প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ০২:১৬ এএম
চট্টগ্রাম বন্দরের আশপাশের মাফিয়া চক্র অনেক শক্তিশালী, যারা এখানের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করে রেখেছে বলে জানিয়েছেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
চট্টগ্রাম বোট ক্লাবে সোমবার আয়োজিত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ৪৮তম বার্ষিক সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তৃতায় নৌ পরিবহন উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই বিএসসি অতীতে লাভ করতে পারে নাই। কারণ এখানে প্রচুর মাফিয়া চক্র ছিল। সবখানে যদি মাফিয়া চক্র থাকে, তাহলে কাজ করা অনেক কঠিন। দেশের উন্নয়নের জন্য নতুনদের আসার সুযোগ দিতে হবে। গত ৪০ বছর ধরে একই ব্যক্তিরা চট্টগ্রাম বন্দরে আধিপত্য বিস্তার করে আছে এবং তারা কী করছে তা আপনারা সবাই জানেন। এই মাফিয়া গোষ্ঠী বন্দরের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করে রেখেছে।
উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে কি চাঁদাবাজি হচ্ছে না? চাঁদাবাজি বন্ধ হয়েছে? না বন্ধ হয়নি। তবে পরিমাণটা কমেছে। আগে সবাই মিলে করতো, এখন ব্যক্তি কেন্দ্রীক হচ্ছে। আমি নিজে দাঁড়িয়ে দেখেছি ট্রাক যখন ঢোকে তখন চাঁদা নেয়া হয়। শুধু বাইরের লোকজন ট্রাক থেকে চাঁদা নিচ্ছে এমন না, ভেতরের লোকজনও এটি করছে। এ জন্য আমরা যানবাহন প্রবেশের কার্যক্রমকে অটোমেটেড করছি। টিকিট নিবে ভেতরে ঢুকবে, এরপর বের হওয়ার সময় টাকা দিয়ে বের হয়ে যাবে। কোনো ক্যাশের মধ্যে যায়নি।
অন্তবর্তী সরকারের গত ১৮ মাসে চট্টগ্রামের জন্য ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বব্যাংক বে-টার্মিনাল প্রকল্পে ৬৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। পাশাপাশি বিশ্বের বৃহত্তম শিপিং কোম্পানি 'মার্কস লাইন' একটি টার্মিনাল নির্মাণে প্রায় ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। এছাড়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিপিং কোম্পানি 'এমএসসি শিপিং'-কে পানগাঁও টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ২২ কোটি টাকা লোকসান হওয়া এই (পানগাঁও) টার্মিনালটি এখন সচল হওয়ার মাধ্যমে জলপথে পণ্য পরিবহন বৃদ্ধি এবং চট্টগ্রামে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, বাংলাদেশের সরকারি সংস্থাসমূহের মধ্যে বিএসসি অন্যতম লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাভের ধারা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বিএসসি বাংলাদেশ সরকারের জন্য একটি লাভজনক অংশীদার হিসেবে পরিণত হয়েছে এবং বিএসসি জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছে। এর ফলশ্রুতিতে বিএসসি এসএলএ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারকে ইতোমধ্যে ৫৬৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, যা সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অত্যন্ত বিরল।
সভায় বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বার্ষিক প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেন। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিএসসির পরিচালনা আয় ৫৯০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে আয় ১০৭ কোটি টাকা, মোট আয় হয়েছে ৭৯৮ কোটি টাকা। মোট ব্যয় হয়েছে ৪১৬ কোটি টাকা, যার মধ্যে পরিচালনা ব্যয় ২৮৯ কোটি এবং প্রশাসনিক ও আর্থিক খাতের ব্যয় ১২৬ কোটি টাকা। কর সমন্বয়ের পর নীট মুনাফা হয়েছে ৩০৬ কোটি টাকা, যা সংস্থার ইতিহাসে সর্বোচ্চ।