প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৪২ পিএম
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর বুধবার বিকালে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। ছবি: প্রেস উইংয়ের ফেসবুক পেইজ থেকে স্ক্রিনশট নেওয়া
উপদেষ্টা পরিষদে পরিবর্তন নিয়ে যে আলাপ সোশাল মিডিয়ায় চলছে, তেমন কোনো আলোচনা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী পদে রদবদল হতে পারে এমন খবর সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে নতুন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে এমন খবরও ছড়িয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকের পর সার্বিক বিষয় তুলে ধরতে বুধবার বিকালে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
সেখানে জানতে চাওয়া হয়- উপদেষ্টা পরিষদে পরিবর্তন হচ্ছে কি না। তখন প্রেস সচিব বলেন, “এ বিষয়টি আমার জানা নেই। আর এই বিষয়ে কোনো আলোচনাও হয়নি।”
রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না — সে বিষয়ে পাঁচ মার্কিন আইনপ্রণেতার চিঠি দেওয়া প্রসঙ্গ থোলেন প্রশ্নকারী সংবাদিক।
তখন প্রেসসচিব জানান, তিনি চিঠিটি দেখেননি। এ বিষয়ে তিনি জানেন না। কিন্তু আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। যেহেতু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বাদ দিয়েছে, সেহেতু আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের এদিনের বৈঠকে ইন্টারনেট সেবাকে মৌলিক অধিকারের সমপর্যায়ভুক্ত করতে এবং এর নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রেস সচিব।
প্রেস সচিব জানান, সংশোধিত এই আইনটি অত্যন্ত আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কারণে যেন ‘এক মিনিটের জন্যও ইন্টারনেট বন্ধ না হয়’ তা নিশ্চিত করা। এ ছাড়া গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
আইন সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ক্ষমতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, বিটিআরসির সার্বিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কমিটি’ শীর্ষক একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ডিজিটাল অবকাঠামো সুরক্ষা প্রতারণা এবং অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট বিধান ও সংযোজন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অধ্যাদেশে সিআইএস (সেন্টার ফর ইনফরমেশন সাপোর্ট) নামে একটি কারিগরি প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। অধ্যাদেশে আইন উপদেষ্টাকে প্রধান করে একটি কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার স্বার্থে আইনানুগ ইন্টারসেপশন সংক্রান্ত অনুবাদন প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট কার্যাবলি সম্প্রদান করবে।