প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৫ এএম
আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:১৬ পিএম
দেশে চলমান মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। তা ছাড়া কাল সোমবার থেকে রাত ও দিনের তাপমাত্রা (সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন) ধীরে ধীরে কমতে পারে। এতে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
গতকাল শনিবার রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াসহ ১৩ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ছিল। এটি আজও অব্যাহত থাকতে পারে।।
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, সোমবার থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমতে পারে। এতে দিন ও রাতের তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য বেড়ে যাবে। ফলে শীতের অনুভূতি তীব্র হবে। দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে শীতের অনুভূতির তীব্রতা বাড়বে। এটি ধীরে ধীরে কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তার লাভ করবে। তা ছাড়া মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা পড়তে পারে। এটি কখনও কখনও দুপুর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।
এদিকে গতকাল দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড় ও চুয়াডাঙ্গায় ৮.৩ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ মৌলভীবাজারে ২৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।
দিনাজপুরে সূর্য আছে, উষ্ণতা নেই : হিলি (দিনাজপুর) প্রতিবেদক জানান, হাড়কাঁপানো শীতে দিনাজপুরসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। গতকাল আকাশে সূর্যের আলো দেখা গেলেও তার উষ্ণতা যেন পৌঁছেনি মানুষের শরীরে। ভোরের আলো ফোটার আগেই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় জনপদ। ঘর থেকে বের হলেই শরীরে লাগে শীতের তীক্ষ্ণ ছোবল। খেটে খাওয়া মানুষ, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর আর পথশিশুরা ঠান্ডার সঙ্গে লড়াই করছেন প্রতিনিয়ত। ফুটপাতের পাশে জড়োসড়ো হয়ে বসে থাকা ছিন্নমূল মানুষের চোখে-মুখে একটাই প্রশ্নÑ আজ রাতটা কীভাবে কাটবে?
স্থানীয় বাসিন্দা আক্কাস আলী বলেন, দিনে কাজ না করলে রাতে চুলায় আগুন জ্বালানোর সামর্থ্যও থাকে না অনেকের। কনকনে এই ঠান্ডা দরিদ্র মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইটাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
কোল্ড ইনজুরিতে নষ্ট হচ্ছে ধানের চারা : কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিবেদক জানান, উপজেলার কৃষকরা এবার প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। শীতে আলুর উৎপাদন ভালো হলেও ক্ষতির মুখে পড়েছে বোরো ধানের বীজতলা। অতিরিক্ত শীত ও ঘন কুয়াশায় কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হচ্ছে বীজতলা। এতে উপজেলাজুড়ে বোরো মৌসুমে চারা সংকটের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অতিরিক্ত ঠান্ডা, ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে সূর্যের আলো বীজতলায় পড়ছে না। ফলে ধান থেকে পাতা ছাড়ার আগে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে কিছু বীজতলা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে।
হানিফ, সোবহান, লিটনসহ অন্তত ১০ জন কৃষক জানান, কয়েকদিনের টানা শৈত্যপ্রবাহ আর ঘন কুয়াশার কারণে তাদের বোরো বীজতলা বিবর্ণ হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে চারাগুলো আর বাঁচানো যাবে না। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ধান চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, কৃষি অফিস থেকে সঠিক পরামর্শ না পাওয়ায় বীজতলাগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, তীব্র শীতে বীজতলায় কোল্ড ইনজুরি ও ছত্রাক আক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই কৃষকদের পলিথিন ব্যবহার, সকালে পানি পরিবর্তন এবং জমে থাকা শিশির ঝরানোর পরামর্শ দিচ্ছি। নিয়মিত উঠান বৈঠকসহ লিফলেট বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।