বাসস
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:১২ পিএম
বাংলা একাডেমি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া। ছবি: বাসস
বাংলা একাডেমি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রথিতযশা ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই।
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
সুকুমার বড়ুয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তার মেয়ে অঞ্জনা বড়ুয়া জানান, ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ায় গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই গুণী সাহিত্যিক। ২০০৬ সালে ব্রেইন স্ট্রোকের পর তার ডান পা অবশ হয়ে যায়। এরপর থেকেই হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুকুমার বড়ুয়া। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয় এবং ১৯৯৯ সালে স্টোর কিপার হিসেবে তিনি অবসরে যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তোপখানা রোডের একটি ভাড়া বাসায় তার সৃজনশীল লেখালেখির যাত্রা শুরু হয়েছিল।
প্রায় ৬০ বছর ধরে ছড়া লিখে সুকুমার বড়ুয়া ‘ছড়ারাজ’, ‘ছড়াশিল্পী’, ‘ছড়াসম্রাট’ প্রভৃতি নানা অভিধায় অভিষিক্ত হয়েছেন। ব্যঙ্গাত্মক, হাস্যরসাত্মক, নৈতিক শিক্ষামূলক রচনার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর রাজনৈতিক বার্তাও তার লেখায় উঠে এসেছে। ‘পাগলা ঘোড়া’, ‘ভিজে বেড়াল’, ‘চন্দনা রঞ্জনার ছড়া’, ‘এলোপাতাড়ি’, ‘নানা রঙের দিন’, ‘চিচিং ফাঁক’, ‘কিছু না কিছু’, ‘প্রিয় ছড়া শতক’, ‘নদীর খেলা’, ‘ছোটদের হাট’, ‘মজার পড়া ১০০ ছড়া’, ‘যুক্তবর্ণ‘, ‘চন্দনার পাঠশালা’, ‘জীবনের ভেতরে বাইরে’ তার উল্লেখযোগ্য ছড়ার বই।
ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য সরকার ২০১৭ সালে সুকুমার বড়ুয়াকে একুশে পদকে ভূষিত করে।
এ ছাড়া বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সম্মাননা, অবসর সাহিত্য পুরস্কার, আনন ফাউন্ডেশন আজীবন সম্মাননা, চন্দ্রাবতী শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন তিনি।
সুকুমার বড়ুয়ার প্রয়াণে দেশের সাহিত্যাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে।