রমণের বাস্তব উদ্দেশ্য একসঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।
পুরনো নীতিমালায় ‘কঠোর প্রত্যাবর্তন’:
২০০৬ সালের বিদ্যমান ভিসা নীতিমালা এবং পরবর্তী প্রজ্ঞাপন কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশকে অনেকেই পুরনো নীতির দিকে ‘কঠোর প্রত্যাবর্তন’ হিসেবে দেখছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে প্রশাসনিক বিবেচনাবোধের জায়গা কমে গিয়ে নিয়মনির্ভর যান্ত্রিকতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ২০১৬ সালের পরিপত্র অনুযায়ী বিনা ভিসায় আগতদের ক্ষেত্রে আগমনী ভিসার শর্ত কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশও গুরুত্ব পাচ্ছে।
পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য আলাদা সিল :
নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের ভিসায় বিশেষ ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ’ সিল দেওয়ার এবং ভিসা ফি মওকুফের নির্দেশ আন্তর্জাতিক স্বচ্ছতার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নিবন্ধন, অনুমোদন ও তদারকি কাঠামোর কারণে তাদের কার্যক্রমও নিয়ন্ত্রিত ফ্রেমে আসবেÑ এমন মত সংশ্লিষ্টদের।
সামরিক সদস্যদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা :
সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক যোগাযোগÑ উভয় বিষয় মাথায় রেখেই এ সতর্কতা এসেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
রিয়েল টাইম ডেটাবেইসে প্রতিদিনের আগমন-প্রস্থান তথ্য :
বিমানবন্দর, স্থল ও নৌবন্দরে ভিসা প্রদান ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রমে স্পেশাল ব্রাঞ্চ, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় জোরদারের পাশাপাশি প্রতিদিনের আগমন ও প্রস্থানের তথ্য এক্সেল ফরম্যাটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে বিদেশিদের গতিবিধি নিয়ে একটি রিয়েল টাইম ডেটাবেইস তৈরির প্রশাসনিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলছে।
নিয়ন্ত্রণ বনাম গ্রহণযোগ্যতায় দ্বিমুখী সমীকরণ :
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ও গণভোটের মতো সংবেদনশীল সময়ে ভিসা ব্যবস্থাপনাকে নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে সরকার।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি যেমন নির্বাচন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়, তেমনি তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত ও নথিবদ্ধ রাখার আগ্রহও প্রবল। সর্বশেষ নির্দেশনা এই দুই বাস্তবতার মধ্যকার ভারসাম্য খোঁজার একটি প্রয়াস হিসেবেই দেখা যাচ্ছে।