× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

টার্গেট কিলিংয়ের শঙ্কা দেশজুড়ে

কবির হোসেন

প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৯:৩৩ এএম

টার্গেট কিলিংয়ের শঙ্কা দেশজুড়ে

দেশজুড়ে টার্গেট কিলিংয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি নেতারাসহ ব্যবসায়ী, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশাজীবীর মানুষ। হুমকিতে আছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। কিছু ঘটনায় এরই মধ্যে দেশজুড়ে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি সন্ত্রসীদের হাতে শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর পর খুলনায় মোতালেব শিকদারের গুলির ঘটনায় এই শঙ্কা আরও বেড়ে গেছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট বানচাল করতেই এই হামলার মূল উদ্দেশ্য। এমনকি গ্রামাঞ্চলে নিষিদ্ধ চরমপন্থী সংগঠনের বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপও গোপনে সক্রিয় হচ্ছে বলে এক গোয়েন্দা প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে। 

ইতোমধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান (রাহুল) ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার অধিক অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলেও জানানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনই ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি সুপারিশ করা হয়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে পেশাদার অপরাধীদের তালিকা করে এখনই তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। এ ছাড়া জামিনের ক্ষেত্রেও আরও যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। কারণ গ্রেপ্তারের পর ১ মাসের মধ্যেই জামিনে মুক্তি পাচ্ছে অপরাধারীরা। আর এই সুযোগে এসব অপরাধীর মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কাছে টানছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে গ্রেপ্তারকৃত অনেকেই পেশাদার অপরাধী। তারা টাকার বিনিময়ে মিছিলে এসেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে অপরাধের মামলা হয়েছে ১৪ হাজার ৫৭২টি ও ফেব্রুয়ারিতে ১৩ হাজার ২টি। মার্চে ১৬ হাজার ২৪০টি। এপ্রিলে ১৬ হাজার ৩৬৮টি। মে মাসে ১৬ হাজার ৪৫টি। জুন মাসে ১৫ হাজার ১৬৭টি। জুলাই মাসে ১৫ হাজার ৩৮৯টি। আগস্টে ১৫ হাজার ৬৫৬টি। সেপ্টেম্বরে ১৫ হাজার ৪৩১টি। অক্টোবরে ১৬ হাজার ১৭০টি ও নভেম্বরে ১৪ হাজার ৪৬৫টি। ১১ মাসে বিভিন্ন অপরাধে শুধু ঢাকায় মামলা হয়েছে ১৭ হাজার ৫০২টি। এই ১১ মাসে সারা দেশে খুনের ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ৫০৯টি। 

জানা গেছে, সব থেকে বেশি খুনের ঘটনা ঘটছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা রেঞ্জ ও চট্টগ্রাম রেঞ্জে। এর মধ্যে অনেক ঘটনার এখনও রহস্যভেদ করা সম্ভব হয়নি। অন্তত ৫৭টি গুপ্ত হামলা চালিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া গত কয়েক মাসে রাজধানীসহ সারা দেশে অন্তত ৭৪৬টি ঝটিকা মিছিল করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। কয়েকটি মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার আগেই দেশকে অস্থিতিশীল করা চেষ্টা করবে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় থাকা পুলিশ সদস্যদের মনবল ভেঙে দেওয়ার জন্য তাদের ওপরও হামলার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এসবের পেছনে রয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক ও বাহাউদ্দিন নাছিম। তারা পাশের একটি দেশে বসে পরিকল্পনার পর তা বাস্তবায়নের জন্য দ্বিতীয় সারির নেতাদের দায়িত্ব দিচ্ছেন। আর এ কাজের জন্য হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো হচ্ছে দেশে অবস্থানকারী নেতাদের কাছে। পরবর্তীতে তা মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে ওই অর্থ পাঠানো হচ্ছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নিষিদ্ধ চরমপন্থী সংগঠনের নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকা নেতাকর্মীদের কাছেও।

গোয়েন্দা ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ন্যূনতম ছাড় না দেওয়ার মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন তারা। বিশেষ করে মব ভায়োলেন্সের (দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা) মতো অপরাধকে একেবারেই ছাড় নয়Ñ এমন বার্তাও রয়েছে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের কাছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চায় পুলিশ।

সূত্রমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বেশ কয়েকবার রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় হামলার পরিকল্পনা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে তা ভেস্তে যায়। এবার তাদের টার্গেট ঢাকা এবং এর আশপাশে বড় ধরনের হামলা চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের উপসাহিত্য-বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তারের পর উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জিজ্ঞাসাবাদে মেহেদী জানায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারি নির্দেশে তিনি ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় পরিচয় গোপন করে মেস ভাড়া নিয়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার নেতাকর্মীদের ঢাকায় জড়ো করেছেন। কার্যক্রম শেষ করে তারা কোথায় যাবে, কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করলে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সে নির্দেশনাও দিয়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, কোনোভাবেই ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হয় এমন কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না। গ্রেপ্তারকৃত কাছ থেকে বেশকিছু তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়াও বিভিন্ন স্থানীয় ঝটিকা মিছিলকারীদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে নিয়মিত অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি এই দুটি ওপর আমরা এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। আর সেই আলোকেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চলছে। বিশেষ করে তালিকা আপডেট করে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। গুপ্ত হামলার বিষয়ে পুলিশের সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে যেন কেউ ফায়দা লুটতে না পারে এজন্য জেলার এসপিদেরও কঠোর বার্তা পাঠানো হয়েছে।

এ ধরনের পরিস্থিতি ঠেকাতে সবার আগে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিজস্ব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে অভিযান পরিচালনা করার পরামর্শ দিয়েছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল‍্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পেছনে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ না হওয়ার অন্যতম কারণ। যারা এসব নাশকতা ও টার্গেট কিলিংয়ে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে, এসব অপরাধীর উৎসাহদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনও পরিপূর্ণভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। দুটি বিষয় এখনও দৃশ্যমান, একটি হলো তাদের নিজেদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দ্বিতীয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নিজেদের সিদ্ধান্তে আইন প্রয়োগ করবে এই সুযোগ এখনও পাচ্ছে না। এই অপরাধ বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা যায় না। আমি মনে করি, অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধী কে বা কারা তার কী পরিচয় এসব কোনো কিছু বিবেচনা না করে দ্রুততার সঙ্গে অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে না পারলে শুধু আলোচনা-পর্যালোচনা চলতে থাকবে সামনে সহিংসতা আরও বাড়বে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা