প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:০৯ পিএম
আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:০৮ পিএম
ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: পিআইডি
ইন্টারনেট সেবাকে মৌলিক অধিকারের সমপর্যায়ভুক্ত করতে এবং এর নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
সেখানে আলোচিত ন্যাশনাল
টেলিকমিউনিকেশন্স মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) বিলুপ্ত করে আড়িপাতার ক্ষেত্রে সেন্টার
ফর ইনফরমেশন সাপোর্ট (সিআইএস) নামে নতুন একটি সংস্থা গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সেই সংস্থা
আধা বিচারিক কাউন্সিলের অনুমোদন নিয়ে আড়িপাতার কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
অন্তর্বর্তীকালীন
সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকের পর বুধবার প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়েছে।
বৈঠকের সার্বিক বিষয়
তুলে ধরতে বুধবার বিকালে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টার
প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, উপদেষ্টা
পরিষদের ৫২তম বৈঠকে পাস হওয়া সংশোধিত অধ্যাদেশের খসড়ায় টেলিযোগাযোগ সেবার মানোন্নয়ন,
নিয়ন্ত্রক সংস্থার জবাবদিহিতা এবং রাষ্ট্রীয় নজরদারি কাঠামোতে গঠনমূলক পরিবর্তন আনা
হয়েছে।
সংশোধিত আইনে স্পষ্টভাবে
বলা হয়েছে, ইন্টারনেট বা টেলিযোগাযোগ সেবা কখনোই বন্ধ করা যাবে না (ধারা ৯৭)। নাগরিকদের
যোগাযোগ অধিকার সুরক্ষায় এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০১০ সালের বিতর্কিত
সংশোধন কাঠামো থেকে সরে এসে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) স্বাধীনতা
ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্গঠন
করা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু লাইসেন্সে মন্ত্রণালয় স্বাধীন সমীক্ষার
ভিত্তিতে অনুমোদন দেবে, তবে অন্যান্য সব লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষমতা বিটিআরসির হাতে ফিরিয়ে
দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে একটি ‘জবাবদিহিতা কমিটি’
গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
লাইসেন্স প্রক্রিয়ায়
সময় কমানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত উচ্চ ও পুনরাবৃত্ত জরিমানা কমানো হয়েছে। এতে টেলিযোগাযোগ
খাত আরও বিনিয়োগবান্ধব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিটিআরসিকে এখন থেকে
প্রতি চার মাস অন্তর গণশুনানি করতে হবে এবং এর অগ্রগতি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।
স্বার্থের সংঘাত রোধেও আইনে আলাদা বিধান রাখা হয়েছে (ধারা ৮৭)।
নাগরিকের গোপনীয়তা
সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে বলা হয়েছে, সিম ও ডিভাইস রেজিস্ট্রেশনের তথ্য ব্যবহার
করে কোনো নাগরিককে নজরদারি বা হয়রানি করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে (ধারা
৭১)।
এছাড়া ‘স্পিচ অফেন্স’
সংক্রান্ত ধারা সংশোধন করে কেবল সহিংসতার আহ্বানকেই অপরাধের আওতায় রাখা হয়েছে, যা সাইবার
সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ (ধারা ৬৬ক)।
টেলিযোগাযোগ সেবায়
আপিল ও সালিশের সুযোগ রাখা হয়েছে (ধারা ৮২খ)। পাশাপাশি ‘সেন্টার ফর ইনফরমেশন সাপোর্ট
(সিআইএস)’ প্রতিষ্ঠার বিধান যুক্ত করা হয়েছে (ধারা ১৭ক)। এর মাধ্যমে আগের ন্যাশনাল
টেলিকমিউনিকেশন্স মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) বিলুপ্ত করা হয়েছে।
আইনানুগ ইন্টারসেপশনের
সংজ্ঞা ও সীমা এবার স্পষ্ট করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, জরুরি প্রাণরক্ষা
বা বিচারিক প্রয়োজনে নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে কেবল অনুমোদিত সংস্থাগুলো নিজ নিজ
অধিক্ষেত্রে ইন্টারসেপশন করতে পারবে। সিআইএস নিজে কোনও ইন্টারসেপশন পরিচালনা করবে না;
এটি শুধু কারিগরি ও তদারকি সহায়তা দেবে (ধারা ৯৭ক)।
নজরদারিতে অপব্যবহার
ঠেকাতে আধা-বিচারিক কাউন্সিল ও সংসদীয় তদারকির বিধান রাখা হয়েছে। বেআইনি ইন্টারসেপশনের
বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকবে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি প্রতি বছর ইন্টারসেপশন সংক্রান্ত
একটি জাতীয় প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
নতুন আইনে ইমেজ ও
ভয়েস প্রোটেকশন, সিম ডেটা ও ডিভাইস ডেটা সুরক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে,
এই সংশোধনের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ খাতকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও জাতিসংঘ ও আইটিইউসহ বৈশ্বিক
উত্তম অনুশীলনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে।