× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তীব্র শীতে আক্রান্ত মানুষ এবং শস্য

ফারুক আহমাদ আরিফ

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:০১ এএম

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:১১ এএম

হাড় হিম করা শীতে একটুখানি উষ্ণতার খোঁজে...। বুধবার গাইবান্ধায় বিপিএলের রংপুর রাইডার্সের বিতরণ করা কম্বল হাতে পেয়ে এমন অপার্থিব হাসিতে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে এই অশীতিপর বৃদ্ধার চোখ-মুখ। ছবি : ফোকাস বাংলা

হাড় হিম করা শীতে একটুখানি উষ্ণতার খোঁজে...। বুধবার গাইবান্ধায় বিপিএলের রংপুর রাইডার্সের বিতরণ করা কম্বল হাতে পেয়ে এমন অপার্থিব হাসিতে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে এই অশীতিপর বৃদ্ধার চোখ-মুখ। ছবি : ফোকাস বাংলা

ছয় ঋতুর বাংলাদেশে শীত পড়বেÑ এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু টানা ১৬ দিনে ভয়াবহ শীতের প্রকোপ এদেশের প্রতিবেশ-পরিবেশকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। চলতি বছর কেন এমন শীত পড়েছে তার কারণ খুঁজছেন আবহাওয়াবিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। এবারের শীত একদিকে যেমন জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে, শীতকালীন বিভিন্ন রোগব্যাধির মাত্রাকে বাড়িয়ে তুলেছে, ঠিক তেমনি কৃষিক্ষেত্রে চাষাবাদের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফলে শস্য উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এ অবস্থায় গবাদি পশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রাণী-পাখিরাও সংকটে পড়েছে এবং জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এবারের শীত ও কুয়াশার আধিক্য সারা দেশে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে চলেছে। 

প্রসঙ্গত, দেশে গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত টানা ১৬ দিন ধরে শীতের প্রকোপ বেড়েছে। এরই মধ্যে ৩১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ। এদিন ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহীসহ দেশের ১৫ জেলা ও অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। গতকাল বুধবার ঢাকা বিভাগের আটটি জেলায় এবং রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সবগুলো জেলায়, চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুর জেলায় এবং ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোণা ও সিলেটের মৌলভীবাজার জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এদিন সকাল ৬টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নওগাঁয় ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে সারা দেশে শীতজনিত রোগবালাই তথা সর্দি, কাশি, হাঁপানি, সিওপিডি এবং এমফাইসিমারের মতো রোগবালাই বেড়ে গেছে। হাসপাতালে বড় হচ্ছে রোগীর লাইন। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি ও কুয়াশার আধিক্যে কৃষি খাতে উৎপাদন কমার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

৪৪ জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ

বর্তমানে দেশের ৪৪ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। আবহাওয়া অফিস বলছে, এটি অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া কুয়াশার দাপটও থাকবে এমন আভাস রয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ ছাড়া বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। সেইসঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এ দিন সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনে সামান্য বাড়তে পারে। আগামীকাল শুক্রবারও পরিস্থিতি একই রকম থাকবে বলে আভাস পাওয়া গেছে। 

আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, আগামী শনি ও রবিবার অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ দিন বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। সেইসঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। পাশাপাশি সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়ার সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে।

রাজধানী ঢাকার পরিস্থিতি

গতকাল ভোর থেকেই রাজধানী ঢাকাকে ঢেকে রেখেছিল ঘন কুয়াশা। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালু নদের তীরবর্তী এলাকাগুলোয় কুয়াশার ঘনত্ব ছিল বেশি। ঢাকায় গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কিছুটা কাটলেও শীতের অনুভূতি রয়ে গেছে। এদিকে কয়েক দিন ধরেই শীতের প্রকোপ বেশি থাকায় মহানগরের প্রায় সবখানেই গ্যাসের চাপ কম। ফলে অনেক বাসায়ই রান্নাবান্না বন্ধ রয়েছে। হোটেলে ভিড় বেড়েছে মানুষের। রাস্তায় যানবাহন যেমন কম চলছে, তেমনি যাত্রীও নামছে কম।

কেন এমন শীত

শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশীদ বলছেন, ‘শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির কারণ হচ্ছে সর্বোচ্চ (দিনের) ও সর্বনিম্ন (রাতের) তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যাওয়া। সাধারণত এ পার্থক্য ১০ ডিগ্রির নিচে থাকলে তখন শীতের অনুভূতি বাড়তে থাকে। কিন্তু পার্থক্য যদি পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসে তবে শীতের অনুভূতি প্রকট থেকে প্রকটতর হয়। অর্থাৎ হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হয়।’ তিনি বলছেন, ‘দিনে যে সূর্যের আলো মাটিতে পড়ে সেটি আবার রাতে ওপরের দিকে উঠে গিয়ে শীতের তীব্রতা কমায়। কিন্তু ঘন ও দীর্ঘ সময় ধরে কুয়াশা পড়তে থাকলে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। কারণ এতে তাপমাত্রা মাঝখানে আটকে পড়ে। তখন শীতের তীব্রতা কমে না, বরং বেড়ে যায়।’ 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, তাপমাত্রা ৮.১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬.১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ আর ৪.১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়। আর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে হয় অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। 

শীতে জবুথবু জনজীবন

শীতের তীব্রতায় জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। অর্থনৈতিক কার্যক্রম মন্থর হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে কাজে বের হতে পারছেন না শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশাচালক ও ভাসমান ছিন্নমূল মানুষ। তাদের সংসারে হাহাকার বাড়ছে। ফুটপাত ও খোলা জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তাদের অনেকে। বিভিন্ন দোকান ও শপিং মলে কেনাবেচা কমলেও কাপড়ের দোকানগুলোতে গরম কাপড়ের বিক্রি বেড়েছে। 

নওগাঁ সদর উপজেলার দোগাছি গ্রামের রিকশাচালক চান মিয়া বলেন, ‘৫ দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। আজ (বুধবার) শীত আরও বেশি। সকালে রাস্তায় যাত্রীই পাওয়া যাচ্ছে না।’

কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব 

শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে বোরো ধানের বীজতলায়। দীর্ঘ সময় কুয়াশা, রাতে শিশির ঝরা ও দিনের সূর্যের আলো কম থাকায় কোথাও কোথাও এই বীজতলা হলুদ বর্ণ ধারণ করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। 

গাজীপুরের শ্রীপুরে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলার চারা মরে যাচ্ছে। আর কনকনে ঠান্ডায় জীবিত চারা হলদে হয়ে যাচ্ছে। ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। বোরো বীজতলা নষ্ট হওয়ায় সময়মতো ধানের চারা জমিতে রোপণ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অনেক কৃষক। বীজতলা এভাবে নষ্ট হয়ে গেলে বোরো ধান চাষের খরচ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

শ্রীপুর পৌরসভা এবং উপজেলার গোসিংগা, শৈলাট গাজীপুর, কাওরাইদ, প্রহলাদপুর এবং রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ঘুরে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে কৃষকরা তাদের বোরো ধানের বীজতলার চারা রোপণ শেষ করেছেন। কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে (পাতা পচা রোগ) আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের বোরো বীজতলা। বালাইনাশক ছিটিয়েও পচন রোধ করা যাচ্ছে না।

রাজাবাড়ী ইউনিয়নের কুড়লপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রউফ জানান, তিনি এবার তিন কাঠা জমিতে বোরো বীজতলা করেছেন। এক সপ্তাহ যাবত কনকনে ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশায় বোরো বীজের চারা গাছের পাতা হলদে রঙ ধারণ করে পচে যাচ্ছে। বালাইনাশক ছিটিয়ে কাজ হচ্ছে না। ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাদের মতো কৃষকরা।

কী বলছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. মো. খালেকুজ্জামান বলেন, ‘এ সময় ধানের চারা না রোপণ করাই ভালো। কারণ অত্যধিক কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে ধানগাছের বৃদ্ধি কমে যাবে। তা ছাড়া ঠান্ডায় চারা মারা যাওয়া শুরু হবে। রোগবালাই বাড়তে থাকবে। চারা মাটি থেকে যে খাবার সংগ্রহ করে তা পারবে না। আবার সূর্যের আলো থেকে শস্যের সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাবার গ্রহণপ্রক্রিয়াও ব্যাহত হবে। এতে করে চারার সবল না হয়ে দুর্বল হয়ে যাবে। এসব চারা রোপণ করলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

ব্রির অ্যাগ্রোমেট ল্যাবের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিয়াজ মো. ফারহাত রহমান বলেন, ‘এই সময় চারার বৃদ্ধি ধীর হয়ে যায় এবং চারা পোড়া রোগ ও থ্রিপস পোকার আক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়। ঠান্ডাজনিত ক্ষতি কমাতে বীজতলায় ৩-৫ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখতে হবে। পাশাপাশি সুষম মাত্রায় জৈব সার ও ইউরিয়া প্রয়োগ করলে চারার স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও শিকড়ের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত শীত ও কুয়াশাজনিত কারণে কৃষি ফসলের ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য আমাদের কাছে আসেনি। অর্থাৎ এই পর্যন্ত কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে কুয়াশা ও সূর্যের আলো যদি আরও দীর্ঘদিন এ অবস্থায় থাকে, তাহলে অবশ্যই ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’

নোয়াখালীতে সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন রোগে ৫৭ শিশুর মৃত্যু

তীব্র শীতে সারা দেশে ঠান্ডাজনিত রোগবালাই বেড়েছে। বিশেষ করে হালকা জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, শরীর ম্যাজ ম্যাজ করা, দুর্বল লাগা ও ক্ষুধামন্দাসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নোয়াখালীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত শিশুরোগ ও মৃতের সংখ্যা। হাসপাতাল সূত্র জানাচ্ছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরÑ এই তিন মাসে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ঠান্ডা-কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৫৭ শিশু। এর মধ্যে অক্টোবরে ২৩, নভেম্বরে ১৬ এবং ডিসেম্বরে ১৮ জন শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। এখনও প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। শয্যা ও জনবল সংকট এবং অতিরিক্ত রোগীর চাপে চরম ভোগান্তি ঘটছে। 

সরেজমিন হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে কথা হলো আড়াই বছর বয়সি শিশু মো. মামুনের মা সুফিয়া আক্তারের সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘আমার ছেলের জন্ম থেকেই ঠান্ডাজনিত সমস্যা। গত এক মাসে দুবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।’ 

শিশু বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. ইয়াকুব আলী মুন্সি বলেন, ‘শীত শুরু হওয়ার পর থেকেই শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে শীতকালে শিশুদের গরম কাপড় পরানো ও ঠান্ডা বাতাস থেকে দূরে রাখা দরকার। অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে আনা খুব জরুরি।’

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘নোয়াখালী একটি জেলা হাসপাতাল হওয়ায় শুধু এ জেলার নয়, আশপাশের একাধিক জেলার রোগীরাও এখানে চিকিৎসা নিতে আসে। তাই রোগীদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’ 

শীতে তাজা, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘শীতে ভিটামিন ডি-এর স্বল্পতা দেখা দিতে পারে। কেননা শীতের কারণে অনেকেই একেবারেই রোদে বের হন না। তাই এ সময় ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার যেমনÑ দুধ, ডিম, মাশরুম, কলিজা, টুনা, ম্যাকরেল, স্যালমন মাছ খাওয়া উচিত।

মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁয়

উত্তরের জেলা নওগাঁয় জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। গতকাল বুধবার জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেখানে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। স্থানীয় বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জানিয়েছে, এটি চলতি মৌসুমের এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

শীতে কাবু চুয়াডাঙ্গা, তাপমাত্রা নামল ৬ ডিগ্রিতে

চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ। গতকাল বুধবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। চলতি শীত মৌসুমে এটিই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। কয়েক দিন ধরেই চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও চায়ের দোকানের সামনে জড়ো হয়ে আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে নিম্ন আয়ের মানুষদের। 

কৃষক ও দিনমজুরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাত-পা অবশ হয়ে এলেও জীবিকার তাগিদে তারা কাজ করতে বের হন। তবে বেশিরভাগ দিনই এখন কাজও মিলছে না।

এদিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপ বেড়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ার মতো রোগের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমেছে। সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিনুর রহমান বলেন, ‘আগামী ১১ অথবা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত এ জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।’

(প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন নওগাঁ, চুয়াডাঙ্গা, নোয়াখালী ও গাজীপুর প্রতিবেদক।)

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা