প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:১৬ পিএম
আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:৩১ পিএম
বেগম খালেদা জিয়ার দাফনের পর কবরের ওপরে মাটি ছিটিয়ে দেন তার বড় ছেলে তারেক রহমান। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল
স্বামী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
ঢাকার শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
দাফনের পর কবরের উপরে মাটি ছিটিয়ে দেন বড় ছেলে তারেক রহমান। একে একে পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান ও শামিলা রহমান, নাতি জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানও কবরে মাটি ছিটিয়ে দেন।
এরপর সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান ও নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসানও কবরে মাটি দেন। দাফন কাজে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য অংশ নেন।
এর আগে দুপুর ৩টায় ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। এতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, বিদেশি কূটনীতিক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মানুষ জানাজায় শরিক হন।
সকাল থেকেই প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে মানুষের ঢল নামে। মানিক মিয়া এভিনিউ ছাড়িয়ে এই জনস্রোত আসাদগেট, ফার্মগেট, খামারবাড়ি ও কারওয়ান বাজার এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে এক বিশাল জনসমুদ্রে রূপ নেয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির এক বর্ণিল ও দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটল।
জানাজা শুরুর আগে বেগম জিয়ার স্মৃতিচারণ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আসা ছিল আকস্মিক। কিন্তু দেশের প্রয়োজনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অপরিহার্য।
মায়ের পক্ষে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা ও দোয়া চেয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান। আজকে এখানে যারা উপস্থিত রয়েছেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকা অবস্থায় যদি আপনাদের কারও কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন দয়া করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, আমি সেটি পরিশোধের ব্যবস্থা করব ইনশাআল্লাহ।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘একইসঙ্গে উনি জীবিত থাকা অবস্থায় উনার কোনো ব্যবহারে, উনার কোনো কথায় কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন আমি উনার পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থী। দোয়া করবেন আল্লাহ যেন উনাকে বেহেস্ত নসিব করেন।’
গত মঙ্গলবার ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আপসহীন সংগ্রামের জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে ‘দেশনেত্রী’ হিসেবে সমাদৃত ছিলেন।