ইউএনবি
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:২৯ পিএম
নাজমুন নাহার। ছবি: ইউএনবি
প্রথম বাংলাদেশি ও মুসলিম নারী হিসেবে বিশ্বের ১৮৪টি দেশ ভ্রমণ করে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন নাজমুন নাহার। সম্প্রতি দ্বীপরাষ্ট্র বাহামা সফরের মাধ্যমে তিনি এই অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেন। তার এই গৌরবময় সাফল্যে বাহামার ফার্স্ট লেডি প্যাট্রিসিয়া মিনিস তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
নাজমুন নাহার তার বিশ্ব ভ্রমণের ধারাবাহিকতায় গত বছরের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ওশেনিয়া অঞ্চলের সামোয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিমুর-লেস্তে, ক্যারিবীয় অঞ্চলের অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস এবং দক্ষিণ আমেরিকার ভেনিজুয়েলা সফর করেন। সর্বশেষ ডিসেম্বর ২০২৫-এ বাহামা পৌঁছানোর মাধ্যমে তিনি ১৮৪তম দেশ ভ্রমণের ইতিহাস সম্পন্ন করেন।
২০০০ সালে ভারতের একটি আন্তর্জাতিক অভিযাত্রা কর্মসূচির মাধ্যমে নাজমুন তার বিশ্ব জয়ের যাত্রা শুরু করেছিলেন। মূলত একক পর্যটক হিসেবে তিনি অধিকাংশ দেশ সড়কপথে ভ্রমণ করেছেন। এই দীর্ঘ যাত্রায় তাকে বহুবার প্রাণঘাতী ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিশেষ করে ভেনিজুয়েলা সফরের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “এটি আমার জীবনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর ভ্রমণ ছিল। সাইমন বলিভার আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার হয়ে আমি ১৭টি শহর পরিদর্শন করেছি। এর মধ্যে আন্দিজ পর্বত, সবুজ উপত্যকা, নির্মল সমুদ্র, মরুভূমি এবং স্থানীয় মানুষের উষ্ণতা ভেনেজুয়েলাকে একটি অনন্য সৌন্দর্যের সংমিশ্রণ হিসেবে গড়ে তুলেছে। সামোয়া থেকে বাহামাস পর্যন্ত প্রতিটি দেশ আমাকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে, তবে পাশাপাশি এর অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাকে বিস্মিত করেছে।
নাজমুন নাহারের এই অর্জন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেরও নজর কেড়েছে। ভেনিজুয়েলার ‘লা নাসিওন’, ক্যারিবিয়ান ‘ডব্লিউআইসি নিউজ’, তিমুর-লেস্তের ‘সুয়ারা তিমুর লোরোসা’য়ে’ এবং পর্তুগালের ‘লুসা’সহ বিভিন্ন বৈশ্বিক গণমাধ্যম ও ম্যাগাজিনে তার এই সাফল্যের খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে।
কেবল ভ্রমণই নয়, নাজমুন নাহার তার প্রতিটি যাত্রায় বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে তুলে ধরছেন। ভ্রমণের পাশাপাশি তিনি বিশ্বজুড়ে শান্তি রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বাল্যবিবাহ বন্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা প্রচার করে চলেছেন। বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা হাতে তিনি বিশ্বের নানা প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছেন সাহসের জয়গান।
এর আগে ২০১৮ সালের জুনে জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে ভ্রমণের মাধ্যমে তিনি শততম দেশ ভ্রমণ পূর্ণ করেন। তার আগে ২০২১ সালের অক্টোবরে সাওটোমে ১৫০তম দেশ এবং ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর ১৭৫তম দেশ হিসেবে প্রিন্সিপে ভ্রমণ করেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাহামাতে পৌঁছে ১৮৪তম দেশ হিসেবে ইতিহাস রচনা করেন এই পরিব্রাজক।
নাজমুন যুক্তরাষ্ট্রে পিস টর্চ বেয়ারার অ্যাওয়ার্ড, যুক্তরাজ্যের ওমেন এমপাওয়ারমেন্ট অ্যাওয়ার্ডসহ ৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন।
তিনি বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন শেষ করে তিনি সুইডেনের লুন্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ‘এশিয়ান স্টাডিজ’ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তে ‘হিউমান রাইটস অ্যান্ড এশিয়া’ বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
নাজমুন গবেষক, মোটিভেশনাল বক্তা ও বিভিন্ন সংস্থার শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করেন। বিশ্বজুড়ে শিশু ও যুবকদের সীমাবদ্ধতার বাইরে গিয়ে স্বপ্ন দেখাতে উদ্বুদ্ধ করেন তিনি।
বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে ভ্রমণের মাধ্যমে নাজমুন নাহার আন্তর্জাতিক অঙ্গণে দেশের পরিচিতি বাড়িয়েছেন। সেইসঙ্গে আগামী প্রজন্মের জন্য সাহস, অধ্যবসায় ও প্রেরণার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।