সাইফুল ইসলাম, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৯ এএম
আজ শনিবার ৩ জানুয়ারি। পর্দা উঠবে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার। এটি এবার ৩০তম আসর। ১ জানুয়ারি মেলা উদ্বোধনের কথা থাকলেও বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এ কারণে মেলা উদ্বোধনের সময় দুই দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়। আজ শনিবার সকাল ১০টায় মেলা উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ইউনূস। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সচিব তরফদার সোহেল রহমান।
এবারের মেলায় ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়াসহ ১১টি বিদেশি প্যাভিলিয়নসহ মোট ৩২৪টি স্টলে দেশ-বিদেশের ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্যসামগ্রী প্রদর্শন ও বেচা-কেনা করবেন। এই মেলায় পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে মেলা কর্তৃপক্ষ। মেলার টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের ২৫ টাকা। তবে মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধীগণ ও জুলাই আহতরা তাদের কার্ড প্রদর্শনপূর্বক বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। সরেজমিন দেখা যায়, সাজসজ্জার কাজ প্রায় শেষ। স্টলে স্টলে পণ্য সাজানো হচ্ছে।
দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন ও উৎপাদনে সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল হতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন হয়ে আসছে।
ইপিবি জানিয়েছেন, সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুর বাগান/খামার বাড়ি), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী হতে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বাণিজ্য মেলার উদ্দেশে বিআরটিসির ২০০টির বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস চলবে। পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে কনসেশনাল রেটে ‘পাঠাও’ সার্ভিস। এবারের মেলায় ই-টিকেটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই বাণিজ্য মেলায় ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদের স্মরণে স্থিরচিত্র প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ স্কয়ার নির্মাণ করা হয়েছে।
বিদেশি উদ্যোক্তা/প্রতিষ্ঠানের জন্য থাকছে ইলেকট্রনিক্স ও ফার্নিচার জোন। সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য তৈরি করা হয়েছে সিটিং কর্নার। শিশুদের চিত্তবিনোদনের জন্য মেলায় থাকছে ২টি শিশুপার্ক। পণ্য প্রসার ও বিপণনের জন্য থাকছে উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। মহিলা, প্রতিবন্ধী, কুটির/তাঁত/বস্ত্র/হস্তশিল্পের উদ্যোক্তাদের সংরক্ষিত স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রবেশ গেট, পার্কিং এরিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সকল এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া মেলার প্রবেশ গেটে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইভাবে যেকোনো ধরনের অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে ফায়ার ব্রিগেড।
এবারের মেলায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি অধিকতর গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়েছে। এক্সিবিশন হলে পর্যাপ্ত সংখ্যক বৃষ ও মহিলা পৃথক টয়লেটের পাশাপাশি হলের বাইরেও পর্যাপ্ত সংখ্যক টয়লেট রয়েছে।
খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ গঠিত টিম মেলা চলাকালীন প্রত্যহ ভেজালবিরোধী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে। মেলায় ৫টি প্রতিষ্ঠানকে প্রিমিয়ার রেস্টুরেন্ট/প্রিমিয়ার মিনি রেস্টুরেন্ট/কফি শপ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মেলায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও পেশেন্ট কেয়ার অ্যাটেনডেন্ট উপস্থিত থেকে ফ্রি প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান করবে। থাকছে পর্যাপ্ত কার পার্কিং সুবিধা। ৫ শতাধিক গাড়ি পার্কিং সুবিধাসংবলিত দ্বিতল কার পার্কিং বিল্ডিং ছাড়াও এক্সিবিশন হলের বাইরে ৬ একর জমিতে এবং রাজউকের গরুর হাটের মাঠসহ ৩টি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য মেলায় স্থাপন করা হয়েছে একটি অস্থায়ী সচিবালয় ও দর্শনার্থীদের সকল প্রকার তথ্য প্রদানের জন্য একটি তথ্যকেন্দ্র।
ব্যাংকিং সার্ভিসের জন্য থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক এটিএম বুথ। মা মেলায় রাখা হয়েছে মা ও শিশুকেন্দ্র। এছাড়া অন্যান্য সেবার মধ্যে রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্র, মসজিদ, দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য আরামদায়ক ও শোভন চেয়ার/বেঞ্চ, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য সিটিং কর্নার ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের (গ-সার্কেল) সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে ৯০০ পুলিশ সদস্য। সঙ্গে থাকবে সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্য। গতবারের মতো এবারও শান্তিপূর্ণভাবে মেলা অনুষ্ঠিত হবে বলে সহকারী পুলিশ সুপার আশা করছেন। ‘আমরা মেলা প্রাঙ্গণ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিয়েছি। চারটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করেছি, সেখান থেকে মনিটরিং করা হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকবেন। কোনো প্রকার ঝামেলা হলে জেল-জরিমানা করা হবে’ বলেন সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম।